যমযম কূপ মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও প্রতীকী মর্যাদাসম্পন্ন। মসজিদুল হারামের অন্যতম বরকতময় নিদর্শন হিসেবে এটি হজ্জ ও উমরায় আগত প্রত্যেক যাত্রীর জন্য বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র।
যমযমের ইতিহাস যমযমের উৎপত্তি প্রায় ১৯০০ খ্রিস্টপূর্বকালে, হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর যুগে। আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর স্ত্রী হাজেরা (আ.) ও শিশু ইসমাইল (আ.)-কে মক্কার এই নির্জন উপত্যকায় রেখে যান। পানির অভাবে তৃষ্ণার্ত হলে আল্লাহ জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে যমযমের ঝর্ণা প্রবাহিত করেন। এটি আল্লাহর একটি স্পষ্ট নিদর্শন ও অলৌকিক ঘটনা।
প্রাক-ইসলামী যুগে যমযম শুকিয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীকালে হযরত আব্দুল মুত্তালিব (রাসূলুল্লাহ সা.-এর দাদা) এটি পুনরায় খনন করেন এবং এর পানি প্রবাহিত হয়। ইসলামের আগমনের পর যমযম মসজিদুল হারামের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়।
বর্তমানে যমযম বর্তমানে যমযম কূপ কাবার পূর্ব দিকে, প্রায় ২১ মিটার দূরে অবস্থিত। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই পবিত্র পানি পান করেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ এর সংরক্ষণ, বিশুদ্ধকরণ ও বিতরণের জন্য আধুনিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে। পানি বিশেষ পাম্পের মাধ্যমে উত্তোলিত হয় এবং মসজিদুল হারামের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা যমযমের পানিতে অন্যান্য পানির তুলনায় বিশেষ খনিজ উপাদান রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এতে ফ্লোরাইড ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণাবলি বিদ্যমান। জাপানি গবেষক ইমো মাসারুসহ অনেক বিজ্ঞানী এর অসাধারণ বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করেছেন।
আধ্যাত্মিক গুরুত্ব যমযম শুধু পানির উৎস নয়, বরং ঈমান, আশা ও আল্লাহর রহমতের প্রতীক। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে এই পানি পান করতেন এবং এর বরকতের কথা উল্লেখ করেছেন। আজও লাখো যাত্রী এই পানি পান করে দোয়া করেন—“আল্লাহুম্মাজ আলহু ইলমান নাফিআ ওয়া রিযকান ওয়াসিআ ওয়া শিফাআম মিন কুল্লি দায়িন”। 4354492#











