ইকনা’র প্রতিবেদন: নাইজেরিয়ার বোরগু এলাকার কয়েকটি গ্রামে শুক্রবার সশস্ত্র ব্যক্তিরা হামলা চালিয়ে জুমার নামাজের পর অজ্ঞাত সংখ্যক নামাজিকে অপহরণ করেছে।
‘ভ্যানগার্ড এনজিআর’-এর বরাত দিয়ে জানা যায়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলাগুলো কয়েকটি গ্রামীণ সম্প্রদায়ে ঘটেছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এলাকার ফেডারেল প্রতিনিধি জাফর মুহাম্মদ শেতিমান বোরগু জানিয়েছেন, হামলাগুলো ডেকারা, গিদান জানা, সাবুন গিদা ও মাসাকা গ্রামে সংঘটিত হয়েছে।
তিনি বিবিসিকে বলেন, অপহৃতদের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।
শেতিমান বোরগু বলেন, হামলাকারীরা জুমার নামাজের পর ডেকারায় প্রবেশ করে একটি মসজিদ ঘিরে ফেলে এবং নামাজিদের জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়।
তিনি জানান, এরপর সশস্ত্র ব্যক্তিরা পাশের গ্রামগুলোতে গিয়ে আরও মানুষকে অপহরণ করে।
তিনি আরও বলেন, কিছু নামাজিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে এবং কয়েকজন আহত অবস্থায় পালাতে সক্ষম হয়েছেন।
এই ফেডারেল প্রতিনিধি বলেন, এলাকার জঙ্গল সন্দেহভাজন লাকুরাওয়া ও মামুদাওয়া গোষ্ঠীর সদস্যদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। শুক্রবারের হামলার পর এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। এই মতভেদের কারণ হলো কিছু সদস্যের মসজিদে হামলা ও নামাজিদের অপহরণের বিরোধিতা।
কর্তৃপক্ষ মনে করছে, অপহরণকারীরা যুবকদের সদস্য সংগ্রহের জন্য লক্ষ্য করে থাকতে পারে, যদিও হামলাকারীরা কোন গোষ্ঠীর তা এখনো স্পষ্ট নয়।
গত কয়েক মাসে নাইজেরিয়ার কিছু অংশে সন্দেহভাজন লাকুরাওয়া যোদ্ধাদের তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা বললেও এই নতুন হামলাগুলো বোরগুর গুরুতর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জকে আবারও সামনে এনেছে। গত সপ্তাহেও এই এলাকার কিছু অংশে ২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
২০২৫ সালের নভেম্বরেও বোরগুতে ব্যাপক অপহরণের ঘটনা ঘটেছিল। সেই হামলায় সশস্ত্র ব্যক্তিরা ২০০-র বেশি শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছিল এবং প্রায় এক মাস বন্দিদশার পর শিশুদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।