IQNA

12:54 - August 10, 2026
সংবাদ: 3479609
মজলিস গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিবেদন:

জায়োনিস্ট শাসনের যুদ্ধের ধর্মতত্ত্বই সম্প্রসারণবাদ ও দখলদারিত্বের চালিকাশক্তি

মজলিস গবেষণা কেন্দ্র তার নতুন প্রতিবেদনে জায়োনিস্ট শাসনের আচরণকে কেবল সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সমালোচনা করেছে। কেন্দ্রটি জোর দিয়ে বলেছে, এই শাসনের যুদ্ধনীতি সঠিকভাবে বুঝতে হলে তার সমাজের গভীর ধর্মতাত্ত্বিক ও পরিচয়মূলক স্তরগুলো অনুসন্ধান করা অপরিহার্য।

জায়োনিস্ট শাসনের যুদ্ধের ধর্মতত্ত্বই সম্প্রসারণবাদ ও দখলদারিত্বের চালিকাশক্তি

ইকনা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন: ইসলামী পরামর্শ পরিষদের গবেষণা কেন্দ্রের সংস্কৃতি ও শিক্ষা গবেষণা দপ্তর প্রকাশিত «জায়োনিস্ট শাসনে ‘যুদ্ধের’ ধর্মতাত্ত্বিক শিকড়» শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শাসনের সামরিক আচরণ মূল্যায়ন করতে গেলে তার কৌশলগত নীতির ওপর প্রভাব ফেলা পরিচয়মূলক ও ধর্মীয় চালিকাশক্তিগুলো বুঝে না নিলে মূল্যায়ন অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর হবে।

এই গবেষণায় কেবল ভৌগোলিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণের পর্যাপ্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে যুক্তি দেখানো হয়েছে যে জায়োনিস্ট সমাজ একক নয়; বরং সেখানে চারটি ধারা রয়েছে—সেকুলার, ঐতিহ্যবাহী, ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী এবং হারেদি। প্রত্যেকটি ধারার যুদ্ধের ধারণা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

প্রতিবেদনের মূল অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর মূল কাঠামো সেকুলার ধারার হলেও ধর্মীয় জায়োনিজম (ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী) ধারাটি তাদের জনসংখ্যার অনুপাতের চেয়ে অনেক বেশি প্রভাবশালী। তারা যুদ্ধনীতি নির্ধারণ এবং সামরিক বাহিনীর ওপর আধিপত্য বিস্তারকারী মতাদর্শ গঠনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।

গবেষণা অনুসারে, রাব্বি কুক (পিতা ও পুত্র)-এর চিন্তাধারা ধর্মীয় জায়োনিজমের মতাদর্শের ভিত্তি। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে জায়োনিস্ট শাসনের আধুনিক যুদ্ধগুলোকে «ঐশী পবিত্রতা ও বৈধতা»সম্পন্ন বলে বিবেচনা করা হয় এবং এই শাসনের প্রতিষ্ঠাকে «মুক্তির প্রক্রিয়ার সূচনা» হিসেবে দেখা হয়। এই কাঠামোয় যুদ্ধকে রাজনৈতিক হাতিয়ার নয়, বরং তৌরাতের প্রতিশ্রুতি—বিশেষ করে «প্রতিশ্রুত ভূমি» (নীল থেকে ফুরাত পর্যন্ত) সম্পূর্ণ দখল ও নিয়ন্ত্রণ—বাস্তবায়নের একটি ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।

প্রতিবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান হলো ইহুদি ধর্মতত্ত্বে যুদ্ধের অ-বস্তুগত দিকগুলোর ওপর জোর দেওয়া। দোয়া, তওবা ও তৌরাত পাঠকে বস্তুগত অস্ত্রের পাশাপাশি বিজয় অর্জনে কার্যকর উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হারেদি ধারা ধর্মীয় স্কুলের ছাত্রদেরকে «আধ্যাত্মিক সেনাবাহিনী» এবং স্থলযুদ্ধের পরিপূরক হিসেবে উপস্থাপন করে।

গবেষণার আরেকটি অংশে দখলকৃত ভূমির অন্যতম সংবেদনশীল সামাজিক ফাটলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেকুলার ধারা যুদ্ধ ও অর্থনীতির মূল বোঝা বহন করে, অন্যদিকে হারেদি ধারা সামরিক চাকরি থেকে অব্যাহতি ও সরকারি ভর্তুকি পাওয়ার ওপর জোর দেয়। এই ফাটলকে একটি কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা দীর্ঘস্থায়ী সংকটে প্রতিরোধ অক্ষের জ্ঞানভিত্তিক অভিযান ও মিডিয়া যুদ্ধে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে গবেষণায় বলা হয়েছে, বাইরের হুমকি কখনো কখনো এই ফাটল সাময়িকভাবে কমিয়ে অভ্যন্তরীণ ঐক্য বাড়াতে পারে।

সবশেষে প্রতিবেদনে দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুপারিশ করা হয়েছে যে, তারা সামাজিক-ধর্মতাত্ত্বিক ফাটলগুলোর সুযোগ নিয়ে বৈশ্বিক জনমত ও জায়োনিস্ট সমাজের অভ্যন্তরে এই শাসনের নীতির সমালোচনা ছড়িয়ে দিক। একইসঙ্গে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, দেশের কূটনীতি একটি বিকল্প বয়ান তৈরি করে—বিশেষ করে ইহুদি ধর্মকে ধর্মীয় জায়োনিজমের যুদ্ধবাজ ধর্মতত্ত্ব থেকে আলাদা করে—আন্তর্জাতিক সমাজ এবং এমনকি দখলকৃত ফিলিস্তিনের বাইরের ইহুদি সম্প্রদায়কেও এই শাসনের সম্প্রসারণবাদী ও দখলদার নীতির সমালোচনায় একত্রিত করার সুযোগ তৈরি করুক। 4368986

captcha