IQNA

8:48 - September 11, 2018
সংবাদ: 2606683
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জেরুজালেম শহরে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদের পাশে স্থাপিত ‘ডোম অফ দ্যা রক’ যাকে কুব্বা-তুস সাখরাও বলা হয়। এটি হচ্ছে বর্তমানে টিকে থাকা একটি প্রাচীন ইসলামী স্থাপনা। এই গম্বুজটি প্রতিষ্ঠা করা হয় ৬৫ হিজরি থেকে ৭২ হিজরি সালের মধ্যে। ধর্মীয়, সভ্যতা, ভৌগলিক এবং ঐতিহাসিক দিক থেকে এই স্থাপনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

‘ডোম অফ দ্যা রক’ বা কুব্বা-তুস সাখরার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

 
বার্তা সংস্থা ইকনা: এই ‘ডোম অফ দ্যা রক’ নামের গম্বুজটি মুসলিমদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদের প্রাচীন স্থানে একটি কৃত্রিম স্থাপনার উপরে প্রতিষ্ঠিত।

ক্রেসওয়েল নামের যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঐতিহাসিকের মতে, ‘এই চক্রাকার স্থাপনাটি যেটি ২০.৪৪ মিটারের কাঠের ভিত্তির উপরে প্রতিষ্ঠিত, যার উপর একটি সুউচ্চ ঢাকনা রয়েছে। এতে রয়েছে ১৬ টি জানালা, ৪ টি খিলান এবং ১২ টি খুঁটি। এসব খিলান এবং খুঁটির চারপাশে একটি বিশাল আকারের পাথরের গম্বুজ অবস্থিত।’

এর কেন্দ্রে রয়েছে একটি সুউচ্চ বেলন এবং এই বেলনটিকে ধরে রাখার জন্য স্থাপন করা হয়ছে অষ্টভুজ বিশিষ্ট একটি খিলান যেটি প্রায় ২০.৫৯ মিটার চওড়া। এর চারপাশে রয়েছে ৯.৫০ ইঞ্চি উচ্চতার আটটি দেয়াল।

কুব্বা-তুস সাখরা বা ‘ডোম অফ দ্যা রক’টিকে নির্মাণ করা হয়েছে আল-আকসা মসজিদের একেবারে কেন্দ্রে যা ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এটি এক ধরণের নীলাভ বর্ণের পাথর দিয়ে তৈরী। মেঝ থেকে এটি প্রায় দেড় মিটার লম্বা। এর একেবারে উচ্চ স্থানটি প্রায় ১৮ মিটার চওড়া।

বিশ্বাস করা হয় যে এই ‘ডোম অফ দ্যা রক’ এ একটি সম্মানিত পাথর স্থাপিত রয়েছে তবে ঐতিহাসিকরা এর কোনো সত্যতা পাননি। এই সম্মানিত পাথরটির রূপকথা ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন মুসলিমদের দ্বারা তবে এগুলোর অধিকাংশই ভিত্তিহীন। ইহুদিদের বর্ণনার সাথে অমিল রাখার জন্য এসব রূপকথা ছড়িয়ে দেয়া হতে পারে এবং এটি এর পেছনে অন্যতম একটি কারণ হতে পারে।

তবে ইসলাম ধর্মে মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মুসলমানদের বিশ্বাস আনুযায়ী আল-আকসা মসজিদ হচ্ছে পবিত্র কাবা শরীফের পরে পৃথিবীতে নির্মিত দ্বিতীয় স্থাপনা।

এই ‘ডোম অফ দ্যা রক’ বা কুব্বা-তুস সাখরা নামের স্থাপনাটি কোনোভাবেই আল-আকসা মসজিদ থেকে বেশী গুরুত্বপূর্ণ নয়।

আল-আকসা মসজিদটি ছিল মুসলিমদের প্রথম কিবলা এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলিমরা প্রায় এক বছর যাবত এই মসজিদের দিকে মুখ করে নামায আদায় করেছিল।

এটি ছিল সেই স্থান যেখানে হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) কে তার মিরাজের রাতে নেয়া হয়েছিল। (মিরাজের রাতে আল্লাহর ইচ্ছায় মুহাম্মদ(সাঃ) কে কাবা শরিফের নিকটতম স্থান থেকে আল-আকসা মসজিদে নেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে এই স্থান থেকে মুহাম্মদ(সাঃ) কে ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করানো হয়েছিল।)

‘ডোম অফ দ্যা রক’ এ যে পবিত্র পাথরটির কথা বলা হয় তার একমাত্র ইসলামী সূত্র হচ্ছে এই যে, নবী মুহাম্মদ(সাঃ) যখন মসজিদ আল-হারাম থেকে আল-আকসা মসজিদে আসেন তখন তার বাহনটিকে (এক প্রকার প্রাণী বিশেষ)এই পাথরে বেঁধে রাখা হয়েছিল।

সূত্র আনুযায়ী, নবী মুহাম্মদ(সাঃ) আল-বুরাক নামের একটি প্রাণীর পিঠে চড়ে আল-আকসা মসজিদে অবতরণ করার পর জিবরাঈল(আঃ) বুরাক নামের প্রাণীটিকে কথিত পাথরটির সাথে বেঁধে রাখেন এবং পাথরটিতে বুরাক নামক প্রাণীটির আঙ্গুলের ছাপ পাওয়া যায়।

তথাপি এই ঘটনাকে ব্যাখ্যা করার জন্য দুটি মত রয়েছে-

প্রথমত, নবী মুহাম্মদ(সাঃ) আল-আকসা মসজিদে এসে আল-হাজার বা পাথর শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে অনেকে এই শব্দটি দ্বারা কথিত পাথরটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

দ্বিতীয়ত, আরেকটি কারণ হতে পারে এই যে, বুরাক নামক বাহনটিকে হয়ত আল-আকসার আশেপাশের কোনো পাথরের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছিল।

‘ডোম অফ দ্যা রক’ নির্মাণের সময়কাল সম্পর্কে অনেক বিতর্ক রয়েছে। তবে অনেকে মনে করেন উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক বা দ্বিতীয় মারওয়ান এই ‘ডোম অফ দ্যা রক’ টি নির্মাণ করেন। এই হিসাবে ‘ডোম অফ দ্যা রক’ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ৭২ থেকে ৭৩ হিজরি সালের মধ্যে। সূত্রঃ (See: Blair Sheila S., “What is the Date of the Dome of the Rock?”, in: Bayt al-Maqdis, Abd al-Malik’s Jerusalem, (Oxford: Oxford University Press, 1992), p. 59-85)

বর্তমানে আল-আকসা মসজিদ বলতে মুসলমানদের প্রথম কিবলার পুরো জায়গাটাকে বোঝানো হয় এবং এই মসজিদটি কাবা শরিফের নির্মাণের ৪০ বছর পর নির্মাণ করা হয়েছিল।

এই অনুচ্ছেদটি লিখতে যেসব বই এবং গবেষণার সাহায্য নেয়া হয়ছিল তার একটি তালিকাঃ

১। Creswell K.A.C., A Short Account of Early Muslim Architecture, (Cairo: The American University in Cairo Press, 1989), p. 20.

২। Khosraw Naser, Book of Travels, translated from Persian by W. M. Thackston, Jr., (Albany: Bibliotheca Persica, 1986), p. 32.

৩। Duncan Alistair, The Noble Sanctuary, (London: Longman Group Limited, 1972), p. 28.

৪। সহী আল-বুখারী এর হাদিস নম্বর-৩১৭২।

৫। হাদিস আল-জুমাহ নামক হাদিস গ্রন্থের হাদিস নম্বর-১১৫।

৬। একই হাদিস গ্রন্থের হাদিস নম্বর-১১১৬।

৭। আল-তিরমিজি শরিফের হাদিস নম্বর-৩০৫৭।

সূত্রঃ এবাউট ইসলাম।

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য: