ইসলামি বিপ্লবের রক্ষীবাহিনী (সেপাহে পাসদারানে এঙ্কেলাবে ইসলামি) ১৭ মোরদাদ, সাংবাদিক দিবস এবং শহীদ মাহমুদ সারেমির শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে সেপাহ জোর দিয়ে বলেছে, বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম এখন স্বীকার করছে যে সম্প্রতি অর্জিত সমঝোতাগুলো আসলে মাঠের বাস্তবতা ও ইরানের আলোচনাশক্তির সামনে আমেরিকার ‘আত্মসমর্পণের দলিল’ ছাড়া আর কিছুই নয়। এই স্বীকারোক্তিগুলো ইরানের সামরিক শক্তি ও সক্রিয় প্রতিরোধ ক্ষমতার উজ্জ্বলতা প্রমাণ করে।
ইকনা সংস্থার প্রতিবেদনে সেপাহ নিউজের বরাতে জানানো হয়েছে, সেপাহ পাসদারানে এঙ্কেলাবে ইসলামি ১৭ মোরদাদ উপলক্ষে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলেছে: বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো স্বীকার করছে যে অর্জিত সমঝোতাগুলো আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের মাঠের বাস্তবতা ও আলোচনাশক্তির সামনে ‘আত্মসমর্পণের দলিল’ ছাড়া অন্য কিছু নয়। এই স্বীকারোক্তিগুলো দেশের সামরিক শক্তি ও সক্রিয় প্রতিরোধ ক্ষমতার উজ্জ্বল দিকগুলো তুলে ধরে। এই শক্তিগুলো কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা, জাতির অবিচলতা এবং সশস্ত্র বাহিনী—বিশেষ করে সেপাহ পাসদারানে এঙ্কেলাবে ইসলামির সর্বাত্মক সমর্থনের ফসল। একই সঙ্গে বিপ্লবী গণমাধ্যমগুলোর বুদ্ধিদীপ্ত ও সঠিক সংগ্রাম, যা শত্রুর মিথ্যা প্রচার ও অতিরঞ্জনের বিরুদ্ধে লড়েছে, তারও অবদান অনস্বীকার্য।
বিবৃতির পূর্ণাঙ্গ পাঠ নিম্নরূপ:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
«নূন। ওয়াল-কালামি ওয়া মা ইয়াসতুরুন»
(নূন। কলমের শপথ এবং যা তারা লিখে তার শপথ)
ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও বিপ্লবী সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমকর্মী সমাজের প্রতি—
আপনারা যে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা আলোকিতকরণের পথে এবং সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে ইরানি জাতির জন্য আশা ও দূরদর্শিতার ঝর্ণাধারা এবং সত্য ও দৃঢ়তার পতাকাবাহক হয়েছেন, আপনাদের ওপর আল্লাহর সালাম ও রহমত বর্ষিত হোক। ১৭ মোরদাদ শহীদ মাহমুদ সারেমিসহ অন্যান্য গৌরবময় সাংবাদিক শহীদদের অক্লান্ত সংগ্রামের স্মৃতি বহন করে। এটি গণমাধ্যমকর্মীদের বিপ্লব ও ইসলামি ইরানের অস্তিত্ব এবং তার মহান ও সভ্যতা-নির্মাণকারী আদর্শের প্রতি অঙ্গীকার ও ভালোবাসার প্রতীক।
আজ অঞ্চল ও বিশ্ব সমকালীন ইতিহাসের অন্যতম জটিল ও ভাগ্যনির্ণায়ক যুদ্ধের সাক্ষী। আমেরিকা এবং জায়োনিস্ট সত্তা ইসলামি ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ও তৃতীয় যুদ্ধে সমস্ত সামরিক প্রচেষ্টা ও মিডিয়া অভিযান সত্ত্বেও আমেরিকার নিকৃষ্ট ও বিভ্রান্ত প্রেসিডেন্টের ঘোষিত অশুভ লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। বরং এর ফলে কৌশলগত অচলাবস্থা, পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে ফাটল এবং তাদের আধিপত্যের পতন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো ওয়াশিংটনের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ওপর জয়লাভ করতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার করে স্পষ্টভাবে ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে ‘পরাজয়’ এবং ‘নিজের তৈরি ফাঁদ’ বলে আখ্যা দিচ্ছে। এমনকি তারা স্বীকার করছে যে অর্জিত সমঝোতাগুলো মাঠের বাস্তবতা ও ইরানের আলোচনাশক্তির সামনে আমেরিকার ‘আত্মসমর্পণের দলিল’ ছাড়া আর কিছুই নয়। এই স্বীকারোক্তিগুলো দেশের সামরিক শক্তি ও সক্রিয় প্রতিরোধ ক্ষমতার উজ্জ্বলতা প্রকাশ করে। এই শক্তিগুলো কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা, জাতির অবিচলতা এবং সশস্ত্র বাহিনী—বিশেষ করে সেপাহ পাসদারানে এঙ্কেলাবে ইসলামির সর্বাত্মক সমর্থনের ফল। একই সঙ্গে বিপ্লবী গণমাধ্যমগুলোর বুদ্ধিদীপ্ত ও সঠিক সংগ্রাম, যা শত্রুর মিথ্যা প্রচার ও অতিরঞ্জনের বিরুদ্ধে লড়েছে, তারও অবদান রয়েছে।
এই চ্যালেঞ্জপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ময়দানে শত্রু মিশ্র ও সাইবার যুদ্ধের সব ধরনের সক্ষমতা—এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—ব্যবহার করে সত্য বিকৃত করার চেষ্টা করেছে, যাতে জাতি ও পবিত্র ইসলামি প্রজাতন্ত্র ব্যবস্থার মধ্যে দূরত্ব তৈরি করা যায় এবং বিশাল সামাজিক পুঁজি ও পবিত্র জাতীয় ঐক্যকে আঘাত করা যায়। বিশেষ করে ১৪০৪ সালের ১৮ ও ১৯ দে মাহের অভ্যুত্থান-চেষ্টার অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে যে ফিতনার মিডিয়া অংশই এই সমীকরণের সবচেয়ে জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ দিক। এখানে ‘প্রথম বয়ান’ তারই হবে, যে দ্রুততর, নির্ভুলতর ও বুদ্ধিদীপ্তভাবে ময়দানে প্রবেশ করবে।
এই তিক্ত অভিজ্ঞতাই সুযোগ এনে দিয়েছে, যাতে বুদ্ধিমান ও বিপ্লবী সাংবাদিক এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও সময়সচেতন গণমাধ্যমগুলো সাম্প্রতিক আরোপিত যুদ্ধে সঠিক ও সময়োপযোগী বয়ান তৈরির ওপর মনোযোগ দিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক অভিযান ও মিডিয়া আক্রমণ চালিয়েছে। তারা যোদ্ধাদের দৃঢ়তার স্থায়ী চিত্র, জনগণের উপস্থিতি ও প্রতিরোধের সত্যানুগ প্রতিবেদন, শহীদ ও তাদের পরিবারের নির্যাতনের বয়ান এবং ইরানি জাতির অভূতপূর্ব ঐক্যের প্রতিফলন তৈরি ও প্রচার করেছে। এগুলো এই সংবেদনশীল ও মূল্যবান সময়ের গৌরবময় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে। যে সাংবাদিকরা দ্বিতীয় ও তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধে আগুনের নীচে এবং হুমকির মুখেও নিজেদের দায়িত্ব পালন থেকে এক মুহূর্তও পিছু হটেননি; যারা ত্রাণকর্মী, নিরাপত্তা রক্ষাকারী এবং প্রতিরোধী জনগণের পাশে থেকেছেন এবং যাদের কেউ কেউ সত্যের পক্ষে তথ্য পরিবেশন ও সত্য রক্ষার পথে জীবন উৎসর্গ করেছেন—তারা সর্বোচ্চ সম্মান ও কৃতজ্ঞতার যোগ্য।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে এবং বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে সেপাহ পাসদারানে এঙ্কেলাবে ইসলামি দেশের ঐতিহাসিক ক্যালেন্ডারে ‘সাংবাদিক দিবস’ নামে পরিচিত এই শুভ দিনটি সচেতনতা ও কলমের জগতের সব যোদ্ধা এবং ইসলামি সমাজে দূরদর্শিতা সৃষ্টির ময়দানের মুজাহিদদের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছে—যারা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও ইস্পাতকঠিন সংকল্প নিয়ে বয়ান ও সত্যের দুর্গ রক্ষা করে চলেছেন।
সত্য ও সচেতনতার পথের শহীদদের ওপর আল্লাহর সালাম ও রহমত বর্ষিত হোক। মহান ও প্রতিরোধী ইরানি জাতি এবং হক্বের জোটের চূড়ান্ত সম্মান ও বিজয়ের প্রার্থনাসহ—আল্লাহর অনুমতিতে।
4368538