IQNA

0:01 - January 11, 2021
সংবাদ: 2612096

করোনায় প্রথম মৃত্যুর এক বছর, উৎস এখনো অজানা

তেহরান (ইকনা): গত বছরের ১১ জানুয়ারি করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যু দেখে বিশ্ব। সংক্রমিত হওয়ার পর চীনে ওই দিন ৬১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা যান বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরের একটি বাজারে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তাঁর। এরপর ধারণা তৈরি হয়, উহানের ওই বাজারই হয়তো করোনা মহামারির উৎস। আজ চীনের ওই ব্যক্তির মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হচ্ছে। তবে এখনো ভাইরাসটির উৎস সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

করোনায় প্রথম মৃত্যুর এক বছর, উৎস এখনো অজানা
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নতুন এই করোনাভাইরাস ঠিক কোত্থেকে প্রথম ছড়াল, তা হয়তো কোনো দিনও জানা যাবে না। এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। যার অন্যতম করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা। এ ছাড়া চীনের বিরুদ্ধে সার্বিক তথ্য প্রকাশ না করারও অভিযোগ রয়েছে।
 
বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর গত এক বছরে মৃত্যু হয়েছে ১৯ লাখের বেশি মানুষের। সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৯ কোটির বেশি মানুষের শরীরে। মহামারির কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি।
 
বিজ্ঞানীদের ধারণা, ২০১৯ সালের শেষ দিকে উহানের হুয়ানান সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে। ওই বাজারে বন্য প্রাণী বিক্রি করা হতো। অজ্ঞাত প্রজাতির বাদুড় থেকে ভাইরাসটি কোনোভাবে মানবদেহে এসেছে বলে ধারণা তাঁদের। তবে এই তত্ত্বের সঙ্গে কিছু ষড়যন্ত্র তত্ত্বও যোগ হয়েছে। এসব তত্ত্বের মধ্যে উহানের একটি গবেষণাগার থেকে ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া অন্যতম।
 
চীনের কর্তৃপক্ষ প্রথমে বলেছিল, উহানের সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকেই করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে। কিন্তু দেশটির প্রকাশিত গত বছরের জানুয়ারি মাসের তথ্য ভিন্ন কিছুরই ইঙ্গিত দিয়েছে। এতে দেখা গেছে, ওই বাজারের সঙ্গে করোনার খুব একটা যোগসূত্র নেই। অর্থাৎ, ভাইরাসের উৎস অন্য কোথাও। তবে এরপর চীনা কর্তৃপক্ষ আর তেমন কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
 
ভাইরাসের উৎস সন্ধানে সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একদল বিশেষজ্ঞ চীন সফরের পরিকল্পনা করেন। তবে গতকাল রোববার পর্যন্ত তাঁদের ভিসা দেয়নি চীনা কর্তৃপক্ষ। অবশ্য ওই বিশেষজ্ঞ দল চীন সফর করলেও খুব বেশি প্রমাণ পাবে বলে আশাবাদী নন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এই সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণই হয় নষ্ট হয়ে গেছে, নতুবা নষ্ট করা হয়েছে। এর সপক্ষে যুক্তিও দেখাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, মহামারির প্রথম দিকে যাঁরাই সতর্ক করার চেষ্টা করেছেন, চীনা কর্তৃপক্ষ তাঁদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে।
 
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোগতত্ত্ববিদ ডেনিয়েল লুসি বলেন, বেইজিং হয়তো বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে তথ্য গোপনের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে উহানে দ্রুতগতিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছিল। এর অর্থ, করোনা মহামারির সূত্রপাত হয়তো আরও আগে। একটি ভাইরাস ব্যাপক সংক্রামক হয়ে ওঠার আগে কয়েক মাস বা কয়েক বছর ধরে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। কাজেই উহানের ওই বাজারের তত্ত্ব এখানে খাটে না। তবে ভাইরাসটি প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নিয়েছে।
সূত্র: prothomalo
captcha