জর্ডানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইমাদ আল-হাতাবা আলমায়াদিন নিউজে প্রকাশিত ‘ইচ্ছাশক্তির যুদ্ধ’ শীর্ষক নিবন্ধে লিখেছেন:
“যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি শুধু অর্থনৈতিক চাপ ও আলোচনার জন্য নয়, বরং ইরানের ইচ্ছাশক্তি ভেঙে ফেলা এবং ঔপনিবেশিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে ইরান ও প্রতিরোধ অক্ষের সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী পরিবর্তনকে থামিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মোটামুটি একমত যে, যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি যুদ্ধে জড়াতে চায় না। খলিজ অঞ্চলে সাম্প্রতিক উত্তেজনার দুটি লক্ষ্য: ইরানের কাছে সৃষ্ট আমেরিকার পরাজয়ের ছবি থেকে বেরিয়ে আসা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করে ইরানের কাছ থেকে বেশি ছাড় আদায় করা।
তিনি লিখেছেন, আজ যা ঘটছে তা শুধু সেনাবাহিনী ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে যুদ্ধ নয়, বরং ভবিষ্যতের বিশ্বের জন্মের লড়াই। এই সংঘাতের মধ্যে নতুন বিশ্বের ভ্রূণ বিকশিত হচ্ছে — যেখানে শয়তানী শক্তিগুলো আর সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না, বরং জনগণ ও তাদের জীবন্ত শক্তি নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
ইতালীয় মার্কসবাদী দার্শনিক আন্তোনিও গ্রামশির ‘জেলখানার খাতা’ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন: “পুরনো বিশ্ব মরছে, নতুন বিশ্বের জন্ম বিলম্বিত হচ্ছে, আর এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দানবেরা আবির্ভূত হয়।” এই দানবেরা রাষ্ট্রের রূপ ধারণ করেছে, কিন্তু প্রয়োজনে তাদের নৃশংস স্বভাব প্রকাশ করে। তবুও তারা মৃত্যু বা জন্মকে আটকাতে পারবে না। নতুন বিশ্ব অবশ্যম্ভাবীভাবে আসছে।
নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল, তখন উভয় পক্ষই জানত যে আমেরিকা কোনো শর্ত মানবে না। ইরান সময় নিয়ে নিজেকে পুনর্গঠিত করছিল, আর যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো মূল্যে সরাসরি সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছিল।
শেষে তিনি বলেন, ইরানের আজ যা প্রয়োজন তা সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি। আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনেয়ী যেমন শহীদ নেতার জানাজার আগে বলেছিলেন। ইরান ও প্রতিরোধ অক্ষের কাছে ইচ্ছাশক্তি ও ধৈর্য আছে। তাই আরব ও আন্তর্জাতিক মুক্তি আন্দোলনকেও একই ইচ্ছাশক্তি ও অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। 4364591#