"((ইরানের বিরুদ্ধে চলমান পাঁচ মাসের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় সব নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ করে ফেলেছে। অভ্যন্তরীণ তথ্যের বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র এ কথা জানিয়েছে। এতে ভবিষ্যতের যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রস্তুতির সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, এসব অস্ত্র মূলত মার্কিন সেনাবাহিনীর স্থল থেকে স্থলে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, যা ‘আর্মি ট্যাকটিক্যাল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা’ (এটিএসিএমএস বা অ্যাটাকামস) এবং ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্র’ (পিআরএসএম বা পিআরএসএম) নামে পরিচিত। এর মধ্যে দুটি সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এসব অস্ত্রের ‘প্রায় পুরো অংশই’ ব্যবহার করে ফেলেছে।
অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে সতর্কতা
সূত্রমতে, অ্যাটাকামস ও পিআরএসএম অস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসার মূল কারণ হলো ট্রাম্প প্রশাসনের ঝুঁকি এড়ানোর কৌশল। অর্থাৎ চালকসহ যুদ্ধবিমান থেকে বোমা ফেলার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।"))-----প্রথম আলো
https://www.prothomalo.com/world/usa/4y2f7lgxia#
প্রথম আলোর এ খবর নিয়ে কিছু কথা:
গত বছরের (২০২৫) বারো দিনের যুদ্ধে এবং এবছরের (২০২৬) ৪০ দিন রমযানের যুদ্ধে এবং সর্বশেষ হোর্মুয প্রণালীর যুদ্ধে (জুলাই ২০২৬) মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) আসলে যুদ্ধবিমান খুব কম ব্যবহার করেছে। যেহেতু মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করে মাযুরা প্রায় সকল নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র শেষ করে ফেলেছে সেহেতু দেশটি এখনৎক্ষেপণাস্ত্র ঘাটতির সম্মুখীন হয়েছে যা আমি আগেও লিখেছিলাম ও বলেছিলাম:যুদ্ধবিমান ভূপাতিত ও পাইলট নিহত বা বন্দী হবার ভয়ে বাধ্য হয়ে মাযুরা ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করছে
।আর এ কারণেই মাযুরার সবচেয়ে দামী ও অত্যাধুনিক স্ট্র্যাটেজিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত কারী (ইন্টারসেপ্টর) থাডের মোট রিজার্ভের ৮০% এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মজুতেরও ৫০% (পুরো অর্ধেক) শেষ হয়ে গেছে।(সূত্র: সিএনএন,টাইমস অব ইসরায়েল,আনাদোলু বার্তা সংস্থা ইত্যাদি)
মাযুরা ক্ষেপণাস্ত্রের পর অত্যন্ত দামী ড্রোন সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছে এ যুদ্ধে।আর ইরান বহু দামী ও ব্যয়বহুল অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে।ইরান এ সব যুদ্ধে মাযুরার বিভিন্ন ধরনের বহু যুদ্ধ বিমান,রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট,পরিবহন বিমান,অ্যাওয়াকস বিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস ও অকেজো করেছে যা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্ববাসীর কাছে মাযুরা ও ইতরাইল এবং পশ্চিমা দেশগুলো তাদের অত্যাধুনিক বিমান শক্তি,বোমারু বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গর্ব ও অহংকার করে এবং এগুলো দিয়ে সবাইকে ভয়-ডর দেখায়। কিন্তু ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ সমূহে মাযুরা যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত হয়ে যাওয়ার সাথে পাইলটের (বিমান চালক) জান জেতে পারে বা ধরা পড়তে পারে বলে এ সব যুদ্ধে মাযুরা বিমান শক্তি খুব কম ও অত্যন্ত সীমিত ব্যবহার করেছে।আর এর মানে হচ্ছে যে ইরান এ যুদ্ধে অত্যাধুনিক বিমান শক্তি নিয়ে মাযুরা ও ইতরাইলের গর্ব ও দর্প চূর্ণ করে দিয়েছে যা উপরোক্ত প্রতিবেদন থেকেও স্পষ্ট প্রতিভাত হয়।আর একই সাথে ইরান মাযুরার ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডারকেও তলানির দিকে নিয়ে গেছে অথবা শেষ করে দিয়েছে।তার মানে মাযুরার পরাশক্তির মর্যাদাকে ইরান গুড়িয়ে দিয়েছে ও পদদলিত করেছে।
আর এ কারণেই ৭-৮ বার ইরানের সকল অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিলেও শেষ মূহুর্তে এসে ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা করা থেকে পিছিয়ে গেছে ও বিরত থাকছে ।কারণ ইরানে হামলা করলে ইরান মাযুরাকে ছাড়বে না। তীব্র ও ভয়ঙ্কর ভাবে ইরান মাযুরার ওপর পাল্টা হামলা ও আঘাত হানবে এবং প্রতিশোধ নেবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ে।আর এভাবে পাল্টা কঠিন সফল ও কার্যকর আঘাত হেনে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ঘাঁটি সমূহ ধ্বংস করে পশ্চিমা দেশগুলোসহ মাযুরার বারোটা বাজাচ্ছে।
তাহলে ফলাফল হল এই যে ইরান মাযুরার ক্ষেপণাস্ত্র,ড্রোন ও বোমারু বিমানের গর্ব ও দর্প চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে ও দিচ্ছে। সেই সাথে মাযুরার যুদ্ধাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র সমূহের কার্যকারিতাও সবার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে।আর যুদ্ধ চলাকালে রাজধানী তেহরান সহ ইরানের আকাশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও দখলে নেওয়ার যে দাবি মাযুরা ও ইতরাইল করত তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে গেছে। আর এর মাধ্যমে এটাও প্রমাণিত হল যে পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম সমূহ ইরানের ব্যাপারে সবসময় মিথ্যা প্রচার করে। অতএব মিথ্যাবাদী এবং সত্য ও মিথ্যা মিশিয়ে সংবাদ পরিবেশন কারী পশ্চিমা সংবাদ ও প্রচার মাধ্যম সমূহের মিথ্যা প্রচার ও প্রোপাগান্ডা দিয়ে প্রভাবিত হওয়া একদম অনুচিত।
ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান