শহীদ ইমাম খামেনেই-এর ব্যক্তিত্ব ইসলামী আদর্শের প্রতি গভীর আকীদা, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সুস্পষ্ট দূরদর্শিতা এবং ঘটনাবলিকে বিশ্বব্যাপী ইস্তেকবারী শক্তি ও সংগ্রামী জাতিসমূহের মধ্যকার সংঘাতের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা দ্বারা স্বাতন্ত্র্যপূর্ণ ছিল।
তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে একটি ছিল জনগণের সামর্থ্যের প্রতি অগাধ আস্থা এবং এই বিশ্বাস যে, সচেতনতা ও ইচ্ছাশক্তি বস্তুগত সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের উপর জয়লাভ করতে পারে। ফলস্বরূপ, তিনি মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও প্রতিরোধের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা এবং বহিরাগত আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
প্রতিরোধ: একটি স্থায়ী পছন্দ
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর নীতি ছিল আমেরিকার এককেন্দ্রিকতাবাদ প্রত্যাখ্যান, পূর্বের উদীয়মান শক্তিগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী আন্দোলন ও প্রতিরোধ আন্দোলনসমূহকে সমর্থন। এর মধ্যে সবার শীর্ষে ছিল ফিলিস্তিনের আদর্শ। তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই আদর্শ তাঁর জাতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এবং তাঁর বক্তৃতাগুলোতে একটি স্থায়ী বিষয় ছিল।
তিনি রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বৈজ্ঞানিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে জোরদার করেছিলেন এবং একটি সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ শক্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। মুক্তিপ্রতিরোধ অক্ষের প্রতি তাঁর নিরলস সমর্থন তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির একটি নির্ধারক বৈশিষ্ট্য ছিল। তাঁর মতে, এটি ছিল সাইয়্যোনিস্ট-আমেরিকান প্রকল্পের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির দায়িত্ব।
ইরানের শহীদ নেতার শত্রু এবং মিত্র উভয়েই তাঁর কৌশলগত ধৈর্যের অসাধারণ ক্ষমতা, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ব্যবস্থাপনার দক্ষতা এবং নিষেধাজ্ঞা ও অব্যাহত চাপের মুখে ইরানি রাষ্ট্রের সংহতি রক্ষায় তাঁর সাফল্য স্বীকার করেছেন।
ইমাম সাইয়্যেদ আলী খামেনেই “শহীদ” উপাধি নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু তাঁর চিন্তা ও রাজনৈতিক প্রকল্পসমূহ এখনও জীবন্ত রয়েছে— লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয় ও মনে এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের মধ্যে। কারণ মহান নেতাদের মূল্যায়ন হয় তাঁদের প্রভাবের গভীরতা দিয়ে।
শত্রুরা বুঝতে পারবে যে, যেসব নীতি জনগণের বিবেকের গভীরে শিকড় গেড়েছে, সেগুলো সকল হত্যা ও বিলোপ প্রচেষ্টার চেয়ে শক্তিশালী।
আজ ইমাম মুজতবা— শহীদ নেতা আলী খামেনেই-এর পুত্র— যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে একই আস্থা ও দৃঢ়তার সাথে ইসলামী বিপ্লবের মৌলিক নীতিসমূহের উপর ভিত্তি করে তাঁর পথ অব্যাহত রেখেছেন।
শত্রুরা হয়তো বাজি ধরেছিল যে, নেতার চলে যাওয়া প্রতিরোধ অক্ষকে দুর্বল করে দেবে। কিন্তু এখন তারা বুঝতে পেরেছে যে, মহান ব্যক্তিত্বেরা শুধু তাদের শরীর নিয়ে দুনিয়া থেকে চলে যান, তাঁদের চিন্তাধারা যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন্ত থেকে যায়।
সুতরাং এই পথ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলতে থাকবে, যতক্ষণ না আল্লাহর ওয়াদা মুস্তাদ‘আফীনের (নিপীড়িতদের) জন্য বাস্তবায়িত হয়, সম্মান ও স্বাধীনতার পতাকা উড়তে থাকে এবং কাপুরুষদের চোখে ঘুম না আসে। 4361392#