IQNA

0:04 - November 04, 2019
সংবাদ: 2609564
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার এমপি ও দৈনিক ‘পুবের কলম’ পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান বলেছেন, বাংলার মুসলিমরা আরব, ইরান, ইরাক থেকে আসেনি। বর্ণবৈষম্যের কারণে তারা ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেছে। মুসলিমরা এখানকার ‘ভূমিপুত্র’।’

বার্তা সংস্থা ইকনা'র রিপোর্ট: শনিবার নয়াদিল্লিতে ‘ওয়েলফেয়ার পার্টি অব ইন্ডিয়া’ আয়োজিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি বিষয়ক জাতীয় কনভেনশনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি ওই মন্তব্য করেন।

দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব হল-এ অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে বিশিষ্ট সাংবাদিক আহমদ হাসান ইমরান এমপি বলেন, "অসমে এনআরসিতে ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে যাদের বাছা হয়েছে এবং যেভাবে মানুষকে নোটিশ দিয়ে পাঁচ/ছয় শ’ কিলোমিটার দূরে, মাত্র এক বা দু’দিনের মধ্যে হাজির হতে বলা হয়েছে, তা ছিল ‘সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। এমনও হয়েছে যে, কোনো ট্রাইব্যুনাল কতজনকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করতে পেরেছে, তা নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়েছে! কিন্তু এরপরেও যে চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো খুশি নয়। এমনকী অসমের প্রভাবশালী মন্ত্রী যিনি আগে কংগ্রেস করতেন ও পরে আরএসএস- বিজেপি করেন, সেই হিমন্ত বিশ্বশর্মা ওই তালিকা মানছেন না!"

আহমদ হাসান বলেন, "বাংলাতেও এনআরসি নিয়ে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে। হিন্দু-মুসলিমসহ বেশ কয়েকজন আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন, বাংলায় কোনও এনআরসি হবে না।"

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (ক্যাব) প্রসঙ্গে আহমদ হাসান বলেন, "নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (ক্যাব) পাস হলে ওপার থেকে আসা হিন্দু বাঙালিরাও ব্যাপক সমস্যায় পড়বেন। কারণ, তাদেরকে প্রমাণ করতে হবে যে, তারা বাংলাদেশ থেকে ‘নির্যাতিত’ হয়ে এসেছে। তাছাড়া তাদের নিজেকে প্রথমে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করতে হবে, তারপরে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হবে।"

ওই সম্মেলনে ওয়েলফেয়ার পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি ড. এস কিউ আর ইলিয়াস বলেন, "রাজনৈতিক স্বার্থে দলিত, সংখ্যালঘু ও অশিক্ষিত মানুষদের ভয় দেখানোর জন্য এনআরসি করার কথা বলা হচ্ছে। আইনি দিক দিয়ে গোটা পদ্ধতি ভারতীয় সংবিধান বিরোধী। সেজন্য এই বিষয়ে সমস্ত জাতি, ধর্ম, ভাষার মানুষকে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে।"

তিনি বলেন, "মনে রাখতে হবে, এনআরসি ইস্যু শুধু মুসলিমদের ইস্যু নয়। এটা ভারতীয় সমস্যা ও আন্তর্জাতিক সমস্যা।"

সভায় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সর্বভারতীয় সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, "এটা আল্লাহর ইচ্ছা যে, অসমে ষাট/সত্তর লাখ মুসলিমকে এনআরসি থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। আলহামদুলিল্লাহ, মুসলিমদের বিরুদ্ধে ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে যে অভিযোগ উঠেছিল, তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। যে পাঁচ/ছয় লাখ মুসলিমের নাম বাদ গিয়েছে, সেজন্য এখনও আইনি পথ খোলা আছে। আশাকরি সমাধান আসবে। আমরা আল্লাহর উপরে ভরসা রাখি, এনআরসি থেকে বাদ পড়া ওই সব মানুষ একদিন সুবিচার পাবেন।"

তিনি বলেন, "মুসলিমরা এখানে আসেনি। এখান থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছে। ফ্রান্স, আমেরিকায় গিয়েছে। মুসলিমরা বাইরে থেকে আসেনি। আমরা অসমে ‘ডি ভোটার’ থেকে মানুষকে মুক্ত করার যে লড়াই চালাচ্ছি, সেখানে হাজার হাজার হিন্দু আছে। আমরা তাদের জন্যও কাজ করছি।"

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, "ধর্মীয়ভাবে নাগরিকদের বিভক্ত করা চলবে না। আমরা আদালতে লড়াই করব। সুপ্রিম কোর্টের অধীনে এনআরসি হলে কমপক্ষে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে যেন না হয়, সেটা দেখতে হবে। সরকারের উদ্দেশ্য বিভেদের মাধ্যমে এনআরসি করা। এটা হলে দেশের জন্য ভয়ংকর হবে।"

সম্মেলনে ‘অল অসম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’ বা ‘আমসু’র উপদেষ্টা আজিজুর রহমান বলেন, "অসমে বেনাগরিক হওয়ার আগেই ভাষাগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর বৈষম্য হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের অধীনে এনআরসি হলেও নিয়ন্ত্রণ করছে কিছু রাজনৈতিক দল ও কর্মকর্তা। বহু লোক এমন আছে, যাদের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে ভারতীয় নাগরিক ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের নাম এনআরসিতে আসেনি।" ইচ্ছে করে এনআরসি থেকে অনেক নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও ‘আমসু’ নেতা আজিজুর রহমান মন্তব্য করেন।

ওই সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামি হিন্দের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মাদ সেলিম, অসমের বিশিষ্ট আইনজীবী ও সমাজসেবী হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী, দিল্লি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অপূর্বানন্দ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পার্সটুডে

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য: