ফ্রান্স প্রেস ও অন্যান্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত রোববার (২৮ জুলাই) রাতে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয়। কিন্তু এই ম্যাচ শুধু ফুটবলের লড়াই ছিল না, বরং গাজার যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের বিপরীতমুখী রাজনৈতিক-কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে।
স্পেন ২৮ মে ২০২৪ সালে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এটিকে তারা দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ বলে বর্ণনা করে। ২৯ জুন ২০২৪ সালে স্পেন দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা মামলায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) হস্তক্ষেপের আবেদন করে। এতে তারা গাজায় “গণহত্যার” অভিযোগের প্রতি সমর্থন জানায়।

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেইয়ের নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ করেছে। মিলেই নিজেকে “বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়োনিস্ট প্রেসিডেন্ট” বলে ঘোষণা করেন। ১৯ এপ্রিল ২০২৬ সালে তিনি জেরুজালেমে আর্জেন্টিনার দূতাবাস উদ্বোধন করেন এবং ইসরাইলের সাথে বিমান চলাচল চুক্তিসহ একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।
ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আর্জেন্টিনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেন। তিনি আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতের সাথে সাক্ষাৎ করে বলেন, “খাভিয়ের, তুমি একজন সত্যিকারের বন্ধু। আমরা তোমাদের পাশে আছি — ফাইনালেও।”
মাঠের ফলাফল যাই হোক না কেন, এই ফাইনাল গাজার যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের মেরুকরণকে স্পষ্ট করে তুলেছে। স্পেন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়ে এবং আইসিজিতে অংশ নিয়ে এক অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে আর্জেন্টিনা ইসরাইলের সাথে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে বিপরীত পথে হেঁটেছে। 4365075#