
ইকনা নিউজ এজেন্সি আল-কুদস আল-আরাবির বরাতে জানিয়েছে, বিশ্লেষণধর্মী সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে যে যৌন অপরাধে দণ্ডিত মার্কিন নাগরিক জেফরি এপস্টেইনকে এক আমিরাতি ব্যবসায়ীসহ কাবার গিলাফের একটি অংশের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত ইমেইল নথি অনুযায়ী, ছবিটিতে এপস্টেইনের পাশে দেখা যায় সুলতান আহমদ বিন সুলাইমকে, যিনি ডিপি ওয়ার্ল্ড (DP World) কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
ছবিতে দু’জনকে সিঁড়ির নিচে দাঁড়িয়ে পকেটে হাত ঢুকিয়ে কাবার আবরণের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়।
জানা গেছে, ছবিটি ২০১৪ সালের ৮ মে একটি অজ্ঞাতনামা ইমেইলের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল, যেখানে এপস্টেইনের প্রতি একটি অশালীন মন্তব্যও ছিল। সাম্প্রতিক প্রকাশিত নথিতে আরও জানা যায়, কাবার এই পবিত্র আবরণ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এপস্টেইনের কাছে পৌঁছানো হয়েছিল।
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চের ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসকারী ব্যবসায়ী আজিজা আল-আহমাদি এবং আবদুল্লাহ আল-মাআরি নামের এক ব্যক্তি কাবার গিলাফের তিনটি অংশ পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
নথি অনুযায়ী, এসব অংশ ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মাধ্যমে সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাঠানো হয়। এতে কাস্টমস ব্যবস্থা, বিলিং ও অভ্যন্তরীণ ডেলিভারির সব আয়োজন অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০১৭ সালের মার্চে চালানটি এপস্টেইনের বাড়িতে পৌঁছে — যা তার কারাদণ্ড ভোগের অনেক পরে এবং মানব পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর।
একটি ইমেইলে আল-আহমাদি কাবার গিলাফের ধর্মীয় গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, “এই কালো কাপড়টি অন্তত এক কোটি মুসলমান স্পর্শ করেছে—সুন্নি, শিয়া ও অন্যান্য মতাবলম্বীরা। তারা সাতবার কাবা তাওয়াফ করে এবং সবাই চেষ্টা করে এটি ছুঁতে, সেই সঙ্গে আল্লাহর কাছে নিজেদের দোয়া, আশা, কান্না ও আকাঙ্ক্ষা পেশ করে।”
ছবিটি কোথায় তোলা হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়। তবে মুসলমানদের কাছে কাবার গিলাফ অত্যন্ত পবিত্র হওয়ায়, এটিকে মাটিতে রাখা অপমানজনক হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুলতান আহমদ বিন সুলাইমের সঙ্গে এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল, যা ২০০৮ সালে এক অপ্রাপ্তবয়স্ককে প্রলুব্ধ করার অপরাধে এপস্টেইনের দণ্ডের পরও অব্যাহত ছিল। তাদের ইমেইল আদান-প্রদানে নারী ও যৌন বিষয় নিয়ে অশালীন ভাষা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আরও একটি ইমেইলে দেখা যায়, এপস্টেইন ইতালির একটি এসকর্ট সার্ভিসের লিংক পাঠালে বিন সুলাইম জবাবে লেখেন, “দারুণ!”
অন্য এক ইমেইলে তিনি মুসলিম নামাজিদের নিয়ে কটাক্ষ করে তাদের “সন্ত্রাসী” বলে উল্লেখ করেন।
সুলতান বিন সুলাইম সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। তিনি ২০১৬ সাল থেকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ২০০৭ সাল থেকে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী বন্দর ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করে। 4333616#