প্রবন্ধে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইরাকের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিরোধপন্থী গোষ্ঠীগুলো ৩২৯ আসনের মধ্যে ১০৩টি আসন অর্জন করে। এতে যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট ছিল না। এরপর ইরাকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধি মার্ক সাফায়া রাজনৈতিক নেতাদের জানিয়ে দেন যে, নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্ট স্পিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ সাতটি মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ অবশ্যই মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে হতে হবে।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র শুধু বাইরের চাপই প্রয়োগ করেনি; বরং ইরাকের অভ্যন্তরেও একটি “আমেরিকান লবি” গড়ে ওঠে, যারা মার্কিন বার্তাগুলোকে আরও জোরালোভাবে রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে দেয়।
মাহমুদ আল-হাশেমি বলেন, ইরাকে সামরিকভাবে ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র “ফেডারেল ব্যাংক”-এর মাধ্যমে নতুন ধরনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। যদিও কুয়েত যুদ্ধ-পরবর্তী অধিকাংশ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে, তবুও ইরাক এখনো মার্কিন আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইরাকের জনগণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বারবার ব্যর্থতা দেখে হতাশ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে “সমন্বয় কাঠামো” নূরি আল-মালিকিকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়ন দেওয়ার পর অভ্যন্তরীণ বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে এবং তাকে সরাতে বিদেশি শক্তির সহায়তা নেওয়া হয়।
প্রবন্ধে দাবি করা হয়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার আগে ইরাকে একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক “সিনারিও” তৈরি করা হয়েছিল। এতে ধারণা করা হয়েছিল যে, ইরানে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটবে এবং সেই সুযোগে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রপন্থী সরকার দ্রুত গঠন করা হবে। তবে ইরানে প্রত্যাশিত ফল না আসায় এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
লেখক বলেন, ইরাকে মার্কিনপন্থী লবি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে; কারণ ইরান ও প্রতিরোধ অক্ষের সাফল্যে ইরাকের জনগণ প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে শোকসভা ও সংহতি কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিবন্ধে আরও বলা হয়, ইরাকের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল মানসিকতা থেকে বের হতে পারেনি। বিশেষ করে “ফেডারেল ব্যাংক”-কে মার্কিন চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। জনগণকে ভয় দেখানো হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করলে সরকারি কর্মচারীরা বেতন পাবে না।
মাহমুদ আল-হাশেমি অভিযোগ করেন, ইরাকের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা কেন্দ্র বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এখনো “ফেডারেল ব্যাংক সংকট” এবং এর সমাধান নিয়ে কার্যকর আলোচনা আয়োজন করেনি। ফলে জনগণের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, মার্কিন আর্থিক আধিপত্য যেন অনিবার্য বাস্তবতা।
নিবন্ধের শেষাংশে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় গঠিত সরকার জনগণের ইচ্ছাশক্তির সামনে টিকতে পারবে না। তার ভাষায়, “প্রতিরোধ অক্ষের বিজয়ই মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে, আর যারা আমেরিকার ওপর ভরসা করেছে তারা শেষ পর্যন্ত ক্ষতির মুখোমুখি হবে।” 4351839#