এ খবর নিয়ে প্রাসঙ্গিক কিছু কথা:
এটাই (মাযুরার [মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]প্রেসি.ট্রাম্পকে ৪০০ মিলিয়ন অর্থাৎ ৪০ কোটি ডলার মূল্যের বিলাস বহুল বিমান গিফট) হচ্ছে কাতারের মতো তেল সমৃদ্ধ ধনী তথাকথিত মুসলিম দেশসমূহের রাষ্ট্র প্রধান ও রাজা-বাদশাহদের সীরাত (জীবনচরিত) ও রীতি-নীতি এবং তাদের ইসরাফ (অপচয়) ও তাবযীরের (অপব্যয়) জাজ্বল্যমান নমুনা।পবিত্র কুরআনে ইন্নাল মুবাযযিরীনা কানূ ইখওয়ানাশ শায়াত্বীন্ (নিশ্চয়ই [ধনসম্পদ ও নেয়ামত সমূহের] অপচয়কারীরা ও অপব্যয়কারীরাই হচ্ছে শয়তানদের ভাই [অর্থাৎ শয়তানদের নিত্যসঙ্গী ও শয়তানদের দ্বারা সদাপ্রভাবিত]!!!)।আর অবশ্যই শয়তান হচ্ছে স্বীয় রব্বের (প্রতিপালক) প্রতি কাফূর (অতিশয় অকৃতজ্ঞ) (সূরা-ই বনী ইসরাইল:২৭)
إن المبذرین کانوا إخوان الشیاطین و كان الشيطان لربه كفوراً
হে বনী আদম!প্রতি নামাযের সময় (প্রতিটি মসজিদে) সুন্দর বেশভূষা (পরিচ্ছদ) পরিধান করো তোমরা।আহার ও পান করতে থাক কিন্তু অমিতাচার (অপচয়=ইসরাফ) করো না তোমরা। নিশ্চয়ই তিনি (মহান আল্লাহ) অমিতাচারী(অপচয়কারী)দেরকে পছন্দ করেন না,ভালবাসেন না।(সূরা-ই আ'রাফ:৩১)
با بني آدم خذوا زینتکم عند کل مسجد و کلوا واشربوا و لا تسرفوا,إنه لا یحبُّ المسرفین.
একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:নি:সন্দেহে মিতব্যয়য়িতা ও খরচাদির ক্ষেত্রে মধ্যপন্থাবলম্বন (ক্বসদ قصد) এমন এক বিষয় যা মহান আল্লাহ ভালবাসেন;আর অমিতাচার ও অমিতব্যয়িতা (অযথা খরচ,অপব্যয় ও সম্পদের অপচয়) এমন এক বিষয় যা মহান আল্লাহ অপছন্দ ও ঘৃণা করেন এমনকি খেজুরের বীচি ফেলে দেওয়া ও দূরে নিক্ষেপ করাও অপচয়।কারণ,তা (খেজুরের বীচি) কোনো কাজে লাগতে পারে;আর এমনকি পানি পান করার পর (পাত্রে বা গ্লাসে থাকা) অবশিষ্ট পানি ফেলে দেওয়াও ইসরাফ (অপচয় ও অপব্যয়)। (দ্রঃ আল-কাফী,খ:৪,পৃ:৫২;সাওয়াবুল আ'মাল,পৃ:১৮৬)
إن القصد أمر یُحِبٌُه الله عزّ و جلٌ و إن السرف أمر یبغضه الله حتی طرحک النواة فإنها تصلح للشيء و حتی صبُّک فضلَ شُربک.
**** এই আয়াত সমূহ এবং উপরি উক্ত হাদীসের আলোকে কাতারের আমীর কর্তৃক ৪০০ মিলিয়ন (৪০ কোটি) ডলারের অত্যন্ত বিলাসবহুল বিমান ক্রয় ইসরাফ (অমিতাচার) ও তাবযীরের (মহান আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত সমূহের অপচয় ও অপব্যয়) প্রকৃষ্ট নমুনা ও উদাহরণ।আর এ ছাড়াও তেলসমৃদ্ধ ধনী আরব দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধান ও রাজা বাদশাহদের তাবযীর (মহান আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত সমূহের অপচয় ও অপব্যয়) এবং ইসরাফের (অমিতাচার) ভুরি ভুরি নমুনা ও উদাহরণ পেশ করা যাবে।****
একদিকে ৪০০ মিলিয়ন (৪০ কোটি) ডলার অপচয় (ইসরাফ) ও শ্রাদ্ধ করে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় শত্রু মাযুরার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এই বিলাসবহুল বিমান উপহার দিয়েছে কাতারের আমীর যা কেনার সামর্থ্য নেই খোদ মাযুরা সরকারেরই এবং অত্যন্ত দামী এ উপঢৌকনের জন্য ট্রাম্প কাতারের অপচয় কারী আমীরের ভুয়সী প্রশংসাও করেছে।অন্যদিকে এ ধরনের দান ও দয়া-দাক্ষিণ্য থেকে কাতারের মতো এ সব তেল সমৃদ্ধ আরব মুসলিম দেশের ওপর বিধর্মী খ্রিষ্টান নাসরানী মাযুরা ও পশ্চিমাদের তীব্র প্রভাব,আধিপত্য ও কর্তৃত্ব স্পষ্ট হয়ে যায় যারফলে তারা (মাযুরা গং) এসব দেশের খনিজ সম্পদ এবং জ্বালানি তেল ও গ্যাস ইত্যাদি হরিলুট করছে।
অথচ মুসলমানদের ওপর এবং তাদের দেশের ওপর বিধর্মীদের এই আধিপত্য ও কর্তৃত্ব মেনে নেওয়ার বৈধতা দান করা হয় নি মুসলমানদেরকে পবিত্র কুরআনে অর্থাৎ মুসলিম জাতি ও দেশসমূহের ওপর কাফির-মুশরিকদের এ ধরনের আধিপত্য ও কর্তৃত্ব পবিত্র কুরআন ও ইসলামী শরিয়তে সর্বৈব হারাম (অবৈধ)।(কাতার সহ তেলসমৃদ্ধ ধনী আরব দেশগুলোয় মাযুরার সামরিক ঘাঁটি সমূহের অস্তিত্ব প্রমাণ করে যে এ সব দেশ মেরুদণ্ডহীন এবং আসলে এদের আদৌ কোনো স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং দেশ প্রতিরক্ষার ক্ষমতা ও সামর্থ্যই নেই।এসব তেলসমৃদ্ধ তথাকথিত ধনী আরব দেশ কার্যত: বিধর্মী মাযুরা ও পশ্চিমাদের অধীন।) যা অবশ্যই অনুচিত পবিত্র কুরআন ও ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী।
পবিত্র কুরআনে এরশাদ হচ্ছে:
و لن یجعل الله للکافرین علی المؤمنین سبیلاٌ
এবং মহান আল্লাহ কখনোই মুমিনদের ওপর কাফির মুশরিকদের আধিপত্য ও কর্তৃত্বের পথ ও পন্থা স্থাপন করেন না অর্থাৎ এ আধিপত্যের শরয়ী বৈধতা প্রদান ও প্রণয়ন করেন না(সূরা-ই নিসা:১৪১)
*****
কিন্তু কাতারের আমীর কর্তৃক মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুশমন মাযুরা প্রেসি.ট্রাম্পকে এ ধরনের উপহার ও উপঢৌকন দেওয়া থেকে প্রমাণিত হয়ে যায় হার্বী (মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত) বিধর্মী কাফির মুশরিক নাসারা ও ইয়াহূদীদের প্রতি কাতারের আমীরের মুহব্বত,প্রেম-প্রীতি ও ভালোবাসা যা নিষিদ্ধ ও নাজায়েয।ইসলামের বিরুদ্ধে হার্বী (যুদ্ধরত) বিধর্মীদের প্রতি কাতারের আমীর ও বিভিন্ন মুসলিম দেশের নেতৃবৃন্দ ,রাষ্ট্রপ্রধান ও রাজা-বাদশাহদের এ ধরনের মুহব্বত,ভালবাসা ও প্রেম-প্রীতি রয়েছে যা সত্যিই নাজায়েয এবং ইসলাম বিরোধীও বটে।
***
বিধর্মীদের কর্তৃত্ব,শাসন ও আধিপত্য মেনে নেওয়া ও তাদের প্রতি ভক্তি প্রদর্শন এবং ভালবাসা ও মুহব্বত হারাম হওয়া সংক্রান্ত আরো দুটো আয়াত:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَىٰ أَوْلِيَاءَ ۘ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
হে ঈমানদারগণ (আহল-ই ঈমান)!ইয়াহূদ (ইয়াদীগণ) ও নাসারাকে (নাসরানীদের অর্থাৎ খ্রিষ্টানদেরকে) ওয়ালী (অভিভাবক, কর্তৃপক্ষ, পৃষ্ঠপোষক ও বন্ধু) হিসাবে গ্রহণ করো না; বরং তারা হচ্ছে পরস্পর ওয়ালী (বন্ধু ও পৃষ্ঠপোষক);আর তোমাদের মধ্য থেকে যে কেউ তাদেরকে (ইয়াহূদ ও নাসারাকে) নিজেদের অভিভাবক, কর্তৃপক্ষ,বন্ধু ও মিত্র হিসাবে গ্রহণ করবে তারা তাদের (অর্থাৎ ইয়াহূদ ও নাসারার দলের) মধ্যেই গণ্য হবে। নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ যালেম (অবিচারক) কওমকে (সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীকে) হিদায়ত করেন না।(সূরা-ই মায়েদা:৫১)
لَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ إِلَّا أَنْ تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقَاةً وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ ﴿۲۸﴾
মু'মিনগণ মু'মিনদেরকে বাদ দিয়ে কাফিরদেরকে যেন অবশ্যই বন্ধু ও মিত্র হিসেবে গ্রহণ না করে;যে কেউ এ রূপ করবে মহান আল্লাহর কাছে সে (সত্যের)কোনো কিছুর ওপরই প্রতিষ্ঠিত থাকবে না[তার সাথে মহান আল্লাহর (দ্বীনের) কোনো সম্পর্ক থাকবে না];তবে ব্যতিক্রম,যদি তোমরা তাদের (কাফিরদের ক্ষতি ও অনিষ্ট সাধন) থেকে আত্মরক্ষার ব্যাপারে ভীত-সন্ত্রস্থ থাক এবং তাকিয়া (সতর্কতা ও সাবধানতা) অবলম্বন কর।আর আল্লাহ তাঁর নিজের সম্পর্কে তোমাদের সাবধান করছেন এবং আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তন (করতে হবে সবাইকে)।(সূরা-ই আরে ইমরান:২৮)
******
মাযুরা, ইতরাইল (ইসরাইল) ও ন্যাটোভুক্ত পশ্চিমা দেশগুলো যে ইসলামের সবচেয়ে বড় শত্রু ও হার্বী (যুদ্ধরত) কাফির তার উজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট প্রমাণ (দলীল) হচ্ছে ইসলামের প্রথম কিবলা বাইতুল মুকাদ্দাস ও মসজিদুল আকসা সহ গোটা ফিলিস্তীন ভূখণ্ড ইতরাইল কর্তৃক অবৈধ জবরদখল, অন্যায় ভাবে ফিলিস্তিনীদের উচ্ছেদ ও বহিস্কার,গণহত্যা ও প্রজন্ম হত্যা,জাতিগত নিধন ও যুদ্ধাপরাধে মাযুরা ও পশ্চিমা দেশগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ।তাই ইতরাইলের এ সব অপরাধে এক সমান ভাগীদার ও শরীক হচ্ছে মাযুরা ও পাশ্চাত্য (ন্যাটো জোট) যার সর্বশেষ প্রমাণ হচ্ছে মাযুরা ও পশ্চিমাদের পূর্ণ সমর্থন, সাহায্য, সহযোগিতা ও সহায়তায়
গাযায়,লেবাননে ও ইয়ামানে দুই বছরের অধিক কাল ধরে ইতরাইল (ইসরাইল) ও মাযুরার নগ্ন আগ্রাসন,যুদ্ধ,গণহত্যা,প্রজন্ম হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ এবং নানাবিধ যুদ্ধাপরাধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে মাযুরা ও ইতরাইলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ সমূহ। ইরান ফিলিস্তীন ও ফিলিস্তীনীদের সমর্থন ও সাহায্য করছে বিধায় দেশটির ওপর মাযুরা ও ইতরাইল যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে।আর ফিলিস্তীন সমস্যা হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর এক নং অর্থাৎ প্রধান সমস্যা এবং এ সমস্যার পূর্ণ ন্যায্য সমাধানই হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের বাদবাকি সকল সমস্যা সমাধানের মূল চাবিকাঠি। অতএব এই ফিলিস্তীন সমস্যা সমাধানের পথে যে বিধর্মী শক্তি ও দেশ কাঁটা ও বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় সেটাই হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় শত্রু।আর মাযুরা ও ন্যাটো হচ্ছে ইতরাইলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক,সমর্থক এবং সাহায্য ও সহায়তাকারী।তাই মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র),ইতরাইল ও ন্যাটো হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় শত্রু।আর যে সব মুসলিম দেশের রাষ্ট্র প্রধান ও রাজা বাদশাহরা মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় শত্রুর সাথে প্রীতি, মৈত্রী,সখ্যতা,দোস্তী, মুহব্বত ও ভালবাসা রাখে তারা আসলে কী? আর হার্বী (মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত) কাফির মুশরিকদের সাথে দোস্তী ও বন্ধুত্ব করার বৈধতা দেওয়া হয় নি। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হচ্ছে:
لا يَنهاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذينَ لَم يُقاتِلوكُم فِي الدّينِ وَلَم يُخرِجوكُم مِن دِيارِكُم أَن تَبَرّوهُم وَتُقسِطوا إِلَيهِم ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ المُقسِطينَ
যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে নি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি ও ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ ও বহিস্কার করে নি তাদের প্রতি সদাচরণ (মহানুভবতা প্রদর্শন) ও ন্যায় পরায়ণতা অবলম্বন (আদল) করতে তোমাদেরকে তিনি (আল্লাহ) নিষেধ করেন না; নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন (সূরা-ই মুমতাহিনা:৮)।
এ আয়াতে কাফিরদের প্রতি সদাচরণ ও মহানুভবতা প্রদর্শন (বির্র) ও ন্যায় পরায়ণতা অবলম্বন করার জন্য দুটো শর্ত উল্লেখিত হয়েছে।যথা:১.হার্বী (যুদ্ধরত) না হওয়া: অর্থাৎ তারা (কাফির বিধর্মীরা) দ্বীনের ব্যাপারে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে নি এবং যুদ্ধে লিপ্ত নয়) এবং ২.কাফির ও বিধর্মী গণ কর্তৃক মুসলমানদেরকে তাদের দেশ,বাস্তু,ভিটা ও ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও বহিস্কার না করা।এ দুই শর্ত যে সব কাফির ও বিধর্মীদের ব্যাপারে পূর্ণ হবে মহান আল্লাহ তাদের প্রতি সদাচরণ ও ন্যায় পরায়নতা অবলম্বন করতে মুসলমানদেরকে নিষেধ ও বারণ করছেন না।আর কাফির বিধর্মী মাযুরা,ইতরাইল,পশ্চিমা দেশগুলো ও ন্যাটো জোট ফিলিস্তীনী মুসলিম জাতি ও বিশ্বের মুসলমানদের বিরুদ্ধে অতীতে যেমন যুদ্ধ করেছে ঠিক তেমনি বর্তমানেও যুদ্ধরত (হার্বী) আছে এবং ফিলিস্তীনী লেবাননী মুসলমানদেরকে অন্যায় ভাবে তাদের দেশ,শহর,নগর,গ্রাম, বাস্তুভিটা ও ঘর-বাড়ী থেকে বলপূর্বক উচ্ছেদ ও বহিস্কার করেছে ও করছে।এরা ইরান,ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান,সোমালিয়া,সূদান,ইয়ামান,লিবিয়া,সিরিয়া,মিসর,জর্দানে মিলিয়ন মিলিয়ন মুসলমানকে হত্যা করেছে এবং বহু মুসলিম দেশ যেমন:জর্দান নদীর পশ্চিম তীর,গাযা, লেবানন,সিরিয়া,ইরাক,ইয়ামান,সুদান ও ইরানে এদের (মাযুরা ও পশ্চিমাদের) দ্বারা পরিচালিত মুসলিম গণহত্যা এখনও অব্যাহত আছে।
*******
কাতারের আমীরের উচিত ছিল এ বিপুল পরিমাণ অর্থ (৪০০ মিলিয়ন বা ৪০ কোটি ডলার) ইসলামের দুশমন ট্রাম্পের পিছনে খরচ না করে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাযা,লেবানন,ইয়ামান,সুদান,মিয়ানমারের দু:স্থ ও ক্ষতিগ্রস্থ মুসলমানদের জন্য খরচ করা।কাতারের আমীর হওয়ার কারণেই কি দেশটির খনিজ তেল ও গ্যাস সম্পদ আমীরের ব্যক্তিগত সম্পত্তি যা সে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে এবং ইচ্ছা মত খরচ করবে ও উড়াবে?!!এই সম্পদ ও এর রপ্তানি লব্ধ আয়ে কাতারের জনগণের এবং এতে মুসলিম উম্মাহর দরিদ্র ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীসমূহের ন্যায্য বৈধ অধিকার রয়েছে। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হচ্ছে:
و في اموالهم حق للسائل و المحروم
আর তাদের (ধর্মপরায়ণ নিষ্ঠাবান মুমিন। মুসলিম মুসল্লীদের) ধন-সম্পদে রয়েছে যাচ্ঞাকারী (সায়িল:অভাবগ্রস্ত ও প্রার্থী) ও বঞ্চিতের (মাহরূম) হক (অধিকার অর্থাৎ প্রাপ্য অংশ) (সূরা-ই যারিয়াত:১৯)
এবং এই আয়াত: আর যাদের সম্পদে নির্ধারিত (সুনির্দিষ্ট) হক (প্রাপ্য অংশ) রয়েছে (২৪)প্রার্থী (অভাবী ও যাচ্ঞাকারী) ও বঞ্চিতের (২৫) ((সূরা-ই মা'আরিজ:২৪,২৫)
والذین في أموالهم حق معلوم للسائل و المحروم.
আর নির্ধারিত প্রাপ্য অংশ ও অধিকার (হক্ক্ব-ই মালূম: حقّ معلوم) হচ্ছে হাদীস সমূহে উল্লেখিত হয়েছে এবং তা হচ্ছে ঐ পরিমাণ সম্পদ (মাল) যা কোন ব্যক্তি নিজের আর্থিক সামর্থ্য ও সংগতি অনুযায়ী যাচ্ঞাকারী (সায়িল:প্রার্থী,অভাবগ্রস্ত,অভাবী) এবং বঞ্চিতদের জন্য নিয়মিত দান ( ইনফাকانفاق) করা নিজের ওপর ওয়াজিব ও ফরয ( বাধ্যতামূলক কর্তব্য) করে নেয়।আর এ দান গরীব,দু:খী,দু:স্থ,অভাবী ও বঞ্চিতদের ওপর দাতার দয়া ও অনুগ্রহ (মিন্নাহ্ مِنّة) নয় বরং এটা হচ্ছে ধনী দাতার ধন-সম্পদে মহান আল্লাহ কর্তৃক অভাবী ও বঞ্চিতদের স্বীকৃত ও বর্ণিত অধিকার এবং প্রাপ্য অংশ।আর এই অধিকার ও প্রাপ্য অংশ যাকাৎ,ফিতরা,খুমুস,নযর ও সাধারণ দান-সদকা হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন যদিও কোনো কোনো মুফাসসির এই হক্ক্ব-ই মালূমকে (নির্ধারিত ও নির্দিষ্ট অধিকার বা প্রাপ্য অংশ) যাকাত বলে ব্যাখ্যা করেছেন।তাই অভাবী ও বঞ্চিত মুসলমানদেরকে দায়সারা গোছের কোনো মত সামান্য কিছু সাহায্য ও দান-খয়রাত ও দয়া দাক্ষিণ্য করলে দায়িত্ব ও কর্তব্য শেষ হবে না কাতারের মতো তেল সমৃদ্ধ ও ধনী আরব ও মুসলিম দেশগুলোর।আর ৪০০ মিলিয়ন বা ৪০ কোটি ডলারের বহুত দামী বিলাসবহুল বিমান ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর এক নং ও সর্ববৃহৎ দুশমন মাযুরার প্রেসি.ট্রাম্পকে উপহার দেওয়ার অর্থই হচ্ছে এ সব তেলসমৃদ্ধ ও ধনী আরব ও মুসলিম দেশগুলো বিশেষ করে কাতার হক্ক্ব-ই মালূম সংক্রান্ত দায়িত্বই পালন করে নি এবং করছেও না যা সত্যিই দুঃখজনক ও অতি নিন্দনীয়। উক্ত খবরের এক জায়গায় উল্লেখিত হয়েছে যে,মাযুরা দুনিয়ায় এক নম্বর অর্থাৎ সবচেয়ে ধনী দেশ হয়েও এ ধরনের অত্যন্ত দামী বিলাস বহুল উড়োজাহাজ তৈরির ইচ্ছা করে নি এবং মাযুরার প্রেসিডেন্টের জন্য দুটো বিশেষ ধরনের বোয়িং তৈরি করতে আরও দু বছর সময় লেগে যাবে।তাই দুটো পুরনো বোয়িং জেট বিমানকে প্রেসিডেন্টের ব্যবহারোপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে সেখানে কাতার কর্তৃক এই বিলাসবহুল অত্যন্ত দামী বিমান উপহার যেন ট্রাম্প ও মাযুরার জন্য এক বিরাট বড় সাহায্য বলে অভিহিত ও গণ্য করেছে স্বয়ং মাযুরা প্রেসি.ট্রাম্প। এ যেন তেলা মাথায় তেল দেওয়ার মতো অর্থাৎ ধনী দেশ কাতার অপর ধনী দেশ যা বিশ্বের মধ্যে এক নম্বর বা সবচেয়ে ধনী দেশ মাযুরাকে এই বিলাসবহুল উড়োজাহাজ উপহার দিয়ে আসলে দেশটি (কাতার) ধনী রাষ্ট্র মাযুরার তেলা মাথায় তেল দিয়েছে।আর এটাই হচ্ছে বৈশ্বিক পরিসরে বিত্তবান ও ধনীদের মধ্যে বা ধনী রাষ্ট্র সমূহের ধনী এলিট অভিজাত শ্রেণী সমূহের মাঝে ঐশ্বর্য ও সম্পদের আবর্তন যা পবিত্র কুরআনের দৃষ্টিতে অবৈধ ও হারাম। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হচ্ছে:
আল্লাহ জনপদবাসীদের নিকট থেকে তাঁর রাসূলের জন্য যা দিয়েছেন তা আল্লাহর, তাঁর রাসূলের,রাসূলের অতি নিকটাত্মীয়ের,ইয়াতীমদের,অভাবগ্রস্তদের (মিসক্বীনদের) ও পথচারী(দে)র, যাতে তোমাদের মধ্যে যারা বিত্তবান ও ধনী কেবল তাঁদের মধ্যেই ঐশ্বর্য ও ধনসম্পদ আবর্তন না করে।(সূরা-ই হাশর:৭)
مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَىٰ فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ
আর এটি শুধু একটি মাত্র ক্ষেত্র নয় বরং এ ধরনের বহু অগণিত ক্ষেত্রে বিশাল অংকের অর্থ ও সম্পদ তুলে দিয়েছে ও দিচ্ছে মাযুরা গংদের হাতে কাতার ও কাতারের মতো তেল সমৃদ্ধ ধনী ও তথাকথিত আরব মুসলিম দেশ সমূহ যা আসলে মুসলিম উম্মাহর প্রতি এদের কর্তব্য প্রদর্শনে চরম অবহেলা ও বড় খিয়ানত (বিশ্বাসঘাতকতা) স্বরূপ।
অতএব,হে বিচক্ষণ ও চাক্ষুষমান সুধীবৃন্দ!আপনারাই বিচার করুন(ফা'তাবিরূ ইয়া উলিল্ আবসার্)।
فاعتبروا یا أولي الأبصار
বিঃ: দ্রঃ
মাযুরা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
ইতরাইল: ইসরাইল
ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান