ইকনা জানায়, আনাদোলুর বরাত দিয়ে, রবিবার ভোরে দখলকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে পৃথক হামলায় দখলদার বসতি স্থাপনকারী ও সামরিক বাহিনী নির্মাণাধীন একটি মসজিদ এবং এক ফিলিস্তিনি বাড়ির অংশবিশেষে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। অন্য এক হামলায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
নাবলুসের দক্ষিণে কাসরা শহরের মেয়র আবদুল আজিম ওয়াদি জানিয়েছেন, দখলদার বাহিনী শহরের দক্ষিণাংশে হামলা চালিয়ে নির্মাণাধীন ‘আর-রাহমাহ’ মসজিদে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেখানকার কাঠ ও নির্মাণসামগ্রী আগুনে পুড়ে গেছে।
নাবলুসের পূর্বে সংলগ্ন ‘বাইত ফুরিক’ শহরে দখলদার বসতি স্থাপনকারীরা সামরিক বাহিনীর সহায়তায় ‘আদ-দাব্বাত’ পাড়ায় হামলা চালিয়ে এক বাসিন্দার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। বাড়িটিতে আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
তারা দেয়ালে আরবদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী স্লোগান ও লেখা স্প্রে করেছে এবং প্রতিশোধের দাবি জানিয়েছে।
পৃথক এক ঘটনায় স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, রামাল্লাহর পূর্বে ‘আইন সামিয়া’ এলাকায় এক পাথর কাটার কারখানায় দখলদার বাহিনীর হামলার পর কয়েকজন ফিলিস্তিনি শ্রমিক আহত হয়েছেন।
এই হামলায় শ্রমিকরা বিভিন্ন ধরনের আঘাত ও কালশিটে আক্রান্ত হয়েছেন এবং হামলাকারীরা চলে যাওয়ার আগে ভারী যন্ত্রপাতিতেও আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
এসব ঘটনা ঘটছে এমন সময়ে যখন গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিম তীরে দখলদার সত্তার সামরিক পদক্ষেপ ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীরা সেনাবাহিনীর সহায়তায় পশ্চিম তীরের উত্তরে নাবলুসের কাছে তাল শহরে হামলা চালিয়ে চার ফিলিস্তিনিকে শহীদ করেছে। ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষে দুই ইসরাইলি নিহত হয়েছে।
এই সহিংসতার পর দখলদার বাহিনী নাবলুস ও আশপাশের শহরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে।
ফিলিস্তিনি সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, অক্টোবর ২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনী ও দখলদাররা পশ্চিম তীরে অন্তত ১ হাজার ১৮২ জন ফিলিস্তিনিকে শহীদ করেছে, হাজার হাজার মানুষকে আহত করেছে এবং প্রায় ২৪ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। 4366225#