ইকনা’র প্রতিবেদন: মারিন লোপেনের নেতৃত্বাধীন চরম ডানপন্থী দলের হিজাবধারী নারীদের জরিমানা করার পরিকল্পনা ফ্রান্সে জনরোষের জন্ম দিয়েছে।
আল-জাজিরার বরাত দিয়ে জানা যায়, ফ্রান্সের ন্যাশনাল র্যালি দল (চরম ডানপন্থী) ঘোষণা করেছে, ২০২৭ সালে ক্ষমতায় এলে তারা প্রকাশ্য স্থানে হিজাব পরার জন্য জরিমানা নির্ধারণ করতে চায়।
মারিন লোপেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে চরম ডানপন্থী নেত্রীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহকারী জঁ-ফিলিপ তাঙ্গি গত রোববার (৩০ আগস্ট) বলেন, লোপেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হলে দলটি প্রকাশ্য স্থানে ইসলামী হিজাব পরার জন্য জরিমানা নির্ধারণ করতে চায়।
তাঙ্গি বলেন, ন্যাশনাল র্যালি দল মারিন লোপেনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হলে ইসলামী হিজাব পরিহিত নারীদের জরিমানা করতে চায়। এই প্রস্তাব দলের কাঠামোতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে।
এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম মহলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের ঢেউ তুলেছে।
অনেক বিশ্লেষক বলেছেন, ফ্রান্স বিভিন্ন স্তরে বড় সংকটের মুখে এবং অর্থনৈতিক মন্দার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে; অথচ চরম ডানপন্থী ও মারিন লোপেনের অগ্রাধিকার হলো হিজাব।
অনলাইন কর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন: লক্ষ্য কি শুধু ইসলামী হিজাব, নাকি মাথা ঢাকার অন্যান্য বিষয়ও নিষিদ্ধ হবে? তাঁরা যুক্তি দিয়েছেন, এই প্রস্তাব প্রমাণ করে ন্যাশনাল র্যালি দল ফরাসি সমাজের জন্য বিপজ্জনক।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক ইলান গাবেত বলেন, এই পদক্ষেপ মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার ঘোষণার ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের সাথে সাংঘর্ষিক, যা আমাদের প্রজাতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি।
তিনি বলেন, এটি ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনেরও পরিপন্থী। মারিন লোপেন যদি এমন আইন বাস্তবায়ন করতে চান, তাহলে তাত্ত্বিকভাবে তাঁকে এই ঘোষণা বাতিল করতে হবে এবং ফ্রান্সকে ইউরোপীয় কনভেনশন থেকে বের করে আনতে হবে। 4373369