‘ওয়াসাল’ ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে জানা যায়, মানবাধিকার সংগঠন ও গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই বক্তব্যগুলো ২০১৭ সালে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল অভিযানের আগের প্রচারণার সাথে উদ্বেগজনক মিল রাখছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি শুধু শরণার্থীদের জন্য হুমকি নয়, বরং অনলাইন ঘৃণা থেকে শারীরিক হামলায় রূপান্তরিত হওয়ার পথও প্রশস্ত করতে পারে।
দ্য ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়াকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল মনে করতেন। কিন্তু ঈদুল আজহার সময় সিলাইং এলাকায় পশু জবাইয়ের ছবি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের ঝড় ওঠে। এরপর রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বিতাড়নের দাবিতে একটি অনলাইন ক্যাম্পেইন শুরু হয়, যা মুছে ফেলার আগে লাখ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করে।
রোহিঙ্গা অধিকার কর্মী ও রোহিঙ্গা রাইটস রেসপন্স সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাদেক বলেন, এই ক্যাম্পেইনের পর তাঁর নিরাপত্তার অনুভূতি চলে গেছে। এখন তিনি বাইরে বের হতে এবং জনসমক্ষে নিজের ভাষায় কথা বলতে ভয় পান।
ঘৃণামূলক বক্তব্য শুধু সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং রাজনৈতিক নেতা, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু সংবাদপত্র রোহিঙ্গাদের অমানবিক ভাষায় বর্ণনা করেছে।
রোহিঙ্গা রাইটস রেসপন্স সংগঠনের তথ্য অনুসারে, ১০০টির বেশি পোস্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে প্রায় ৩০% পোস্টে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছিল এবং ৩০% এর বেশি পোস্টে সরাসরি ঘৃণা ছড়ানো হয়েছে। অনেক পোস্ট বিশেষ করে শিশু ও নারীদের লক্ষ্য করে ছিল।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো মেটা (ফেসবুক) কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, তারা ঘৃণামূলক কনটেন্ট, বিশেষ করে মালয় ভাষায় প্রকাশিত পোস্টগুলো দ্রুত সরাচ্ছে না। 4364972#