ইকনার (IQNA) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহীদ বিপ্লবী নেতা ও তাঁর পরিবারের পবিত্র মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান আজ শুক্রবার, ১২ তীর, তেহরানের ইমাম খোমেনী (রহ.) মুসাল্লার প্রধান নামাজ হলে বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ইসলামী বিশ্বের চিন্তাবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়।
আজ ভোর থেকেই অনুষ্ঠানটি শুরু হয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, আলেম-উলামা এবং সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিরা শহীদ বিপ্লবী নেতার পবিত্র মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর সামরিক বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনের পাশাপাশি দেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারি ও সুললিত কণ্ঠের তিলাওয়াতকারীরা—মাসউদ সিয়াহ গোরজি, হামিদরেজা আহমাদিওফা এবং মাহদি আদেলি—পবিত্র কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, লেবানন, ইরাক, মরক্কো, তুরস্ক ও স্পেনের আলেম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা শহীদ বিপ্লবী নেতার পবিত্র মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর ইরানের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও ইমাম খোমেনী (রহ.) মুসাল্লায় উপস্থিত হয়ে শহীদ বিপ্লবী নেতা ও তাঁর পরিবারের পবিত্র মরদেহে শ্রদ্ধা জানান।
এছাড়াও ইরাকের কাতায়েব হিজবুল্লাহর একটি প্রতিনিধি দল এবং প্রতিরোধ অক্ষের (মুকাওয়ামা) বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শহীদ নেতার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইরাকের হাশদ আশ-শাবির মুজাহিদ ও সংগ্রামী ব্যক্তিত্বদের একটি প্রতিনিধি দল, নুজাবা আন্দোলনের প্রতিনিধিরা, ইরাকের প্রতিরোধ ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ, কারবালা ও নাজাফের গভর্নরগণ এবং ইরাকের আরও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
এরপর প্রতিরোধ ফ্রন্টের আলেম ও বুদ্ধিজীবীগণ, লেবাননের আমাল আন্দোলনের প্রতিনিধি দল, ইসলামী উম্মাহর মর্যাদার সহযোদ্ধারা এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের শিয়া সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধি দল শহীদ নেতার পবিত্র মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁর আদর্শের প্রতি পুনরায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এরপর আফগানিস্তানের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিরোধ প্রতিনিধি দল, জাতীয় প্রতিরোধ ফ্রন্টের নেতা আহমাদ মাসউদের নেতৃত্বে বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শহীদ নেতার আদর্শের প্রতি পুনরায় আনুগত্য ঘোষণা করে।
পরে গোলামআলি হাদ্দাদ আদেল, হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন মুহাম্মদ হাসান আখতারি, হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন রেজা রমজানি, হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন হামিদ শাহরিয়ারি এবং সাইয়্যেদ মাহদি মোস্তাফাভি—যাঁরা শহীদ নেতার ঘনিষ্ঠ ও মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন—তাঁর ও তাঁর পরিবারের পবিত্র মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন ধর্মের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, পাকিস্তানের শিয়া আলেমগণ এবং আফগানিস্তানের ফাতেমিয়ুন ব্রিগেডের প্রতিনিধি দল শহীদ ইসলামী উম্মাহর নেতার পবিত্র মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর জর্জিয়ার মুসলিমদের উচ্চ পরিষদের প্রতিনিধি দল এবং বুলগেরিয়ার সংসদ সদস্য ও রিপাবলিক পুনর্জাগরণ পার্টির প্রতিনিধিরা শহীদ নেতার পবিত্র মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এছাড়া তুরস্কের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দলের সদস্যবৃন্দ এবং তুরস্কের ‘নতুন কল্যাণ পার্টি’র (Yeniden Refah Partisi) সভাপতি মুসাল্লায় উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানান।
অনুষ্ঠানের আরেক পর্যায়ে রাশিয়ার মুসলিম আলেমদের প্রতিনিধি দল, হিন্দু সমাজের কয়েকজন নেতা, থাইল্যান্ড ও জার্মানির শিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা, ফিলিস্তিনের পপুলার ফ্রন্ট এবং ইরাক, লেবানন ও আফগানিস্তানের সাংবাদিক, লেখক ও বিশ্লেষকদের একটি প্রতিনিধি দল শেষ বিদায় জানাতে উপস্থিত হন।
এরপর লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতিনিধি দল, শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর পরিবার, শহীদ ইমাদ মুগনিয়াহর পরিবার, হিজবুল্লাহর অন্যান্য শহীদ কমান্ডারদের পরিবার এবং লেবাননের বিভিন্ন জাতীয় ও রাজনৈতিক দলের সদস্যরা শহীদ নেতার পবিত্র মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এছাড়াও ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের বিভিন্ন শাইখ, রাজনৈতিক দল, ইরাকি সংসদের প্রতিনিধিরা এবং বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরবর্তীতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মহিলা তালিবাত (ধর্মীয় শিক্ষার্থী) এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নারী কর্মীদের একটি প্রতিনিধি দলও শহীদ নেতার পবিত্র মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বিদেশি অতিথিদের মধ্যে মালয়েশিয়া, লেবানন, রাশিয়া, সেনেগাল, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, হাঙ্গেরি, চীন, পাকিস্তান, তিউনিসিয়া, ভারত, আফগানিস্তান, নরওয়ে, আর্জেন্টিনা এবং লাতিন আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি দল উপস্থিত রয়েছে।
এছাড়া ইরাক, মালয়েশিয়া, লেবানন, আফগানিস্তান, নরওয়ে, পাকিস্তান, রাশিয়া, তিউনিসিয়া, সেনেগাল এবং ভারতের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও ইসলামী মাজহাবসমূহের ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কর্মরত ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাঁরা ইসলামী বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, বিশুদ্ধ ইসলামী চিন্তার প্রচারক, মুসলিম ঐক্য ও মাজহাবসমূহের পারস্পরিক সম্প্রীতির প্রবক্তা এবং শহীদ নেতার আদর্শের ভিত্তিতে আধুনিক ইসলামী সভ্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একক ইসলামী উম্মাহর চিন্তার ধারক হিসেবে পরিচিত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের ঘোষণা অনুযায়ী, এ অনুষ্ঠানে বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের অতিথি উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাষ্ট্রপ্রধান, সংসদের স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিভিন্ন সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।
এছাড়াও আজ দুপুর ২টা থেকে বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আরেকটি দল শহীদ বিপ্লবী নেতার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। 4361831#