IQNA

22:40 - February 11, 2019
সংবাদ: 2607923
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আজ ঐতিহাসিক ২২ বাহমান বা ১১ ফেব্রুয়ারি। এ দিনটি ইরানে ইসলামি বিপ্লব বিজয় বার্ষিকী। ৪০ বছর আগে এ দিনটি ছিল বিশ্বের চলমান ইতিহাসের গতিপথ পাল্টে দেয়ার দিন।

পার্সটুডের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা ইকনা'র রিপোর্ট: সারা বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের আশা-ভরসার দিন। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির জন্য মহা আতঙ্কের দিন। উন্নত ও সমৃদ্ধ মুসলিম সভ্যতা বিনির্মাণের সূচনার দিন।

বিপ্লব বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষে ইরানের লক্ষ কোটি মানুষ আজ রাস্তায় নেমে এসে স্ব:তস্ফূর্তভাবে বিজয় র‍্যালিতে অংশ নিয়ে বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ঘোষণা করেছে।

সারা ইরানে আজকের এই বিশাল জনসমাবেশ আধিপত্যকামী শক্তির বিরুদ্ধে ইরানের জনগণের ঐক্য, দৃঢ়তা ও জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।

প্রতি বছরের মতো এবারের ইসলামি বিপ্লব বিজয় বার্ষিকী জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

ইসলামি বিপ্লবের শত্রুরাও ইরানের এ বাস্তবতা ভালোভাবে উপলব্ধি করছে এবং এ কারণে ইসলামি বিপ্লবের ব্যাপারে ইরানের জনগণকে হতাশাগ্রস্ত ও ক্লান্ত প্রমাণ করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আমেরিকা তিনটি উপায়ে ইরানকে মোকাবেলার চেষ্টা করছে।

প্রথমত, অপপ্রচার চালিয়ে ইরানের প্রশাসনকে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে তুলে ধরে ইসলামি সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করা।

দ্বিতীয়ত, ইসলামি সরকার ব্যবস্থাকে অকার্যকর বলে প্রচার চালিয়ে প্রশাসন থেকে জনগণকে দূরে সরিয়ে রাখা।

তৃতীয়ত, কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে ইরানের সরকার ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করা।

ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর গত ৪০ বছরের ইতিহাসে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসহ বহু চড়াই উৎরাই পার করতে হয়েছে এবং এখনো বীরদর্পে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

কোনো বাধা বিপত্তিই ইরানের জনগণকে তাদের বিপ্লবী চেতনা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি এ বিপ্লবকে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিরাট অলৌকিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের জনগণ প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন ও বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য ইসলামি বিপ্লব করেছিল। কেবল অর্থনৈতিক বা অন্যান্য কিছু দিক নিয়ে এ বিপ্লবকে মূল্যায়ন করা যাবে না। অনেক বড় দায়িত্ব ও মিশন নিয়ে এমন এক ইসলামি বিপ্লবের সূচনা হয়েছে যা কেবল অব্যাহত প্রতিরোধ ও শত্রুর চাপের কাছ মাথা নত না করার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে পারে।

শত্রুর সব ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে ইরানের জনগণ ধৈর্যের সাথে লক্ষ্যপানে এগিয়ে চলেছে এবং ইসলামি বিপ্লবকে একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।

ইসলামি বিপ্লব বিজয় বার্ষিকীতে আজকের শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে ইরানের জনগণ মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা পুরাই পাল্টে দিয়েছে। কারণ তারা ভেবেছিল অর্থনৈতিক কষ্টে জর্জরিত ইরানের জনগণ শোভাযাত্রায় তেমন অংশ নেবে না।

যাইহোক, ইরানে ইসলামি বিপ্লব পঞ্চম দশকে পদার্পণ করেছে যা ইরানের জনগণের আরেকটি বিজয়ের নয়া অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। iqna

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য: