IQNA

গাজা: জন্মের আগেই যে প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে

14:51 - July 29, 2026
সংবাদ: 3479545
গাজা: জন্মের আগেই যে প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
ইকনা’র প্রতিবেদন: লন্ডনভিত্তিক একটি কেন্দ্রের প্রতিবেদন অনুসারে, গাজায় ইসরাইলি গণহত্যার যুদ্ধ গর্ভবতী নারী, দুগ্ধদানকারী মা এবং নবজাতকদের অভূতপূর্ব সংকটের মুখে ফেলেছে। হাজার হাজার নারীর জন্য গর্ভধারণ এখন “চিকিৎসা সেবার নয়, বরং ভাগ্যের উপর নির্ভরশীল বিষয়” হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আলমায়াদিনের বরাত দিয়ে জানা যায়, ব্রিটেনে অবস্থিত ‘প্যালেস্টাইন রিটার্ন সেন্টার’ “আগুনের নিচে গর্ভধারণ: গাজায় প্রজনন সহিংসতা ও মাতৃজীবনের ধ্বংস” শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে জাতিসংঘ, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে যুদ্ধের প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শেষ হলেও এই সংকটের প্রভাব শেষ হবে না। অপুষ্টি, বাস্তুচ্যুতি ও মানসিক আঘাত একটি পুরো প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও বিকাশকে বছরের পর বছর প্রভাবিত করতে পারে।

যুদ্ধ যা মায়ের গর্ভে পৌঁছেছে

প্রতিবেদন অনুসারে, যুদ্ধের সহিংসতা শুধু হত্যা ও ধ্বংসে সীমাবদ্ধ নয়, বরং জীবন গঠনের প্রথম পর্যায়েও প্রবেশ করেছে এবং জন্মের আগেই শিশুদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করছে।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের তথ্য অনুসারে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপুষ্টির গুরুতর ঝুঁকিতে থাকা গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারীর সংখ্যা প্রায় ৫৫ হাজারে পৌঁছাবে — যা ২০২৫ সালের মাঝামাঝির ১৭ হাজারের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি। গাজায় জন্ম নেওয়া প্রতি পাঁচজন নবজাতকের একজন অপরিণত বা কম ওজনের।

মাতৃস্বাস্থ্য সেবার পতন

প্রতিবেদনে গাজার প্রসব সেবাকে “সম্পূর্ণ পতনের দ্বারপ্রান্তে” বলা হয়েছে। ৩৭টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ২০টি সীমিতভাবে চালু আছে এবং কোনোটিই পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে না। ওষুধ, রক্ত, জ্বালানি ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে অনেক নারী অ্যানেস্থেশিয়া ছাড়াই ভিড়পূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্র বা অস্থায়ী স্থানে প্রসব করছেন।

ব্যাপক অপুষ্টি

সেভ দ্য চিলড্রেনের তথ্য অনুসারে, জুলাইয়ের প্রথমার্ধে পরীক্ষা করা ৭৪৭ জন নারীর মধ্যে ৩২৩ জন অপুষ্টিতে ভুগছিলেন — অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক। ডাক্তারস উইদাউট বর্ডারসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ যত্নের প্রয়োজন এমন নবজাতকের মায়েদের অর্ধেকেরও বেশি গর্ভকালে অপুষ্টিতে ভুগেছেন। এদের ৯০% নবজাতক অপরিণত, ৮৪% কম ওজনের এবং মৃত্যুর হার স্বাভাবিক পুষ্টির মায়েদের নবজাতকের তুলনায় দ্বিগুণ।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মে জৈবিক ক্ষতির স্থানান্তর

প্রতিবেদনে দীর্ঘস্থায়ী বোমাবর্ষণ, বাস্তুচ্যুতি, ক্ষুধা ও শোকের মানসিক প্রভাব নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। গর্ভবতী নারীদের দীর্ঘস্থায়ী তীব্র চাপ ভ্রূণের বিকাশকে ব্যাহত করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মে স্থায়ী জৈবিক ক্ষতি স্থানান্তর করতে পারে।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলও সতর্ক করেছে যে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নারী ও মেয়েদের অবস্থা মানবিক সংকট, চলাচলের বিধিনিষেধ, সহিংসতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। 4366832#

captcha