ইকনা, ব্লুমবার্গের বরাতে জানিয়েছে, লিন্ডসি গ্রাহামের কার্যালয় এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায় যে, গত ১১ জুলাই সন্ধ্যায় স্বল্পমেয়াদি ও আকস্মিক অসুস্থতার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল আই-২৪-এর সাংবাদিক আমিচাই স্টেইন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম, যিনি ইসরায়েলের অন্যতম বড় সমর্থক এবং সিনেটে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন ছিলেন, তিনি মারা গেছেন।”
লিন্ডসি গ্রাহাম যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির একজন প্রভাবশালী রাজনীতিক ছিলেন। তিনি ২০০৩ সাল থেকে দক্ষিণ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করে মার্কিন সিনেটে দায়িত্ব পালন করেন। রক্ষণশীল রাজনৈতিক অবস্থান, মার্কিন সামরিক নীতির প্রতি দৃঢ় সমর্থন এবং ইসরায়েলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন।
ওয়াশিংটন-তেলআবিব সম্পর্ক জোরদারের পক্ষে তিনি সবসময় সরব ছিলেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতিরও তিনি অন্যতম সমর্থক ছিলেন। বিশেষ করে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর এবং গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের কর্তৃত্ব স্বীকৃতির মতো পদক্ষেপে তিনি সমর্থন দিয়েছিলেন।
শিক্ষাজীবন শেষ করার পর গ্রাহাম মার্কিন বিমানবাহিনীতে যোগ দেন এবং সামরিক আইনজীবী ও প্রসিকিউটর হিসেবে কাজ করেন। তিনি জার্মানির রাইন-মাইন বিমানঘাঁটিতেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ন্যাশনাল গার্ড ও এয়ার ফোর্স রিজার্ভে দীর্ঘ সময় কর্মরত ছিলেন।
তাঁর সামরিক জীবন তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত ছিল। এ সময় তিনি আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। ২০১৫ সালে ৩৩ বছরের সামরিক সেবা শেষে কর্নেল পদমর্যাদায় অবসর গ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রথমে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার অঙ্গরাজ্য আইনসভায় সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৪ সালে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে এবং ২০০২ সালে মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হন। পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও তিনি নিজের আসন ধরে রাখতে সক্ষম হন।
২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি মার্কিন সিনেটের বিচারবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে তিনি রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিলেও একই বছরের ডিসেম্বরে তাঁর প্রচারণা স্থগিত করেন।
লিন্ডসি গ্রাহাম যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের প্রবল সমর্থক ছিলেন। ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পক্ষেও তিনি বারবার বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি গাজা যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের জন্য আরও বেশি অস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান এবং বাইডেন প্রশাসনের অস্ত্র সরবরাহ সীমিত করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।
ইরান প্রসঙ্গেও তিনি বহুবার কঠোর মন্তব্য করেছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক, সাইবার ও মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণ চালানোর আহ্বান জানান। এমনকি ইরান যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বৃদ্ধি করে, তবে দেশটির তেল স্থাপনা ও শোধনাগারে হামলা চালানোর প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।
এ কারণে তিনি ওয়াশিংটনের সবচেয়ে কট্টর ইরানবিরোধী রাজনীতিকদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 4363562#