IQNA

18:14 - August 18, 2019
সংবাদ: 2609101
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মনের ইচ্ছা ও সাধনা এক কঠিন জিনিস। এটা একেক জনের একেক রকম। একজনের ইচ্ছার সঙ্গে অন্যজনের ইচ্ছা না মেলাটাই স্বাভাবিক। এ কারণেই কিছু মানুষের সাধনাগুলো হয়ে যায় ইতিহাস। ইন্দোনেশিয়ান নারী মারইয়ানির গল্পটা ঠিক এমনই। এটা নিছক কোনো ঘটনা নয়, হয়ে গেছে মানুষের ইচ্ছাপূরণের এক মহাগল্প। ইন্দোনেশিয়ান নারী মারইয়ানি, ২৬ বছরের জমানো টাকায় হজ পালন করেছেন।

বার্তা সংস্থা ইকনা'র রিপোর্ট: ইন্দোনেশিয়ার নারী মারইয়ানি। বয়স ৬৪। তিনি সংসারের প্রয়োজন মিটিয়ে টানা ২৬ বছর ধরে আবর্জনা সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে টাকা জমাচ্ছিলেন। চলতি বছর ওই টাকা দিয়ে তিনি হজপালন করেছেন। তার একটি স্বপ্নপূরণ হয়েছে। যা তিনি মনে লালন করছিলেন প্রায় তিন দশক ধরে।
মারইয়ানি এমন অদম্য সাধনার কথা নিয়ে আরব নিউজ একট প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে তার সংগ্রাম ও জীবনযুদ্ধের কথা উঠে এসেছে। সেখানে মারইয়ানি বলেছেন, আমি সবসময় হজের উদ্দেশ্যে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার আর্থিক সঙ্গতি নেই, তাই মুখ ফুটে কাউকে ইচ্ছার কথাটা বলিনি। আমার স্বামীরও আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো ছিলো না। কিন্তু মনের ভেতরে ইচ্ছাটা প্রবলভাবে নাড়া দিতে থাকে।

আশির দশকে আমার স্বামী মারা যান। আমি তখন চার সন্তানের জননী। বড় মেয়ের বয়স ১৩। এবার আপনারা অনুধাবন করুন, কেমন কঠিন সময়টা আমি পার করেছি। সংসারের হাল ধরতে হয়েছে আমাকে। কিন্তু হজপালনের ইচ্ছাটা মনে লালন করেছি তখনও।

সংসার চালানোর জন্য নিয়মিত কাজ, সন্তানদের দেখাশোনা, পড়ালেখা সবই দেখতে হয় আমাকে। এতসব কাজের মাঝে আমার মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে হজপালনের বিষয়টি। তাই আমি অতিরিক্ত উপার্জনের জন্য জাঙ্ক বা আবজর্না সংগ্রহ শুরু করি। আর সেই আবর্জনা বিক্রির টাকা সঞ্চয় করতে থাকি হজপালনের জন্য।

মারইয়ানি এভাবে দ্বিতীয়বার ব্যবহারযোগ্য আইটেম যেমন প্লাস্টিকের কাপ, বোতল এবং এ জাতীয় নানা জিনিস সংগ্রহ করে বিক্রি করতে থাকেন। এভাবে দীর্ঘ ১৯ বছরে (২০১২ সাল) তিনি ২৫ মিলিয়ন রুপিয়া (১৭৫০) সঞ্চয় করতে সক্ষম হন। ওই সময় ইন্দোনেশিয়ায় হজের নিবন্ধনের জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হতো এটা তার থেকে কিছু বেশি। ফলে আমি হজের নিবন্ধন করে ফেলি সাহস করে। কিন্তু তখনও আমার পরিবারের কাউকে জানতে দেইনি আমার ইচ্ছার বিষয়ে।

এভাবে দুই বছর যাওয়ার পর আমি সন্তানদের কাছে আমার ইচ্ছার কথাটা বলি। তার খুব খুশি হয় এবং হজের বাকী টাকা জোগাড় করতে সহযোগিতা শুরু করে। এই সময়টাতে তারা কাপড় কেনা কিংবা খুব ভালো কিছু খাওয়ার জন্য কখনও বায়না ধরতো না।

মারইয়ানির বড় মেয়ে মুলিয়ানা একটি পার্কিংয়ের পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। তিনি বলেন, আমি জানতাম না যে তিনি হজযাত্রার জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। যখন জানতে পারলাম, তখন থেকে আম্মাকে আমরা সাধ্যমতো সহযোগিতা করতে চেষ্টা করি।

মারইয়ানি বলেন, ২৬ বছর খুব দীর্ঘ সময়। তবে আমি হাল ছাড়িনি এবং হজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ নিয়ে কখনও চিন্তিত হইনি, হাল ছাড়িনি; ক্লান্তবোধ করিনি। এমটি নিউজ

 

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য: