
ইকনা প্রতিবেদন অনুসারে, ‘ফিলিস্তিন অনলাইন’-এর বরাতে জানা গেছে, খান ইউনিসের একটি আংশিক ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদের ভেতরে এই স্কুল চলছে। এখানে তরুণীরা হাতে কুরআন নিয়ে যুদ্ধের গোলমালের মাঝেও শান্ত কণ্ঠে আয়াত তিলাওয়াত করছে।
অনেকেই ঘরবাড়ি ও প্রিয়জন হারিয়েছে, কিন্তু কুরআন হিফজের এই হালকাগুলোতে তারা হারানো শান্তির কিছুটা অংশ ফিরে পাচ্ছে।
স্কুলের ছাত্রী হেদা আল-ফারা বলেন, যুদ্ধ তাদের বছরের পর বছরের স্বপ্নের ঘর ধ্বংস করে দিয়েছে। কণ্ঠে আবেগ চেপে তিনি বলেন, “আমরা তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। যুদ্ধ আমাদের মনোবল ভেঙে দিতে পারেনি। তাই আমরা কুরআনের আশ্রয় নিয়েছি, যাতে আবার উঠে দাঁড়াতে পারি এবং এই কঠিন সময়ে নতুন করে শ্বাস নিতে পারি।”
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের মধ্যে শহীদ হওয়া, উদ্বাস্তু হওয়া ও প্রিয়জন হারানোর পর এই স্কুল কুরআন হিফজ ও ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের প্রতিযোগিতামূলক একটি স্থানে পরিণত হয়েছে। কুরআনের প্রতি অনুগত্য তাদেরকে অসাধারণ ধৈর্য ও শক্তি দিয়েছে।

১৪ বছর বয়সী ছাত্রী রাশা আল-ফারা বলেন, তাদের বড় সুন্দর ঘর থেকে জীবন ছোট্ট একটি তাঁবুতে এসে ঠেকেছে, যেখানে মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসও নেই। তিনি মায়ের সঙ্গে এই স্কুলে এসেছেন কুরআন হিফজ করতে এবং যুদ্ধের কষ্ট একসঙ্গে ভাগ করে নিতে।
রাশা বলেন, “আমরা উদ্বাস্তু হয়েছি, তারপর অনাহার ও পিপাসায় ভুগেছি। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ ছাড়া কোনো আশ্রয় পাইনি। তাই কুরআনের স্কুলে এসেছি যাতে আরও কাছাকাছি হতে পারি।” ছোট বয়স সত্ত্বেও তিনি বলেন, যুদ্ধ তাঁর চরিত্র ও স্বপ্নকে অনেক বদলে দিয়েছে। তিনি একসময় চিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এখন বোমা, ভয় ও দারিদ্র্যের মধ্যে দ্রুত বড় হয়ে উঠতে হয়েছে। তবুও তিনি ভবিষ্যতের আশা ও অধিকার থেকে পিছু হটেননি।
স্কুলের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক রামি আশ-শাকরা বলেন, এই স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল ইসরাইলি আগ্রাসনের মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি থেকে ফিলিস্তিনি সমাজকে পুনর্গঠন করা।

তিনি জানান, এই কেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ৮০০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে — ছোট শিশু থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ্ব বয়স্করাও। এখানে শুধু কুরআন হিফজ নয়, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও আবেগীয় নিরাময়েরও ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ কাউন্সেলর ও মনোবিদদের তত্ত্বাবধানে কাজ চলছে।
রামি আশ-শাকরা বলেন, এই স্কুলের শিক্ষা কুরআনের গল্প, সাহাবায়ে কেরামের জীবনী ও ইতিহাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূল্যবোধ ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করে। বর্তমানে এখানে ৬০ জনের বেশি শিক্ষক ও কুরআনের হাফেজ কাজ করছেন।
তিনি মনে করেন, গাজায় শারীরিক ও আত্মিক পুনরুদ্ধারের প্রকৃত যাত্রা আধ্যাত্মিক লালনের মাধ্যমেই শুরু হতে পারে। 4353984#