IQNA

10:45 - August 09, 2026
সংবাদ: 3479601

কুর্দি সমাজে কুরআনের গভীর প্রভাব ও সাংস্কৃতিক সহাবস্থানের অনন্য চিত্র

ইরাকি পরিচালক ও প্রযোজক হায়দার গানির নতুন প্রকল্প ‘কুর্দিরা ও কুরআনের ভাষা’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্রটি ইরাকি কুর্দিস্তানে চিত্রধারণ করা হয়েছে।

কুর্দি সমাজে কুরআনের গভীর প্রভাব ও সাংস্কৃতিক সহাবস্থানের অনন্য চিত্র

ইকনা সংস্থার প্রতিবেদনে আল-মাদির বরাতে জানানো হয়েছে, এই প্রামাণ্যচিত্রে কুর্দি ও আরবি ভাষার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং কুর্দি সমাজে কুরআনের প্রভাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। জাতীয় চলচ্চিত্র নির্মাণ সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রকল্প সরকারি অনুদানও পেয়েছে।

গানী এই চলচ্চিত্র সম্পর্কে বলেন, «এই ছবি আরবিকে কোনো জাতীয় বা রাজনৈতিক ভাষা হিসেবে দেখে না। বরং কুরআনের ভাষা হিসেবে এটিকে দেখা হয়েছে এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কীভাবে এই ভাষা ইরাকি কুর্দিস্তানের একটি বড় অংশের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে—সেই বিষয়টিই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে কুর্দিরা নিজেদের ভাষা, পরিচয় ও ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। এই সাংস্কৃতিক সহাবস্থানই আমাকে মুগ্ধ করেছে।»

তিনি আরও বলেন, «ইরাক সবসময় বৈচিত্র্যের একটা জায়গা। আমার বিশ্বাস, সিনেমাকে শুধু যুদ্ধ ও সংঘাতের গল্পই নয়, এই বৈচিত্র্যকেও নথিভুক্ত করতে হবে। আমার মতে, একটি সত্যিকারের প্রামাণ্যচিত্র তৈরি উত্তর দেয় না, বরং প্রশ্ন তোলে এবং দর্শকের চিন্তার জন্য জায়গা করে দেয়। এই প্রকল্পে আমি ঠিক সেটাই করতে চেয়েছি।»

হায়দার গানী একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পরিচালক এবং সিনেমা ও টেলিভিশনের চিত্রগ্রাহক। তিনি আলোক পরিকল্পনা ও মিডিয়া প্রযোজনায়ও দক্ষ। ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায় চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে তাঁর ২০ বছরেরও বেশি পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিনেমায় পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই পরিচালক ইরাকি, আরব ও আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আরামেশে এক মাকান’, ‘তাসখির শোদা’ এবং ‘খানে’।

মুস্তাফা হাসান রচিত চিত্রনাট্য তাঁকে কেন আকৃষ্ট করেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে গানী বলেন, «আমি লক্ষ্য করেছি যে ধারণাটা শুধু তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয়, বরং মানবিক উপাদানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। চিত্রনাট্য চরিত্রদেরকে শুধু তথ্যের উৎস হিসেবে নয়, বরং স্মৃতির বাহক হিসেবে দেখেছে। একজন পরিচালক হিসেবে এটা আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আরেকটা বিষয় যা আমাকে আকৃষ্ট করেছে তা হলো—চিত্রনাট্য বক্তৃতা এড়িয়ে গেছে এবং ছবিগুলোকে নিজেদের কথা বলার সুযোগ দিয়েছে। আমার কাছে প্রামাণ্যচিত্র মানে ক্যামেরায় ধারণ করা কোনো ভাষণ নয়, বরং নিজস্ব ছন্দ ও কাব্যিক গুণসম্পন্ন একটা দৃশ্যমান ভাষা।»

তিনি আরও বলেন, এই চিত্রনাট্য তাঁকে পরিচালন দৃষ্টিভঙ্গি বিকশিত করার পর্যাপ্ত জায়গা দিয়েছে, যা ছবি, শব্দ, নীরবতা, প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং দৈনন্দিন জীবনের সূক্ষ্ম বিবরণের ওপর নির্ভরশীল।

গানী বলেন, «এই চলচ্চিত্রে আমি একটা সম্পূর্ণ দৃশ্যমান জগত গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছি—যা শুরু হয় কুর্দি অধ্যুষিত শহর ও তাদের ইতিহাস দিয়ে, তারপর শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হয়ে ঘরবাড়ি, বাজার এবং সরল মানবিক কথোপকথন পর্যন্ত পৌঁছে যায়। যাতে দর্শক শুধু শোনেন না, বরং এই অভিজ্ঞতাটা নিজেরাই অনুভব করেন।»

তিনি যোগ করেন, «আমার কাছে যেকোনো প্রামাণ্যচিত্রের সাফল্য শুরু হয় এমন এক চিত্রনাট্য দিয়ে, যা দর্শকের বুদ্ধি ও প্রজ্ঞাকে সম্মান করে। আমি সেটাই এই চিত্রনাট্যে পেয়েছি।»

চলচ্চিত্র নির্মাণের অর্থায়ন প্রসঙ্গে এই ইরাকি পরিচালক বলেন, «সিনেমা সহায়তা উদ্যোগ কমিটি এই চলচ্চিত্রকে সমর্থন করেছে, যা ইরাকি চলচ্চিত্র নির্মাণে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাদের সহায়তা পাওয়া এই প্রকল্পকে তার ধারণা বাস্তবায়নের প্রকৃত সুযোগ করে দিয়েছে। তবে আমি মনে করি না যে এ ধরনের সহায়তা কোনো সমন্বিত চলচ্চিত্র অর্থায়ন ব্যবস্থার বিকল্প হতে পারে।»

ভাষাকে কেন্দ্র করে এমন চলচ্চিত্র নির্মাণের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে গানী জোর দিয়ে বলেন, «অবশ্যই উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ ভাষা নিয়ে কথা বলা কোনো স্থান বা ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে কথা বলার মতো নয়। ভাষা একটা অদৃশ্য ধারণা, আর সিনেমা নির্ভর করে ছবির ওপর। মূল অসুবিধাটা এখানেই নিহিত।» 4368782#

captcha