কাবা শরীফের অভ্যন্তরীণ দেয়াল পবিত্র জমজমের পানি ও গোলাপজলের মিশ্রণ দিয়ে ধোয়া-মোছার মাধ্যমে আজ সকালে কাবা শরীফের বার্ষিক ধোয়া-মোছার অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। এই মিশ্রণ পূর্বেই হারামাইন শরীফাইনের দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণ সাধারণ অধিদপ্তর প্রস্তুত করেছে।
ইকনা’র প্রতিবেদনে সৌদি আরবের সরকারি সংবাদ সংস্থা (ওয়াস) এর বরাতে জানানো হয়েছে, আজ মঙ্গলবার (৯ জুলাই) মক্কার উপ-গভর্নরের উপস্থিতিতে কাবা শরীফের বার্ষিক ধোয়া-মোছার অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
তিনি মসজিদুল হারামে প্রবেশের পর কাবা শরীফের অভ্যন্তর জমজমের পানি ও গোলাপজলের মিশ্রণ দিয়ে ধৌত করেন এবং এই মিশ্রণে ভেজানো কাপড় দিয়ে কাবা শরীফের অভ্যন্তরীণ দেয়াল পবিত্র করেন।
কাবা শরীফকে পবিত্রকরণ, সম্মান প্রদর্শন, রক্ষণাবেক্ষণ ও যত্ন নেওয়ার জন্য এই বার্ষিক ধোয়া-মোছার অনুষ্ঠান রাজা আব্দুল আজিজ আল সৌদের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত একটি স্থায়ী ও অব্যাহত রীতি হয়ে আসছে।

মসজিদুল হারাম ও মসজিদুন নববীর দেখভাল সংক্রান্ত সাধারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরব কাবা শরীফের ধোয়া-মোছার জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রযুক্তিগত, সেবামূলক ও মানবসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছে এবং কাবা শরীফের সিঁড়ি সম্প্রসারণের জন্য প্রযুক্তিগত কর্মীদের সহায়তা নিয়েছে।
এই কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রস্তুতিমূলক কাজ ১৫ লিটার জমজমের পানি, ১৫ লিটার গোলাপজল, ১৫ লিটার গোলাপ তেল এবং ১০০ মিলিলিটার আগরবাতির তেল দিয়ে শুরু হয়। এরপর কাবা শরীফের বার্ষিক ধোয়া-মোছার সাধারণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।

তারা ব্যাখ্যা করে বলেন, সকল ধাপ অত্যন্ত সতর্কতা ও সূক্ষ্মতার সাথে সম্পন্ন করা হয়, যা কাবা শরীফের মর্যাদা ও পবিত্রতার প্রতিফলন ঘটায়। ব্যবহৃত উপকরণগুলো পূর্বেই সর্বোচ্চ মানের পবিত্রতা ও গোপনীয়তার মানদণ্ড অনুসারে প্রস্তুত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, কাবা শরীফের ধোয়া-মোছার অনুষ্ঠান প্রথমে কাবা শরীফের মেঝে থেকে ধুলোবালি ও ময়লা পরিষ্কার করার মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর তামার পাত্রে জমজমের পানির সাথে গোলাপের সুগন্ধি, পুরনো তেল ও উন্নতমানের আগরবাতির তেল মিশিয়ে আনা হয়। কাপড়ের টুকরোগুলো এতে ভিজিয়ে কাবা শরীফের অভ্যন্তরীণ দেয়াল পরিষ্কার করা হয়। অতঃপর কাবা শরীফের তিনটি স্তম্ভ এবং মেঝে ধৌত ও শুকানো হয়। সবশেষে সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দেয়ালগুলো সুগন্ধিত করা হয়, যাতে সম্পূর্ণ এলাকা পবিত্র হয়।
‘গুসলুল কা‘বাহ’ (কাবা ধোয়া) অনুষ্ঠানটি কাবা শরীফের বার্ষিক গিলাফ (কিসওয়া) পরিবর্তন অনুষ্ঠান থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, যা প্রতি বছর হিজরি নববর্ষের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয়। 4361250#
