IQNA

19:34 - July 09, 2019
1
সংবাদ: 2608866
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি বলেছেন, তার দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিকে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না। তিনি সীমান্তবর্তী দেযফুলে সশস্ত্র বাহিনীর অনুষ্ঠান ও ড্রোন ঘাঁটি পরিদর্শনকালে এ কথা বলেছেন।

পার্সটুডের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা ইকনা'র রিপোর্ট: মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি বলেন, শত্রুরা যদি আমাদের দিকে চোখ তুলে তাকায় এবং আমাদের স্বার্থে সামান্যতম আঘাত হানে তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত সময় ও স্থানে এ জবাব দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, "সীমান্তে কিছু ঘটনা ঘটেছে এবং এখনো আমরা এর জবাব দেইনি। এর অর্থ এ নয় যে আমরা চুপচাপ বসে থাকব কিংবা তাদের আগ্রাসনের কোনো জবাব দেব না। বরং উপযুক্ত সময়ে তারা এর জবাব পাবে।"

এদিকে, ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামিও বন্দর আব্বাস নৌ ঘাঁটি পরিদর্শন করে বলেছেন, ব্রিটিশ নৌ বাহিনী কর্তৃক ইরানের তেল ট্যাংকার আটকের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তিনি বলেন, "ইরান সবসময়ই শক্তহাতে জলদস্যুদের মোকাবেলা করে এসেছে এবং ব্রিটিশ নৌবাহিনীর দস্যুপনারও উপযুক্ত জবাব দেবে ইরান।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রতিরক্ষা শক্তির দিক থেকে ইরান আজ অপ্রতিদ্বন্দ্বী। শুধু প্রতিরক্ষা নয় পাল্টা আক্রমণের দিক থেকেও ইরান যথেষ্ট শক্তিশালী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'ব্রুকিংস ইনস্টিটিউট' এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ১৫ রকমের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা কিনা ২০০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার পাল্লার। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত নীতি কৌশল বিষয়ক গবেষক ড. আব্দুর রাসুল দেওসালার ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন, "পেন্টাগন মনে করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের এখন উপযুক্ত সময় নয় কারণ এ মুহূর্তে যুদ্ধের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। এ ছাড়া যুদ্ধের মাধ্যমে আমেরিকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও হাসিল হবে না।"

সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উপকূল থেকে সাগর অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা, অত্যন্ত ক্ষিপ্রগতি সম্পন্ন সামরিক স্পিডবোড এবং অল্প সময়ের মধ্যে সামরিক অভিযান পরিচালনায় সক্ষমতার কারণে শত্রুরা ইরানকে ভয় পায়। মার্কিন নৌ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ড্রোন হামলার সক্ষমতা মার্কিন সেনাদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ।

বিরাজমান হুমকির কারণে ইরান তার প্রতিরক্ষা শক্তিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ইরানের এই সক্ষমতা শত্রুদের হিসাব নিকাশ পাল্টে দিয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানো নিয়ে তারা চরম দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, ইরান কখনোই যুদ্ধ শুরু করেনি। কিন্তু কেউ যদি আগ্রাসন চালানোর ধৃষ্টতা দেখায় তাহলে ইরান কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।   iqna

প্রকাশিত: 1
পর্যালোচনা করা হচ্ছে: 0
প্রকাশযোগ্য নয়: 0
dihprocs
0
0
20
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য: