
ইকনা’র বরাতে মুসলিমুন হাওলাল আলাম জানায়, প্রিস্টিনার দুই বোন রেনিতা নিতাই ও ফাতিমা নিতাই ইসলামী শিক্ষাক্ষেত্রে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। পবিত্র কুরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসাকে তারা একটি প্রভাবশালী শিক্ষামূলক প্রকল্পে রূপ দিয়েছেন, যা শত শত শিশুকে কুরআন শিক্ষা প্রদান এবং নতুন প্রজন্মের হাফেজ ও কুরআনপ্রেমী গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি; বরং কুরআনিক শিক্ষায় বছরের পর বছর অধ্যয়ন ও বিশেষজ্ঞতা অর্জনের ফলস্বরূপ তারা প্রতিষ্ঠা করেন “লিটল কুরআন মেমোরাইজার্স” (ক্ষুদে হাফেজ) একাডেমি, যা বর্তমানে কসোভোতে শিশুদের জন্য অন্যতম উল্লেখযোগ্য কুরআনিক উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত।
দুই বোনই কুরআনমুখী পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। তারা কসোভোর ইসলামিক কমিউনিটির অধীন প্রিস্টিনার আলাউদ্দিন ইসলামিক হাইস্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। সেখানে তারা কুরআনিক বিজ্ঞানে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করেন এবং স্থানীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন কুরআন প্রতিযোগিতায় কসোভোর প্রতিনিধিত্ব করেন।
পরবর্তীতে তারা প্রিস্টিনার ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২৪ সালে তারা মিসরের Al-Azhar University থেকে কুরআনের দশ কিরাআতের (কিরাআতে আশারা) সনদ বা ইজাযাহ লাভ করে তাদের শিক্ষাজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেন।
বর্তমানে তারা পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়ন অব্যাহত রেখেছেন, যা তাত্ত্বিক জ্ঞান ও বাস্তব প্রয়োগের সমন্বয়ে তাদের অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ।
বহু বছরের অধ্যয়ন ও শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দুই বোন কসোভোর ইসলামিক কমিউনিটির তত্ত্বাবধানে প্রিস্টিনায় “ক্ষুদে হাফেজ একাডেমি” প্রতিষ্ঠা করেন।
এই প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে, যেখানে তাদের শুদ্ধ তিলাওয়াত ও কুরআন হিফজ শিক্ষা দেওয়া হয়। একাডেমির পাঠ্যক্রম শিশুদের বয়স ও ব্যক্তিগত সক্ষমতার পার্থক্য বিবেচনায় রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে।
একাডেমিটি ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। এখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সহায়তা ও বৈচিত্র্যময় শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে শিশুদের কুরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।
এই দুই বোনের উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো, তাদের কার্যক্রম কেবল কুরআন মুখস্থ করা বা তিলাওয়াত শেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তারা কুরআনের শিক্ষাকে দৈনন্দিন জীবন ও বাস্তব মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
সততা, আমানতদারিতা, পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধের মতো গুণাবলি শিশুদের মধ্যে গড়ে তুলতে তারা বিশেষভাবে কাজ করছেন।
একই সঙ্গে তারা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, হস্তশিল্প কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শিক্ষার অংশ করেছেন, যাতে শিশুরা কুরআনিক মূল্যবোধকে আকর্ষণীয় ও ব্যবহারিক উপায়ে উপলব্ধি করতে পারে।
দুই বোনের প্রচেষ্টা শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তারা কুরআন শিক্ষাকে সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন।
শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাতব্য কর্মকাণ্ড, অসচ্ছল পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া এবং সামাজিক সংহতি, আত্মপরিচয় ও সমাজসেবার মূল্যবোধ প্রচারকারী প্রকল্পে অংশগ্রহণ করে।
এর ফলে শিশুরা যে কুরআনিক মূল্যবোধ শিখছে, তা বাস্তব জীবনের কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হচ্ছে। এ উদ্যোগ সমাজে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
এই উদ্যোগ কসোভোর মুসলিম নারীদের জন্য একটি সফল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। রেনিতা ও ফাতিমা নিতাই উচ্চশিক্ষা, ইসলামী জ্ঞানচর্চা, শিক্ষাদান এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডকে একত্রিত করে কুরআনিক জ্ঞানকে নতুন প্রজন্মের সেবায় একটি কার্যকর প্রকল্পে রূপ দিয়েছেন।
তাদের এই সাফল্যের ফলে “ক্ষুদে হাফেজ একাডেমি” এখন এমন একটি শিক্ষামূলক মডেল হিসেবে পরিচিত, যা কুরআন হিফজের পাশাপাশি নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং সমাজের প্রতি ইতিবাচক অবদান রাখার মানসিকতা গড়ে তুলতে সক্ষম। 4355215#