IQNA

0:01 - July 21, 2020
সংবাদ: 2611176
তেহরান (ইকনা): বর্তমানে বিশ্বে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি সম্ভাব্য করোনা ভ্যাকসিন। ব্রাজিলে ভ্যাকসিনটির পরীক্ষার সর্বশেষ ধাপ ফেজ থ্রি হিউম্যান ট্রায়াল চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে, গতকাল সোমবার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ফেজ ওয়ান ট্রায়ালের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান পত্রিকা ল্যানসেটে। সেখানে বলা হয়েছে, ফেজ ওয়ান ও টু পরীক্ষায় করোনার বিরুদ্ধে মানব শরীরে ভ্যাকসিনটি জোড়া প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার দিক থেকেই শুধু নয়, ফলাফলেও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যতিক্রমী। ল্যানসেটে প্রকাশিত রিপোর্টে সারা গিলবার্টের নেতৃত্বে অক্সফোর্ডের গবেষকরা জানিয়েছেন, অ্যান্টিবডি তৈরির পাশাপাশি তাদের তৈরি ভ্যাকসিন করোনার বিরুদ্ধে ‘টি-সেলস’ তৈরিতেও সক্ষম। মডার্না, ফাইজার, বায়োএনটেকসহ বিশ্বের অনেক সংস্থাই তাদের ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালাচ্ছে। কিন্তু, তাদের কেউ এখনো পর্যন্ত দাবি করতে পারেনি যে, তাদের ভ্যাকসিনে অ্যান্টিবডির সঙ্গে ‘টি-সেলস’ তৈরি হচ্ছে।

ভ্যাকসিনের অত্যাবশ্যকীয় দু’টি উপাদান হলো এই অ্যান্টিবডি এবং ‘টি-সেল’ রেসপন্স তৈরি করা। অ্যান্টিবডি শরীরের মধ্যে থাকা ভাইরাস চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং ভাইরাসের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়। আর ‘টি-সেলস’ শুধু অ্যান্টিবডি তৈরিতে সাহায্যই করে না, ভাইরাসে আক্রান্ত কোষগুলোর ওপরেও কাজ করে এবং ভাইরাসকে নিষ্ক্রীয় করে দেয়। হাম, সর্দি-কাশির মতো রোগে এই টি-সেলস অত্যন্ত কার্যকর। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি খুব বেশি দিন থাকে না। কিন্তু এই টি-সেলস শরীরের মধ্যে বহু বছর পর্যন্ত থাকে। পরবর্তীতে কখনো ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে, এগুলোই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে এবং তার কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সহযোগী সংস্থা অ্যাস্ট্রাজেনেকার মাধ্যমে ফেজ ওয়ান ট্রায়ালে এক হাজার জনের উপর পরীক্ষামূলক ভাবে তাদের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে। পরে তাদের রক্তের নমুনা পরীক্ষায় করোনা প্রতিরোধে সক্ষম অ্যান্টিবডি ও ‘টি-সেল’- দু’য়েরই অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এই দ্বিগুণ সক্ষমতাই অক্সফোর্ডের স্বাতন্ত্র এবং তাদের জন্য দ্রুত সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
সূত্র : স্কাই নিউজ

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: