IQNA

কোরআনের দৃষ্টিতে জায়নবাদ বিরোধী লড়াই/৫

যখন মানুষের শক্তি হয় সীমাহীন

10:42 - March 14, 2026
সংবাদ: 3479018
ইকনা- পবিত্র কোরআন জোর দিয়ে বলছে যে, আল্লাহর ওপর বিশ্বাসের গভীরতা অনুযায়ীই মানুষের কর্মশক্তি নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ, তৌহিদ বা একত্ববাদ মানুষের সক্ষমতাকে অসীম গুণে বাড়িয়ে দেয়।

ইকনা সংবাদদাতার বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন: পবিত্র ভূমিতে প্রবেশের জন্য হযরত মুসা (আ.) যখন বনী ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন তারা সেখানে অবস্থানরত এক শক্তিশালী গোষ্ঠীর ভয়ে পিছিয়ে গিয়েছিল। তারা বলেছিল, "তারা বের না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেখানে প্রবেশ করব না" (সূরা মায়িদা: ২২)। কিন্তু কোরআন এমন দুই ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছে যাদের দুটি বিশেষ গুণ ছিল: প্রথমত, তারা কেবল আল্লাহকে ভয় করতেন; দ্বিতীয়ত, তারা আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত ও সান্নিধ্যপ্রাপ্ত ছিলেন। এই গুণের কারণে তারা নিশ্চিত ছিলেন যে, প্রবেশ করলেই তারা বিজয়ী হবেন। ইরশাদ হয়েছে: "তোমরা তো কেবল প্রবেশ করো, প্রবেশ করলেই তোমরা বিজয়ী হবে" (সূরা মায়িদা: ২৩)।

এই আয়াতগুলো আমাদের শিক্ষা দেয় যে, বিশ্বাস যত দৃঢ় হবে, কাজের শক্তি তত বাড়বে। কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, আকাশ ও পৃথিবীর সমস্ত বাহিনী কেবল আল্লাহরই মালিকানাধীন এবং তাঁরই অনুগত।

ফেরাউন ও নীল নদের শিক্ষা: আসমান ও জমিন কীভাবে আল্লাহর বাহিনীতে পরিণত হয়, তা ফেরাউনের নীল নদ পার হওয়ার ঘটনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়। বনী ইসরায়েল যখন পলায়নরত অবস্থায় সমুদ্রের তীরে পৌঁছালো, তখন সামনে ছিল উত্তাল দরিয়া আর পেছনে ফেরাউনের সশস্ত্র বিশাল বাহিনী। এই সংকটকালে দুটি দৃষ্টিভঙ্গি সামনে আসে: ১. পার্থিব দৃষ্টিভঙ্গি: বনী ইসরায়েল আতঙ্কিত হয়ে বলল, "আমরা তো ধরা পড়ে গেলাম!" ২. ঐশী দৃষ্টিভঙ্গি: হযরত মুসা (আ.) দৃঢ়ভাবে উত্তর দিলেন, "কখনোই নয়! নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক আমার সাথে আছেন, তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।"

নীল নদ বিভক্ত হওয়ার পর যখন ফেরাউনের বাহিনী সেখানে প্রবেশ করল, তখন তাদের যা সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল (ভারী লৌহবর্ম ও অস্ত্র), তাই তাদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হলো। ভারী অস্ত্রের ভারেই তারা সবাই ডুবে মরল।

মূল শিক্ষা: এই আয়াতগুলো আমাদের লক্ষ্যহীনভাবে যুদ্ধ শুরু করতে বলে না। বরং এটি এই শিক্ষা দেয় যে, তুমি যদি মহান আল্লাহর দেওয়া মূল্যবোধ ও কর্তব্যের ওপর অটল থাকো এবং তোমার ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে নিশ্চিত থেকো যে—আল্লাহ তোমার সাথেই আছেন।#

captcha