IQNA

ইসমাঈলকে জবিহুল্লাহ বলা হয় কেন

8:34 - June 27, 2023
সংবাদ: 3473950
তেহরান (ইকনা) : ইবরাহিম (আ.)-এর দুই পুত্র। বড় ছেলের নাম ইসমাঈল, ছোট ছেলের নাম ইসহাক (আ.)। তাঁদের একজনকে আল্লাহ তাআলা কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কোরআন মজিদ, হাদিস, মনীষীদের নির্ভরযোগ্য গবেষণা এবং ইতিহাসের আলোকে স্পষ্ট ও অকাট্যভাবে জানা যায় কোরবানির আদেশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন ইসমাঈল (আ.)।

 ইবরাহিম (আ.)-এর দুই পুত্র। বড় ছেলের নাম ইসমাঈল, ছোট ছেলের নাম ইসহাক (আ.)। তাঁদের একজনকে আল্লাহ তাআলা কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কোরআন মজিদ, হাদিস, মনীষীদের নির্ভরযোগ্য গবেষণা এবং ইতিহাসের আলোকে স্পষ্ট ও অকাট্যভাবে জানা যায় কোরবানির আদেশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন ইসমাঈল (আ.)।

জবিহুল্লাহ নামকরণের কারণ

একবার নবী ইবরাহিম (আ.) স্বপ্নে দেখলেন যে তিনি তাঁর ছেলে ইসমাঈল (আ.)-কে জবাই করছেন। এটা ছিল রাতের তৃতীয় প্রহরের স্বপ্ন। আর নবীদের স্বপ্ন ওহি হয়ে থাকে। ইসমাঈল (আ.) বারো বা তেরো বছরে উপনীত হয়েছিলেন।

তিনি পিতা ইবরাহিম (আ.) এর সঙ্গে তাঁর কাজে সহায়তার জন্য গিয়েছিলেন। তখন পিতা তাঁকে বলেন, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে তোমাকে জবাই করছি। তিনি আল্লাহর আদেশের সামনে আত্মসমর্পণ করে পিতাকে বলেন, তাহলে তাই করুন, আল্লাহর আদেশ পালন করুন। যেমনটা ওপরে উল্লিখিত আয়াতে বিবৃত হয়েছে।
অতঃপর কোরবানির দিন ইবরাহিম (আ.) সেই দুম্বাটি জবাই করলেন এবং ফিদিয়ার মাধ্যমে ছেলেকে অক্ষত ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন। মূলত পিতা-পুত্রের জবাইসংক্রান্ত এ বিষয়টিকে সামনে রেখেই ইসমাঈল (আ.)-কে ‘জবিহুল্লাহ’ বলা হয়।
জবিহুল্লাহ ইসমাঈল (আ.)-এর কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য

১. ইসমাঈল (আ.) অঙ্গীকার পালনে ছিলেন প্রবাদতুল্য ব্যক্তি। জবাইয়ের ঘটনা  তাঁর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বিশেষ গুণের প্রশংসা করে বলেন, ‘এই কিতাবে ইসমাঈলের কথা বর্ণনা করুন, তিনি প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যাশ্রয়ী এবং তিনি ছিলেন রাসুল, নবী।

(সুরা মরিয়ম, আয়াত : ৫৪)
২. তিনি নামাজ এবং জাকাত আদায়ে তৎপর ছিলেন এবং নিজের পরিবার ও নিজ সমপ্রদায়ের প্রতি গুরুত্ব সহকারে দাওয়াত দিতেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে নামাজ ও জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে পছন্দনীয় ছিলেন। (সুরা মরিয়ম, আয়াত : ৫৫)

৩. ইসমাঈল (আ.)-কে প্রথম আরব হিসেবে ধরা হয়। চারটি গোত্র ব্যতীত আরবের বাকি সবাই তাঁর বংশধর।

৫.তিনি ও তাঁর পিতা উভয়ই ছিলেন বায়তুল্লাহর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

৬. ইসমাঈল (আ.) হলেন ওই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছিল।

৭. তাঁর দাওয়াত সম্পূর্ণ আরবজুড়ে বিস্তৃত ছিল  এবং অনুর্বর মক্কার আবাদ তিনিই করেন।

৮. তাঁর পায়ের তলদেশ থেকে ঝরনা প্রবাহিত হয়েছে। যাকে আমরা জমজম কূপ বলে চিনি।

captcha