IQNA

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ৪০০০ ঘটনা ও চরম মানবিক সংকট

21:01 - August 05, 2026
সংবাদ: 3479580
গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ৪০০০ ঘটনা ও চরম মানবিক সংকট
গাজা সরকারের মিডিয়া দপ্তর জানিয়েছে, দখলদার ইসরাইলি সত্তা মার্কিন সমর্থিত যুদ্ধবিরতি ৪০০০ বারেরও বেশি লঙ্ঘন করেছে এবং ১২৫০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে শহীদ করেছে।
ইকনা জানায়, কুদস নিউজ নেটওয়ার্কের বরাত দিয়ে, গত বছরের ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরুর নয় মাসেরও বেশি সময় পরও দখলদার ইসরাইলি সত্তার হামলা অব্যাহত রয়েছে।
 
গাজা সরকারের মিডিয়া দপ্তর জানিয়েছে, এই সময়ে দখলদার সত্তা এখন পর্যন্ত ৪০০০ বারেরও বেশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং গড়ে প্রতিদিন ১৩.৪টি লঙ্ঘন নথিভুক্ত হয়েছে।
 
প্রতিবেদন অনুসারে, এই সময়ে ১২৫২ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ৪১২০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩০০ জনেরও বেশি শিশু, নারী ও বৃদ্ধ রয়েছেন। জুলাই মাস সবচেয়ে মারাত্মক ছিল, যেখানে ১৫২ জন শহীদ হয়েছেন।

;

 
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, দখলদার সত্তার হামলা শুরুর পর থেকে যুদ্ধের মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
 
মঙ্গলবার গাজায় প্রায় তিন বছর ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা ১১২ জন ফিলিস্তিনি শহীদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
 
ধ্বংসাত্মক হামলা অব্যাহত
 
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দখলদার সত্তার হামলা আবাসিক ভবন, বাজার, যানবাহন ও ক্যাফেতে অব্যাহত রয়েছে। অনেক পরিবার বোমাবর্ষণের মাত্র কয়েক মিনিট আগে উচ্ছেদের নির্দেশ পেয়েছেন এবং কেউ কেউ কোনো পূর্ব সতর্কবার্তাই পাননি।

7

জাতিসংঘের নিন্দা
 
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সাম্প্রতিক হামলাগুলোর নিন্দা করে বলেছেন, ‘অবিরাম হত্যাকাণ্ডের’ ধরন ‘ইসরাইলের ব্যাপক দায়মুক্তি’র ইঙ্গিত দেয়।
 
তিনি জোর দিয়ে বলেন: ‘ফিলিস্তিনিরা এমনকি ধ্বংসস্তূপের বাড়ি, আশ্রয়কেন্দ্র, রাস্তা ও শ্রেণিকক্ষেও নিহত হচ্ছেন।’
 
সহায়তা প্রদানে তীব্র সংকট
 
যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুসারে প্রতিদিন ৬০০টি সহায়তা ট্রাক, যার মধ্যে ৫০টি জ্বালানি ট্রাক, গাজায় প্রবেশ করার কথা। কিন্তু মিডিয়া দপ্তর জানিয়েছে, তেল আবিব বিভ্রান্তিকর পরিসংখ্যান দিয়ে এবং স্বাধীন তদারকি প্রতিরোধ করে সহায়তা প্রবেশ সীমিত করেছে এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণের ১৫ শতাংশেরও কম জ্বালানি প্রবেশ করেছে।
 
তাঁবু, কন্টেইনার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় আবাসন সামগ্রী প্রবেশও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
 
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পতন ও রোগী সংকট
 
গাজার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে যে, হাজার হাজার রোগী মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং রাফাহ ক্রসিং দিয়ে জরুরি স্থানান্তরের প্রয়োজন।
 
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ১৮ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি রোগীর গাজার বাইরে জরুরি স্থানান্তর প্রয়োজন।
 
পরিসংখ্যান অনুসারে, চিকিৎসার জন্য বেরোনোর অপেক্ষায় প্রতিদিন ৬ থেকে ১০ জন রোগী মারা যাচ্ছেন।
 
গাজার আশ-শিফা হাসপাতালের পরিচালক এ বিষয়ে বলেন: ‘প্রতিদিন মাত্র ৫০ জন রোগীকে বেরোনোর অনুমতি দেওয়া যথেষ্ট নয় এবং আমরা আরও জীবন হারাব।’
 
ক্যানসার রোগীদের সংকট
 
এই পরিস্থিতিতে গাজার ক্যানসার কেন্দ্রের পরিচালক সতর্ক করেছেন যে, ক্যানসার রোগীদের অবস্থা ‘বিপর্যয়কর’ হয়ে উঠেছে এবং প্রায় ১১ হাজার রোগী গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের তীব্র সংকট ও চিকিৎসার জন্য ভ্রমণের সুযোগের অভাবে ভুগছেন।
 
প্রতিবেদন অনুসারে, ক্যানসার ওষুধের ৬১ শতাংশ নেই এবং রেডিওথেরাপির অভাবে চিকিৎসকরা কিছু স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়েও পূর্ণ মাস্টেক্টমি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
 
জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের সতর্কবার্তা
 
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, যুদ্ধাপরাধ ঘটার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ এখনও বহাল রয়েছে এবং বাস্তুচ্যুতি, অবরোধ ও অবকাঠামোর পূর্ণ ধ্বংসের পরিস্থিতিতে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখা ‘অকল্পনীয়’।4368188
captcha