IQNA

17:01 - August 13, 2026
সংবাদ: 3479625

ইরানের ১০ বিলিয়ন বনাম আমেরিকার ১ ট্রিলিয়ন: যুদ্ধের অসামঞ্জস্য হিসাব

 পেন্টাগনের দাবি মতে ইরান যদি ইরাক যুদ্ধ চলাকালে এ যুদ্ধে ঘোষণা দিয়ে সরাসরি অংশগ্রহণ না করেই ২০০৩-২০১১ পর্যন্ত ৬০৮ জন মাযুরা সৈন্য (গড়ে প্রতি বছর ৭৬ জন) হত্যা করে থাকে তাহলে এখনকার ঘোষিত প্রত্যক্ষ যুদ্ধে ইরান সমগ্র পশ্চিম এশিয়া (মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে) মাযুরার এত সব প্রকাশ্য ও গোপন সামরিক ঘাঁটি, স্থাপনা,বিমান,ফাইটার,জঙ্গী বিমান, হেলিকপ্টার ইত্যাদি ব্যপক ধ্বংস করে দিলেও মাযুরার মাত্র ১৪ বা ১৮ জন সৈন্য নিহত ও ৬৪৫ জন সৈন্য আহত হয়েছে বলে পেন্টাগন যে দাবি করেছে তা কি বিশ্বাস করা যায়?!!

ইরানের ১০ বিলিয়ন বনাম আমেরিকার ১ ট্রিলিয়ন: যুদ্ধের অসামঞ্জস্য হিসাব

নিউজ উইকের এই পুরোনো খবর এবং বর্তমানে চলমান ইরান-মাযুরা যুদ্ধে পেন্টাগনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও বয়ান নিয়ে কিছু পর্যালোচনা:
 পেন্টাগনের দাবি মতে ইরান যদি ইরাক যুদ্ধ চলাকালে এ যুদ্ধে ঘোষণা দিয়ে সরাসরি অংশগ্রহণ না করেই ২০০৩-২০১১ পর্যন্ত ৬০৮ জন মাযুরা সৈন্য (গড়ে প্রতি বছর ৭৬ জন) হত্যা করে থাকে তাহলে এখনকার ঘোষিত প্রত্যক্ষ যুদ্ধে ইরান সমগ্র পশ্চিম এশিয়া (মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে) মাযুরার এত সব প্রকাশ্য ও গোপন সামরিক ঘাঁটি, স্থাপনা,বিমান,ফাইটার,জঙ্গী বিমান, হেলিকপ্টার ইত্যাদি ব্যপক ধ্বংস করে দিলেও মাযুরার মাত্র ১৪ বা ১৮ জন সৈন্য নিহত ও ৬৪৫ জন সৈন্য আহত হয়েছে বলে পেন্টাগন যে দাবি করেছে তা কি বিশ্বাস করা যায়?!!
মাযুরা কিভাবে দাবি করে যে ২০০৩-২০১১ পর্যন্ত ইরাকে ইরান ৬০৮ জন মাযুরা সৈন্যকে হত্যা করেছে অথচ একজন ইরানী যোদ্ধা ধরা না পড়ে নি?
এই সৈন্যদের ইরান মারতে যাবে কেন এদেরকে তো স্বাধীনতা কামী প্রতিরোধ সংগ্রামী ইরাকী যোদ্ধারাই গেরিলা অভিযান চালিয়ে হত্যা করেছে দেশের স্বাধীনতা উদ্ধার এবং মাযুরার জবর দখল ও দখলদারিত্বের অবসান ঘটানোর জন্য।আর এখনকার ঘোষিত প্রত্যক্ষ যুদ্ধে ইরান এতসব ক্ষেপণাস্ত্র,ড্রোন ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার এবং মাযুরার এতসব ঘাঁটি মাটি ধ্বংস করে মাত্র ১৪ বা ১৮ জন মাযুরা সৈন্যকে হত্যা করেছে!!!!
যুদ্ধের সমীকরণ ও হিসাব নিকাশে কি পেন্টাগনের এ দাবি গ্রহণযোগ্য?!!
তাহলে বলতে হবে যে মাযুরার সৈন্যদের শারীরিক গঠন ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করে নির্মিত অতি মযবূত অত্যাধুনিক সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা এমনকি মাযুরার ভারী অত্যাধুনিক বিমান, হেলিকপ্টার ও সামরিক যান ও যন্ত্রপাতির লোহা লক্করের চেয়েও অধিক অধিক অধিক মযবূত, শক্ত ও শক্তিশালী যা শক্তিশালী গোলা,ক্ষেপণাস্ত্র,বোমার আঘাতেও ধ্বংস হয় না আগুনে  জ্বলে পুড়ে ছাই ভস্ম পর্যন্ত হয় না যেন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর ছুপার ম্যানের অবিনশ্বর ইস্পাত কঠিন বুনিয়ানুম্ মার্সূস্ (بنیان مرصوص) অর্থাৎ সীসা ঢালা প্রাচীরের মত দৃঢ় মযবূত বা তার চেয়েও শক্ত ছুপার বডি (শরীর ও দেহ)!!!! কাকতালীয় ভাবে মাযুরার এই ১৪ বা ১৮ জন সৈন্য নিহত এবং ৬৪৫ জন সৈন্য আহত হয়ে গেছে!!!এই যা!!!
আর এত সামান্য হতাহত নিয়েই মাযুরার গোটা সশস্ত্র বাহিনী দিশেহারা হয়ে চোখে সর্ষে ফুল দেখছে শুধু!!!!এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে অপরাধ,অপকর্ম,দুষ্কর্ম,পাপ,যুলুম ও অন্যায়ের হোতা হিতাহিত জ্ঞান হারা বদ্ধ উন্মাদ প্রেচি ট্রাম্প ও তার সরকারের সাথে দেশটির সেনাবাহিনী এবং নিরাপত্তা-গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের কর্মকর্তাদের তীব্র দ্বন্দ্ব,কোন্দল ও মতপার্থক্যের জেরে দেশটির সেনা প্রধান সহ ২৬ জন জেনারেল ও উচ্চ পদস্থ সামরিক অফিসার এবং বেশ কিছু নিরাপত্তা কর্মকর্তা এমনকি মাযুরা সরকারের ক্যাবিনেটের কতিপয় মন্ত্রী পর্যন্ত অপসারিত হয়েছে বা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে!!!!!
পেন্টাগনের এ সব অবাস্তব বক্তব্য, দাবি ও রিপোর্ট আষাঢ়ে গাঁজাখুরি গালগপ্পো, কল্পকাহিনী ও রূপকথাকেও হার মানাবে।
প্রেচি ট্রাম্প তো ইরানের সশস্ত্র বাহিনী,বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর ৯০% ভাগ এবং ৯০% ক্ষেপণাস্ত্র ৭-৮ বার ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে!বদ্ধ উন্মাদ ও জঘন্য মিথ্যুক হলে এমন কথা বলা সম্ভব।আর ৭-৮ বার ইরানের সেনাবাহিনী,বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী ধ্বংস করার অর্থ হচ্ছে প্রতিবার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঠিক পর পরই দৈবক্রমে ইরানী সেনাবাহিনী,বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর পুনর্জন্ম ও পুন:আবির্ভাব ঘটেছে এবং তা নতুন করে রাতারাতি গজিয়ে গেছে হিন্দুদের তথাকথিত পুনর্জন্মবাদ ও পৌরাণিক কল্প-কাহিনীর মতো 
।আর তা না হলে ৭-৮ বার ইরানী সশস্ত্র বাহিনী,বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস হয়ে  যাওয়ার পর ইরান মাযুরার ওপর কিভাবে ভয়ঙ্কর ভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েই যাচ্ছে এবং হোরমুয প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করছে কী দিয়ে? জ্বিন-ভূত-প্রেত বাহিনী দিয়ে নাকি বারবার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর বারবার যিন্দা হওয়া নৌবাহিনী দিয়ে!!!এ যেন হরর থ্রিলার সিনেমাকে হার মানাবে।তাই পেন্টাগনের বয়ান মতে ইরানের ওপর মাযুরা-ইতরাইলের (ইসরাইল) চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ যাদুকরী রূপকথার রূপ নিয়েছে। আমাদের এখন কষ্ট করে রূপকথার বই পড়তে হবে না।ইরানের ওপর মাযুরা-ইতরাইলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের দিকে তাকালেই আমরা বুঝতে পারব যে ইরানী বীর মুজাহিদ যোদ্ধারা রূপকথার অজেয় অপরাজেয় বীর যোদ্ধাদের মতো আবির্ভূত হয়েছেন। অর্থাৎ এ যুদ্ধটা এবং ইরানী সশস্ত্র বাহিনীর তীব্র প্রতিরোধ যেন অতি কাল্পনিক উপাখ্যান ও মিথোলোজির চেয়েও অতি মাত্রায় আশ্চর্য জনক ও বিস্ময়কর।কারণ ইরান সর্বসাকুল্যে ১০ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি সামরিক বাজেট নিয়ে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অধিক সামরিক বাজেটের মাযুরা সেনাবাহিনীকে পরাজিত ও ব্যর্থ বরং নাস্তানাবুদ করেছে। কারণ মাযুরা বাহিনীর গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির কথা আজ কে না জানে? মাযুরার অত্যাধুনিক এবং সবচেয়ে দামী ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী থাড ইন্টারসেপ্টরের ৮০% ভাগ এবং প্যাট্রিওট ক্ষেপণাস্ত্রের ৫০% এর অধিক ব্যয়িত হয়ে গেছে এবং এদেশটির দূরপাল্লার স্ট্রাটেজিক ২৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্রের অধিকাংশই শেষ হয়ে এখন মাত্র ৭০০-৮০০টি এই ক্ষেপণাস্ত্র বাকি ও অবশিষ্ট আছে।আর যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়ে পাইলট হারানোর ভয়ে বিমান শক্তির বহুল ব্যবহার এড়িয়ে খুব কম ব্যবহার করে অতিরিক্ত মাত্রায় ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভর করায় মাযুরার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে!!! তাহলে কোথায় ইরানের ১০ বিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেট এবং ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অধিক মাযুরার সামরিক বাজেট।এ যেন রূপকথার আকাশ পাতাল ফারাক ও ব্যবধান। তাহলে কেন এ যুদ্ধ মিথ ও উপাখ্যানকেও হার মানাবে না?!!
کم من فئة قلیلة غلبت فئة کثیرة بإذن الله 
কাম্ মিন্ ফিআতিং ক্বলীলাতিন ঘলাবাৎ ফিআতাং কাথ়ীরাতাম্ বিইযনিল্লাহ্ (আল্লাহর অনুমতিতে কত যে ক্ষুদ্র গোষ্ঠী ও দল বৃহৎ গোষ্ঠী ও দলের ওপর বিজয়ী হয়েছেন)-পবিত্র কুরআনের সূরা-ই বাকারার ২৪৯ আয়াতের ভিত্তিতে ইরানের কাছে মাযুরার  পরাজয় ও মার খাওয়ার মূল রহস্য স্পষ্ট বোধগম্য হয়ে যায় যা রূপকথাকেও হার মানিয়েছে।
তাই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত কারী ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতির কারণে মাযুরার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে অকেজো ও অকার্যকর হয়ে গেছে এবং এখন মাযুরা সেনাবাহিনী ইরানের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করতে এবং ঠেকাতে পারছে না বলেই প্রেচি ট্রাম্প বার বার ইরানের অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিয়েও তা কার্যকর করতে পারছে না।কারণ এ কাজ করতে গেলে ইরান পাল্টা ইসরাইল সহ অত্র অঞ্চলের মাযুরার সকল মিত্র দেশের অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে যার ক্ষতির ঠেলা সামলানো মাযুরা ও তার মিত্রদের জন্য অসম্ভব ও অসহনীয় হয়ে যাবে!!!!!!
তাই মাযুরার প্রচারণায় প্রভাবিত ও বিভ্রান্ত না হয়ে আমাদের সবার উচিত প্রকৃত সত্য ও বাস্তবতা (হক ও হাকীকত) যথার্থ ভাবে উপলব্ধি ও অনুধাবন (দার্ক্ ও ফাহম درک و فهم ) করা।
ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
১০-৮-২০২৬

captcha