IQNA

19:12 - July 11, 2019
1
সংবাদ: 2608878
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফরাসি প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ইমানুয়ের বোন'র তেহরান সফরের একই সময়ে ভিয়েনায় আমেরিকার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ'র নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পার্সটুডের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা ইকনা'র রিপোর্ট: ইরান পরমাণু সমঝোতার কিছু কিছু ধারা বাস্তবাবয়ন স্থগিত রাখায় একদিকে ইউরোপ এ চুক্তি টিকিয়ে রাখার জন্য নতুন করে প্রচেষ্টা শুরু করেছে অন্যদিকে তারা পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে আমেরিকার দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধেও কথা বলছে। এ থেকে আন্তর্জাতিক এ চুক্তির ব্যাপারে ইরানের যৌক্তিক অবস্থানের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ইমানুয়ের বোন গতকাল তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি শামখানি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ ও প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। এ সাক্ষাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ফ্রান্সের প্রচেষ্টায় পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী সকল পক্ষ এ সমঝোতাকে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবে বলে তেহরান আশা করছে। তিনি বলেন, অন্য দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে ইরানও নিজের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবে।

এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূতের তেহরান সফরের একই সময়ে অষ্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনকারী আমেরিকার আহ্বানে আইএইএর নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি আবারো ইরানের বিরুদ্ধে পুরানো অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করে দাবি করেছেন, তেহরান পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে চুক্তিতে সইকারী ইউরোপের তিনটি প্রভাবশালী দেশ অর্থাৎ জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের প্রতিনিধিরা পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইএইএকে এই সমস্যা সমাধানের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভিয়েনায় এ সংস্থার নির্বাহী পরিষদের বৈঠক থেকে বোঝা যায়, আমেরিকা যেকোনো উপায়ে এক তরফা লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করছে। ভিয়েনায় এমন সময় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হল যখন আমেরিকা অনেক আগেই পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেছে। অথচ তারা এ চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য ইরানের ওপর সর্বাত্মক চাপ সৃষ্টি করে চলেছে যা দ্বিমুখী অবস্থান। ভিয়েনায় আইএইএর বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধি কাজেম গারিব আবাদি বলেছেন, আমেরিকার আচরণ ও পররাষ্ট্র নীতি দ্বিমুখী এবং পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়েও আমেরিকার পক্ষ থেকে এ ধরণের বৈঠক ডাকার ঘটনা খুবই হাস্যকর।

বাস্তবতা হচ্ছে, পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের কারণে ইউরোপীয়রা ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে যাতে ইরানকে থামিয়ে দেয়া যায় এবং বিরাজমান অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা যায়। ইরান বলেছে, এখন থেকে ইউরোপীয়রা যতটুকু প্রতিশ্রুতি পালন করবে তেহরান ঠিক ততটুকু প্রতিশ্রুতি পালন করবে এবং ইউরোপকে অবশ্যই ইরান বিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা করতে হবে। iqna

প্রকাশিত: 1
পর্যালোচনা করা হচ্ছে: 0
প্রকাশযোগ্য নয়: 0
pxlrbsxl
0
0
20
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য: