IQNA

জাপানে মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদীদের তুমুল বিতর্ক

17:58 - May 07, 2026
সংবাদ: 3479127
ইকনা: জাপানের কানাগাওয়া প্রদেশের ফুজিসাওয়া শহরে একটি মসজিদ নির্মাণের প্রকল্প নিয়ে তুমুল জনমত বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এটি দেশটিতে বিদেশি কর্মী গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা এবং ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী ও অভিবাসনবিরোধী মনোভাবের মধ্যে উত্তেজনার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

ইকনা’র বরাতে জাপান টাইমস জানিয়েছে, টোকিওর দক্ষিণে অবস্থিত ফুজিসাওয়া শহরে মসজিদ নির্মাণের এই প্রকল্পটি এখন জাপানের অভিবাসনবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

জাপান দ্রুত জনসংখ্যা হ্রাসের সংকটে রয়েছে। এই সংকটের কারণে দেশটি ক্রমশ আরও বেশি বিদেশি কর্মী, বিশেষ করে এশিয়ান দেশগুলো থেকে শ্রমিক নেওয়ার দিকে ঝুঁকছে। বর্তমানে জাপানে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৩৬০,০০০ জনে পৌঁছেছে, যা ১৯৮০-এর দশকে ছিল মাত্র কয়েক হাজার। ২০২৫ সালে জাপানে বিদেশিদের সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

প্রকল্পের ইতিহাস: ২০২১ সালে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় প্রায় ১,০০০ বর্গমিটার জমি কিনে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর উদ্দেশ্য ছিল এলাকায় ক্রমবর্ধমান মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় চাহিদা পূরণ করা।

কিন্তু এই প্রকল্পটি জাপানে উগ্র ডানপন্থী ও জাতীয়তাবাদীদের উত্থানের সময়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বিশেষ করে ‘সানসেইতো’ নামক দল (শ্লোগান: জাপানিরা আগে) নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়ার পর এই বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।

একজন ডানপন্থী ইউটিউবার এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে অপ্রমাণিত অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি প্রকল্পের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ এবং ইসলামি কবরস্থান নির্মাণের পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেন। যদিও এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, তবুও স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ ও উদ্বেগ বেড়েছে।

ফুজিসাওয়া পৌরসভা, যেটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে, হাজার হাজার প্রতিবাদী ফোন ও বার্তা পেয়েছে। এতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও ব্যাহত হচ্ছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে সংলাপের জন্য বৈঠক করেছে, কিন্তু উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি। একজন শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত মুসলিম বলেন, “আমরা সবাই জাপানকে ভালোবাসি। আমরা কখনো স্থানীয় সমাজের জন্য সমস্যা তৈরি করতে চাই না। আমরা তাদের আইন মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকটের সমাধানের জন্য মিথ্যা তথ্য ছড়ানো বন্ধ করতে হবে এবং মানবিক মূল্যবোধের ওপর জোর দিতে হবে।

জাপানের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুসলিমবিরোধী বক্তব্য বেড়েছে। 4350918#

captcha