IQNA

হাজিদের অভ্যর্থনা জানানোর গুরুত্ব

0:07 - July 17, 2023
সংবাদ: 3474063
হজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম। হজ পালনকারীরা আল্লাহর মেহমান। হজে মাবরুরের প্রতিদান হলো একমাত্র জান্নাত। হজ পালনকারী গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যান।

এ জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে তার মর্যাদা বেড়ে যায়। তিনি অনেক কষ্ট করে শারীরিক ও আর্থিক এই ইবাদত সম্পাদন করেছেন। হজ-পরবর্তী করণীয় ও দিকনির্দেশনা দিয়ে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর যখন তোমরা (হজের) যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে নেবে, তখন এমনভাবে আল্লাহর (জিকির) স্মরণ করবে, যেমন (জাহেলি যুগে) তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের স্মরণ করতে অথবা তার চেয়েও বেশি গভীরভাবে (স্মরণ করবে)। এমন কিছু লোক আছে, যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের দুনিয়ায় (সাওয়াব) দান করো।
’ মূলত তাদের জন্য পরকালে (কল্যাণের) কোনো অংশ নেই। পক্ষান্তরে তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে, যারা বলে, হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করো এবং পরকালেও কল্যাণ দান করো। আর আমাদের দোজখের যন্ত্রণা থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২০০-২০১)
হাজিদের অভ্যর্থনা জানানো মুস্তাহাব বা উত্তম আমল।

  ইমাম বুখারি (রহ.) সহিহ বুখারিতে ‘হজ থেকে আগমনকারী হাজিদের স্বাগত জানানো’ নামে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন। (অধ্যায়-২৬, অনুচ্ছেদ-১৩)
সেখানে তিনি বর্ণনা করেছেন, সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) মক্কায় এলে আবদুল মুত্তালিব গোত্রীয় কয়েকজন তরুণ তাঁকে স্বাগত জানায়। তিনি একজনকে তাঁর সাওয়ারির সামনে ও অন্যজনকে পেছনে তুলে নেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৭৯৮, ৫৯৬৮, ৫৯৬৬)

হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) ও ইমাম শিহাবুদ্দীন আল-কাসতালানি (রহ.) বলেন, এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে হজ থেকে প্রত্যাবর্তনকারী হাজিদের অভ্যর্থনা জানানো জায়েজ ও উত্তম। (ফতহুল বারি, ৩/৬১৯; ইরশাদুস সারি, ৩/২৭৮)।

আবদুল্লাহ ইবনে জাফর (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) যখন সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করতেন তখন আমাদের দ্বারা তাকে স্বাগতম জানানো হতো। একবার আমাকে ও হাসান অথবা হুসাইনের দ্বারা স্বাগতম জানানো হলো। আমাদের একজনকে তাঁর সম্মুখে বসালেন, আর অন্যজনকে তাঁর পশ্চাতে। এভাবে আমরা মদিনায় প্রবেশ করলাম। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৪২৮)

হাজিদের সঙ্গে মুসাফাহা করা

হাজিদের সঙ্গে মুসাফাহা, কোলাকুলি করা ও তাঁদের দিয়ে দোয়া করানো মুস্তাহাব। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তুমি কোনো হাজির সাক্ষাৎ পাবে তাকে সালাম দেবে, মুসাফাহা করবে আর তাকে অনুরোধ জানাবে, তিনি যেন তোমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান তার ঘরে প্রবেশের আগেই। কারণ তিনি (হাজি) ক্ষমাপ্রাপ্ত ব্যক্তি।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৫৩৭১)

আত্মীয়-স্বজন ও গরিবদের খাওয়ানো

হজ থেকে ফিরে শুকরিয়াস্বরূপ আত্মীয়-স্বজন ও গরিব-মিসকিনদের খাবারের দাওয়াত দেওয়া উত্তম। ইসলামের পরিভাষায় সে খাবারকে ‘নকিয়াহ’ বলা হয়।  রাসুল (সা.) যখন মদিনায় ফিরতেন তখন তিনি একটি উট অথবা একটি গরু জবেহ করতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩০৮৯)

উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় ইবনে বাত্তাল (রহ.) বলেন, ‘সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের পর মানুষকে খাওয়ানো মুস্তাহাব এবং এটি পূর্ববর্তীদের আমল।’ (ফাতহুল বারি, ৬/১৯৪)

তবে অহংকার, লোক দেখানো ও বিশেষ উদ্দেশ্য সামনে রেখে এমন দাওয়াতের ব্যবস্থা করা এবং অপচয় করাকে ইসলাম অনুমোদন করে না।

লেখক : সিনিয়র শিক্ষক

চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ

 

captcha