ইকনা জানায়, প্যালেস্টাইন আল-আন-এর বরাতে—ইসরাইলি সাবেক বন্দি ‘এমিলি দামারি’র একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, যিনি গাজায় ৪৭১ দিন বন্দিত্বের পর মুক্তি পেয়েছেন। এই ভিডিওটি তার এক বন্ধু ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন এবং তাতে তাকে গাড়ি চালানোর সময় কুরআন ক্রিমের তিলাওয়াত শুনতে দেখা যায়।
সঙ্গীর রেডিও বন্ধ করার অনুরোধ সত্ত্বেও দামারি তিলাওয়াত চালিয়ে যান এবং কুরআনের সুরকে শান্তিদায়ক বলে বর্ণনা করেন। ভিডিওর পটভূমিতে সূরা ইউনুসের ১০৪ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত হচ্ছে: “কুল ইয়া আইয়্যুহান্নাসু ইন কুনতুম ফি শাক্কিম মিন দ্বীনি ফালা আ’বুদুল্লাজিনা তা’বুদুনা মিন দুনিল্লাহি ওয়ালাকিন আ’বুদুল্লাহাল্লাজি ইয়াতাওয়াফফাকুম ওয়া উমিরতু আন আকুনা মিনাল মু’মিনিন...” (বলো: হে মানুষ! যদি তোমরা আমার দ্বীন সম্পর্কে সন্দেহে থাকো, তবে আমি তাদের ইবাদত করি না যাদের তোমরা আল্লাহ ছাড়া ইবাদত করো; বরং আমি সেই আল্লাহর ইবাদত করি যিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটান এবং আমাকে আদেশ করা হয়েছে যে আমি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হই)।
এমিলি দামারি, যিনি গাজা যুদ্ধের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে জানুয়ারি ২০২৫ সালে মুক্তি পান, এর আগেও কাসাম ব্রিগেডের যোদ্ধাদের মানবিক আচরণের কথা বলেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইসরাইলি বোমা হামলায় আহত হওয়ার পরও প্রতিরোধ যোদ্ধারা তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন এবং মুক্তির পর তাঁর শারীরিক অবস্থা অনেক ভালো ছিল।
এই ভিডিওতে শুধু কুরআন তিলাওয়াতের সাথে আনস নয়, দামারি মুক্তির পর নিজের অস্বাভাবিক আচরণের কথাও বলেছেন। তিনি বলেন যে, গাজার সীমান্তের কাছে বারবার যাওয়া এবং সেখান থেকে আসা আওয়াজ শোনা তাঁকে শান্তি দেয়, যা সাধারণ ধারণার বিপরীত।
এই ঘটনা দখলদার ভূখণ্ডের চরমপন্থীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনার ঝড় তুলেছে। তারা এই সাবেক বন্দির বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। এই ঘটনা আবারও বন্দিত্বকালীন অভিজ্ঞতা এবং ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের প্রচারিত বর্ণনার মধ্যে বিস্তর ফারাক তুলে ধরেছে। 4364562#