
কুরআনের চিরন্তন প্রাসঙ্গিকতা ইসলামি রেওয়ায়েত অনুযায়ী, পবিত্র কুরআন হলো ‘সূর্যের মতো প্রবহমান’, যা প্রতিদিন নতুন নতুন দিকনির্দেশনা নিয়ে উদিত হয়। বর্তমান পরিস্থিতির সাথে কুরআনে বর্ণিত ‘খন্দকের যুদ্ধ’ বা ‘আহজাব’ এবং ‘বদরের যুদ্ধের’ ঘটনার বিস্ময়কর মিল পাওয়া যায়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ঐশ্বরিক পরিকল্পনা বদরের যুদ্ধের প্রাক্কালে মুসলিম বাহিনীর সামনে দুটি লক্ষ্য ছিল: একটি কুরাইশদের বাণিজ্যিক কাফেলা এবং অন্যটি তাদের সশস্ত্র বিশাল বাহিনী। সূরা আনফালের ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ এর বর্ণনা দিয়েছেন:
“স্মরণ করো, যখন আল্লাহ তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে দুই দলের (বাণিজ্যিক কাফেলা অথবা সশস্ত্র বাহিনী) একটি তোমাদের আয়ত্তে আসবে। তোমরা চেয়েছিলে যে দলটি সশস্ত্র নয় (বাণিজ্যিক কাফেলা) সেটিই যেন তোমাদের হাতে আসে...”
তৎকালীন মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা ছিল কাফেরদের তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এবং তাদের পর্যাপ্ত রণসজ্জাও ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই তারা সহজ লক্ষ্য হিসেবে বাণিজ্যিক কাফেলাটি পেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মহান আল্লাহর ইচ্ছা ছিল ভিন্ন। তিনি চেয়েছিলেন মুমিনদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর মুখোমুখি করতে, যাতে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কাফেরদের মূল উপড়ে ফেলা যায়।
বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ইরানের অবস্থান বর্তমান ইরান পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও দুটি পথ দৃশ্যমান ছিল। যৌক্তিক কারণে এবং যুদ্ধবিগ্রহের নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে আলোচনার পথটিই ছিল কাম্য। কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা বা তকদির ছিল অন্যরকম। শত্রু পক্ষ সমস্ত যুক্তি ও কাণ্ডজ্ঞান বিসর্জন দিয়ে আলোচনার টেবিল ত্যাগ করে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, নিরপরাধ নারী-শিশু ও সামরিক কমান্ডারদের শাহাদাত বরণের পথ বেছে নেয়।
ঐশ্বরিক সুন্নাহ বা নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্ত সম্মান ও নেতৃত্ব কেবল মুমিনদের জন্যই নির্ধারিত। আর শত্রু পক্ষ তথা শিশু হত্যাকারী জায়নবাদী শাসনগোষ্ঠীর সমস্ত সামরিক সক্ষমতা ও দাপট ধ্বংস হওয়াই এখন সময়ের দাবি।