
গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় জিতুন (আল-জায়তুন) এলাকার ধ্বংসস্তূপ ও আশ্রয়শিবিরের চাদরের মধ্যে এক অসাধারণ যাত্রা শুরু করেছে ছয় সদস্যের এক ফিলিস্তিনি পরিবার। তারা খাদ্যের সন্ধানে নয়, বরং সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝেই পবিত্র কুরআনের সমস্ত আয়াত হৃদয়ে ধারণ করেছেন।
ইকনা (আন্তর্জাতিক কুরআন সংবাদ সংস্থা)-এর প্রতিবেদন অনুসারে, 'ফিলিস্তিন আল-আন' (فلسطين الان)-এর উদ্ধৃতিতে জানা যায়:
বারবার বাস্তুচ্যুতি, চরম কষ্ট ও ধ্বংসের মধ্যেও এই পরিবার কুরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ছিন্ন করেনি। চাদর থেকে চাদরে, আশ্রয় থেকে আশ্রয়ে স্থানান্তরিত হয়ে তারা কুরআনের কপিগুলো জীবনের মতোই সঙ্গে রেখেছেন। প্রত্যেক স্থানান্তরের পর তাদের কণ্ঠে কুরআনের তিলাওয়াত প্রতিধ্বনিত হয়েছে, যা বিস্ফোরণের শব্দকে কুরআনের মহিমার সামনে ফিকে করে দিয়েছে।
এই পরিবার জিতুন এলাকার মসজিদ সালাহুদ্দিন আইয়ুবী (مسجد صلاح الدين الأيوبي)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন – একটি আধ্যাত্মিক স্থান যা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মসজিদ হারানোর পরও তারা কুরআন রক্ষায় আত্মসমর্পণ করেননি। শান্ত মসজিদের হালকার (حلقة) পরিবর্তে তারা 'চাদরের হালকা' গড়ে তুলেছেন – যেখানে ছয়জন সদস্য এক অলৌকিক আধ্যাত্মিক যাত্রায় পুরো কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেছেন। এটি ক্ষুধা, গণহত্যা ও ধ্বংসের বাস্তবতাকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
এই ফিলিস্তিনি পরিবার বিশ্বকে নীরবে বার্তা দিচ্ছে: “যদি শত্রু আমাদের মিনারগুলো ধ্বংস করে, তাহলে আমাদের হৃদয়গুলো এমন মসজিদ যা কখনো ধ্বংস করা যাবে না।”
যুদ্ধ শেষ না হতেই তারা কুরআন হিফজ সম্পন্ন করে একটি 'কুরআনী পরিবার' (عائلة قرآنية) হয়ে উঠেছেন এবং যুদ্ধের আগেই আধ্যাত্মিক বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছেন। 4334318#