ইকনা’র প্রতিবেদন: দ্বীন ও মাজহাব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মুহাম্মদ হোসেইন দরাফশান বলেছেন, যদি মহানবী (সা.) আজ আমাদের মধ্যে থাকতেন, তাহলে সমকালীন বিশ্বের জন্য তাঁর বার্তা চারটি মৌলিক নীতিতে সংক্ষেপ করা যেত — মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, বৈশ্বিক রহমত ও দায়িত্ববোধ এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। এই নীতিগুলো আজকের নৈতিক ও কাঠামোগত সংকটের উত্তর দিতে পারে।
মহানবী (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কোম থেকে ইকনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কুরআনে মহানবীকে “রাহমাতুল্লিল আলামিন” বলা হয়েছে। এটি শুধু এক ধর্মীয় ঘটনা নয়; বরং মানবজাতির সামাজিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী মোড়।
দরাফশান বলেন, সূরা আম্বিয়ার ১০৭ নম্বর আয়াত “আমি তোমাকে শুধু বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি” — এই আয়াতের আলোকে মহানবী (সা.)-এর জন্মকে মানব ইতিহাসের মৌলিক মোড় বলা যায়। কারণ এটি শুধু এক ব্যক্তি বা ধর্মীয় নেতার জন্ম নয়; বরং বৈশ্বিক অবক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে এক সভ্যতাগত, জ্ঞানগত ও নৈতিক পরিবর্তনের সূচনা।
তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন:
দরাফশান বলেন, কুরআন ও প্রাচীন গ্রন্থাবলির আলোকে মহানবী (সা.)-এর সবচেয়ে উজ্জ্বল নৈতিক বৈশিষ্ট্য ছিল হিলম (ধৈর্য), নম্রতা, সহিষ্ণুতা, কঠোরতা পরিহার এবং ন্যায়বিচার ও আমানতদারি।
তিনি উল্লেখ করেন, তওরাত ও ইঞ্জিলেও তাঁকে এমন ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে যিনি কঠোরভাষী নন, পাথরহৃদয় নন, বাজারে চিৎকার করেন না এবং মন্দকে মন্দ দিয়ে প্রতিউত্তর দেন না; বরং ক্ষমা ও উদারতার মানুষ।
মক্কায় তাঁকে “মুহাম্মদুল আমিন” উপাধি দেওয়া হয়েছিল — যা শুধু সম্মানসূচক নয়, বরং সামাজিক আস্থার অভূতপূর্ব পুঁজি ছিল।
সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দরাফশান বলেন, মহানবী (সা.) জাহেলী সমাজে যে মৌলিক পরিবর্তন এনেছিলেন তা হলো গোত্রীয় আসাবিয়্যাত থেকে নাগরিক উম্মাহ ব্যবস্থায় কাঠামোগত উত্তরণ।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.) জাহেলিয়াতকে প্রবৃত্তিভিত্তিক বিক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক নাগরিক ও আদর্শ সমাজে রূপান্তরিত করেছিলেন। রক্তের আনুগত্যকে মূল্যবোধের আনুগত্য দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছিলেন। প্রথমবারের মতো “উম্মাহ”র ধারণা জন্ম নেয় — যেখানে কুরাইশ অভিজাত, হাবশী দাস, ইরানি পণ্ডিত ও বাইজেন্টাইন একই নাগরিক অধিকার ও মর্যাদায় সমান হয়ে যান।
দরাফশান বলেন, যদি মহানবী (সা.) আজ আমাদের মধ্যে থাকতেন, তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা নতুন কোনো বিধানের সেট নয়; বরং কাঠামোগত সংকট থেকে মুক্তির জন্য মৌলিক নীতির দিকে ফিরে যাওয়া। এগুলো চারটি নীতিতে সংক্ষেপ করা যায়:
১. মানবিক মর্যাদা
আজকের বিশ্বে মানুষকে ভোক্তা বা উৎপাদনের হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছে। মহানবী (সা.) জাহেলিয়াতে মানুষকে বাণিজ্যিক পণ্য থেকে মর্যাদাসম্পন্ন সত্তায় উন্নীত করেছিলেন। আজও তিনি মানুষকে লক্ষ্য হিসেবে দেখতেন, হাতিয়ার হিসেবে নয়।
২. সামাজিক-রাজনৈতিক ন্যায়বিচার
আজ বিশাল শ্রেণিবৈষম্য এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন বিদ্যমান। নতুন আসাবিয়্যাত — পদ্ধতিগত বর্ণবাদ, চরম জাতীয়তাবাদ ও মতাদর্শিক যুদ্ধ — গোত্রীয় আসাবিয়্যাতের স্থান নিয়েছে। মহানবী (সা.) আজও বিতরণমূলক ন্যায়বিচার ও আইনি সমতার উপর জোর দিতেন।
৩. বৈশ্বিক রহমত ও দায়িত্ববোধ
জলবায়ু সংকট, ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ ও নৈতিক অবক্ষয়ের যুগে “রাহমাতুল্লিল আলামিন” ধারণা আরও প্রাসঙ্গিক। রহমত শুধু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পুরো সৃষ্টিজগতের প্রতি প্রযোজ্য। পৃথিবীর প্রতি আমানতদারি এবং বৈশ্বিক দায়িত্ববোধ তাঁর বার্তা হতো।
৪. আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো
মহানবী (সা.) যুদ্ধপ্রিয় ছিলেন না; তিনি ন্যায়বিচারের জন্য আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। আজকের আধিপত্যবাদ শুধু সামরিক নয় — অর্থনৈতিক, গণমাধ্যম ও প্রযুক্তিগত আকারেও বিদ্যমান। এই দাঁড়ানোর লক্ষ্য ক্ষমতা অর্জন নয়; অধিকার প্রতিষ্ঠা। এটি স্বাধীন সত্তা রক্ষা এবং নৈতিক সীমা অতিক্রম না করেই সংগ্রাম।
দরাফশান শেষে বলেন, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ইসলামী চিন্তায় শুধু রাজনৈতিক কৌশল নয়; মুক্ত মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। এটি এমন যেকোনো ব্যবস্থাকে ‘না’ বলা, যেখানে মানুষ ক্ষমতা, অর্থ বা গণমাধ্যমের সেবায় বলি হয়। এটি বৈশ্বিক ব্যবস্থায় মানবিক মর্যাদাকে আবার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনার নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা।
মহানবী (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কোম থেকে ইকনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কুরআনে মহানবীকে “রাহমাতুল্লিল আলামিন” বলা হয়েছে। এটি শুধু এক ধর্মীয় ঘটনা নয়; বরং মানবজাতির সামাজিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী মোড়।
দরাফশান বলেন, সূরা আম্বিয়ার ১০৭ নম্বর আয়াত “আমি তোমাকে শুধু বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি” — এই আয়াতের আলোকে মহানবী (সা.)-এর জন্মকে মানব ইতিহাসের মৌলিক মোড় বলা যায়। কারণ এটি শুধু এক ব্যক্তি বা ধর্মীয় নেতার জন্ম নয়; বরং বৈশ্বিক অবক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে এক সভ্যতাগত, জ্ঞানগত ও নৈতিক পরিবর্তনের সূচনা।
তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন:
দরাফশান বলেন, কুরআন ও প্রাচীন গ্রন্থাবলির আলোকে মহানবী (সা.)-এর সবচেয়ে উজ্জ্বল নৈতিক বৈশিষ্ট্য ছিল হিলম (ধৈর্য), নম্রতা, সহিষ্ণুতা, কঠোরতা পরিহার এবং ন্যায়বিচার ও আমানতদারি।
তিনি উল্লেখ করেন, তওরাত ও ইঞ্জিলেও তাঁকে এমন ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে যিনি কঠোরভাষী নন, পাথরহৃদয় নন, বাজারে চিৎকার করেন না এবং মন্দকে মন্দ দিয়ে প্রতিউত্তর দেন না; বরং ক্ষমা ও উদারতার মানুষ।
মক্কায় তাঁকে “মুহাম্মদুল আমিন” উপাধি দেওয়া হয়েছিল — যা শুধু সম্মানসূচক নয়, বরং সামাজিক আস্থার অভূতপূর্ব পুঁজি ছিল।
সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দরাফশান বলেন, মহানবী (সা.) জাহেলী সমাজে যে মৌলিক পরিবর্তন এনেছিলেন তা হলো গোত্রীয় আসাবিয়্যাত থেকে নাগরিক উম্মাহ ব্যবস্থায় কাঠামোগত উত্তরণ।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.) জাহেলিয়াতকে প্রবৃত্তিভিত্তিক বিক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক নাগরিক ও আদর্শ সমাজে রূপান্তরিত করেছিলেন। রক্তের আনুগত্যকে মূল্যবোধের আনুগত্য দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছিলেন। প্রথমবারের মতো “উম্মাহ”র ধারণা জন্ম নেয় — যেখানে কুরাইশ অভিজাত, হাবশী দাস, ইরানি পণ্ডিত ও বাইজেন্টাইন একই নাগরিক অধিকার ও মর্যাদায় সমান হয়ে যান।
দরাফশান বলেন, যদি মহানবী (সা.) আজ আমাদের মধ্যে থাকতেন, তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা নতুন কোনো বিধানের সেট নয়; বরং কাঠামোগত সংকট থেকে মুক্তির জন্য মৌলিক নীতির দিকে ফিরে যাওয়া। এগুলো চারটি নীতিতে সংক্ষেপ করা যায়:
১. মানবিক মর্যাদা
আজকের বিশ্বে মানুষকে ভোক্তা বা উৎপাদনের হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছে। মহানবী (সা.) জাহেলিয়াতে মানুষকে বাণিজ্যিক পণ্য থেকে মর্যাদাসম্পন্ন সত্তায় উন্নীত করেছিলেন। আজও তিনি মানুষকে লক্ষ্য হিসেবে দেখতেন, হাতিয়ার হিসেবে নয়।
২. সামাজিক-রাজনৈতিক ন্যায়বিচার
আজ বিশাল শ্রেণিবৈষম্য এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন বিদ্যমান। নতুন আসাবিয়্যাত — পদ্ধতিগত বর্ণবাদ, চরম জাতীয়তাবাদ ও মতাদর্শিক যুদ্ধ — গোত্রীয় আসাবিয়্যাতের স্থান নিয়েছে। মহানবী (সা.) আজও বিতরণমূলক ন্যায়বিচার ও আইনি সমতার উপর জোর দিতেন।
৩. বৈশ্বিক রহমত ও দায়িত্ববোধ
জলবায়ু সংকট, ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ ও নৈতিক অবক্ষয়ের যুগে “রাহমাতুল্লিল আলামিন” ধারণা আরও প্রাসঙ্গিক। রহমত শুধু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পুরো সৃষ্টিজগতের প্রতি প্রযোজ্য। পৃথিবীর প্রতি আমানতদারি এবং বৈশ্বিক দায়িত্ববোধ তাঁর বার্তা হতো।
৪. আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো
মহানবী (সা.) যুদ্ধপ্রিয় ছিলেন না; তিনি ন্যায়বিচারের জন্য আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। আজকের আধিপত্যবাদ শুধু সামরিক নয় — অর্থনৈতিক, গণমাধ্যম ও প্রযুক্তিগত আকারেও বিদ্যমান। এই দাঁড়ানোর লক্ষ্য ক্ষমতা অর্জন নয়; অধিকার প্রতিষ্ঠা। এটি স্বাধীন সত্তা রক্ষা এবং নৈতিক সীমা অতিক্রম না করেই সংগ্রাম।
দরাফশান শেষে বলেন, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ইসলামী চিন্তায় শুধু রাজনৈতিক কৌশল নয়; মুক্ত মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। এটি এমন যেকোনো ব্যবস্থাকে ‘না’ বলা, যেখানে মানুষ ক্ষমতা, অর্থ বা গণমাধ্যমের সেবায় বলি হয়। এটি বৈশ্বিক ব্যবস্থায় মানবিক মর্যাদাকে আবার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনার নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা। 4373033#