IQNA

15:27 - August 29, 2026
সংবাদ: 3479700

বিশ্বচিন্তকদের দৃষ্টিতে মহানবী (সা.): ঐক্য সপ্তাহে এক পুনর্পাঠ

ইকনা’র প্রতিবেদন: হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর দাওয়াত তাওহিদ দিয়ে শুরু করেছিলেন এবং ঈমানের পাশাপাশি নৈতিকতা, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও সমাজের হিদায়াতের উপর জোর দিয়েছিলেন। এই মহান ব্যক্তিত্ব শুধু মুসলিমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেননি — অমুসলিম দার্শনিক, ইতিহাসবিদ, লেখক ও ধর্মগবেষকরাও তাঁর জীবন ও রিসালাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বিশ্বচিন্তকদের দৃষ্টিতে মহানবী (সা.): ঐক্য সপ্তাহে এক পুনর্পাঠ

ইকনা’র প্রতিবেদন: হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর দাওয়াত তাওহিদ দিয়ে শুরু করেছিলেন এবং ঈমানের পাশাপাশি নৈতিকতা, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও সমাজের হিদায়াতের উপর জোর দিয়েছিলেন। এই মহান ব্যক্তিত্ব শুধু মুসলিমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেননি — অমুসলিম দার্শনিক, ইতিহাসবিদ, লেখক ও ধর্মগবেষকরাও তাঁর জীবন ও রিসালাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে ইকনা বিশ্বের কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিন্তক ও ধর্মগবেষকের দৃষ্টিকোণ থেকে মহানবী (সা.)-এর শান্তিপ্রিয়তা, হিদায়াতের দাওয়াত, নৈতিকতা, ন্যায়বিচার, তাওহিদ এবং এক মহান সভ্যতা গঠনে তাঁর ভূমিকা তুলে ধরেছে।

উইল ডুরান্ট: বিচ্ছিন্ন সমাজকে ঐক্যবদ্ধকারী নবী

আমেরিকান ইতিহাসবিদ উইল ডুরান্ট লিখেছেন: “যদি এই মহান ব্যক্তির প্রভাব মানুষের উপর পরিমাপ করা হয়, তাহলে বলতে হয় হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের একজন। তিনি এমন এক জাতির জ্ঞান ও নৈতিকতার স্তর উন্নত করতে চেয়েছিলেন, যারা মরুভূমির উত্তাপ ও শুষ্কতায় অন্ধকার বর্বরতায় ডুবে ছিল। এ কাজে তিনি সব সংস্কারকের চেয়ে বেশি সফল হয়েছিলেন।”

ডুরান্টের মতে, মহানবী (সা.) শুধু এক আকিদার বাহক ছিলেন না; তাঁর দাওয়াত নতুন মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এক নতুন সমাজ গঠন করেছিল।

টলস্টয়: সত্য ও শান্তির পথে নবী

রুশ লেখক লিও টলস্টয় ‘মুহাম্মদ কে?’ প্রবন্ধে লিখেছেন: “হজরত মুহাম্মদ (সা.) একই সাথে প্রতিষ্ঠাতা ও নবী। তিনি এমন মহান ব্যক্তিদের মধ্যে, যারা সামাজিক কাঠামোতে গভীরভাবে অবদান রেখেছেন। তিনি এক সম্পূর্ণ উম্মাহকে সত্যের আলোর দিকে পরিচালিত করেছেন, শান্তি ও প্রশান্তির পথে এনেছেন এবং রক্তপাত থেকে বিরত রেখেছেন।”

هنوز آماده نیست///// حضرت محمد(ص)، یک نام در تاریخ و یک پیام برای امروز

বার্নার্ড শ’: ইসলাম ও শান্তির প্রশ্ন

আইরিশ নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ’ বলেছেন: “আমার মনে হয় ইসলামই একমাত্র ধর্ম যার সক্ষমতা রয়েছে মানবজীবনের বিভিন্ন যুগের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলার। আমি মনে করি যদি হজরত মুহাম্মদের মতো কেউ আধুনিক বিশ্বের নেতৃত্ব নিতেন, তাহলে তিনি এমনভাবে সমস্যা সমাধান করতেন যে বিশ্ব যে শান্তি চায়, তা নিশ্চিত হতো।”

هنوز آماده نیست///// حضرت محمد(ص)، یک نام در تاریخ و یک پیام برای امروز

লামারতিন: মহৎ লক্ষ্য, সীমিত উপকরণ ও বিস্ময়কর ফলাফল

ফরাসি কবি আলফোঁস দ্য লামারতিন বলেছেন: “যদি মহৎ লক্ষ্য, উপকরণের স্বল্পতা এবং বিস্ময়কর ফলাফল — এই তিনটি মানদণ্ডে মানব প্রতিভাকে মাপা হয়, তাহলে আধুনিক ইতিহাসে কে সাহস করে হজরত মুহাম্মদের সাথে তুলনা করবে?”

টমাস কার্লাইল: সততা ও নৈতিকতা

স্কটিশ দার্শনিক টমাস কার্লাইল ‘বীর ও বীরপূজা’ গ্রন্থে লিখেছেন: “তিনি দৃঢ় সংকল্প, দয়া, ক্ষমা, নিষ্ঠা, পুরুষত্ব, পরিশ্রম ও আন্তরিকতার সাথে নিজের নীতির উপর অটল ছিলেন। তিনি ন্যায়পরায়ণ, সত্যবাদী, বুদ্ধিমান, নির্মল ও মহৎ ছিলেন।”

هنوز آماده نیست///// حضرت محمد(ص)، یک نام در تاریخ و یک پیام برای امروز

গান্ধী: তলোয়ার নয়, নৈতিকতা

ভারতের নেতা মহাত্মা গান্ধী ‘ইয়ং ইন্ডিয়া’ পত্রিকায় লিখেছেন: “আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে তলোয়ার নয়, বরং নবীর সরল জীবন, প্রতিশ্রুতির প্রতি পূর্ণ মনোযোগ, বন্ধু ও অনুসারীদের প্রতি আন্তরিকতা ও আত্মত্যাগ, সাহস এবং আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থাই সবকিছু অর্জন করেছে এবং সব বাধা অতিক্রম করেছে।”

هنوز آماده نیست///// حضرت محمد(ص)، یک نام در تاریخ و یک پیام برای امروز

কারেন আর্মস্ট্রং: শান্তিকেন্দ্রিক পাঠ

সমকালীন ধর্মগবেষক কারেন আর্মস্ট্রং তাঁর ‘মুহাম্মদ: আমাদের সময়ের জন্য একজন নবী’ গ্রন্থে লিখেছেন: “নবীর বেশিরভাগ প্রচেষ্টাই বর্বর সংঘাত রোধে নিয়োজিত ছিল। ‘ইসলাম’ শব্দটি ‘সালাম’ (শান্তি) থেকে এসেছে। তিনি জিহাদের মানুষ ছিলেন, কিন্তু একজন প্রকৃত শান্তিকামীও ছিলেন।”

উপসংহার: ইতিহাসের এক নাম, আজকের জন্য এক বার্তা

অমুসলিম চিন্তকদের এই দৃষ্টিভঙ্গিগুলো দেখায় যে, প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন কোণ থেকে মহানবী (সা.)-কে দেখেছেন — কেউ তাওহিদ, কেউ নৈতিকতা, কেউ সামাজিক ঐক্য, কেউ সভ্যতা গঠনের দৃষ্টিকোণ থেকে।

মুসলিমদের কাছে হজরত মুহাম্মদ (সা.) শেষ নবী এবং পূর্ণাঙ্গ দ্বীনের বাহক। তাঁর রিসালাত শুধু কিছু বিধানের স্থানান্তর ছিল না; বরং মানুষকে তাওহিদ, নৈতিকতা, ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও মুক্তির দিকে আহ্বান ছিল।

ঐক্য সপ্তাহ এই সামগ্রিক ব্যক্তিত্বকে আবার নতুন করে দেখার সুযোগ। এমন এক নবী, যাঁর দাওয়াত তাওহিদ দিয়ে শুরু হয়েছিল, নৈতিকতায় অর্থ পেয়েছিল এবং সমাজে ন্যায়বিচার, ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক দায়িত্বের সাথে যুক্ত হয়েছিল।

আজকের বিশ্বে ধর্মগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস, ঘৃণা ও সম্প্রদায়গত সহিংসতা যখন এখনো বিদ্যমান, তখন বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মহানবী (সা.)-এর ব্যক্তিত্ব পুনর্পাঠ আরও গভীর সংলাপ ও সঠিক পরিচিতির পথ খুলে দিতে পারে। 4372538#

captcha