ইকনা জানায়, আল-আইনের বরাত দিয়ে, নাম নিবন্ধন শুরুর প্রথম দুই সপ্তাহেই এই পুরস্কার ১২০টি দেশ থেকে ১২ হাজারেরও বেশি আবেদন পেয়েছে। এটি দুবাই কুরআন প্রতিযোগিতার আগের ২৮টি আসরের মোট অংশগ্রহণের (১০৫টি দেশ থেকে ৫ হাজার ৬১৮টি আবেদন) তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
এই অভূতপূর্ব সাড়া ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর কুরআনি কণ্ঠ নির্বাচন’ শিরোনামের এই পুরস্কারের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ব্যতিক্রমী সাফল্যকে তুলে ধরে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মুহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম এই উদ্যোগ শুরু করেছেন।
এই দৃষ্টিভঙ্গি পুরস্কারের বৈশ্বিক প্রভাব ও প্রতিযোগিতামূলক প্রেরণাকে রূপান্তরিত করেছে এবং পবিত্র কুরআনের সেবায় দুবাইকে একটি বৈশ্বিক ও অগ্রণী কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
দুবাইয়ের ইসলামি বিষয় ও দাতব্য কার্যক্রম বিভাগের মহাপরিচালক এবং দুবাই আন্তর্জাতিক কুরআন পুরস্কারের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমদ দারবিশ আল-মুহাইরি জোর দিয়ে বলেন: বিভিন্ন মহাদেশ থেকে কুরআনি প্রতিভাদের এই প্রতিযোগিতায় ব্যাপক সাড়া দুবাইয়ের সভ্যতাগত ও আধ্যাত্মিক বার্তা বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেয়।
তিনি স্বল্প সময়ে ১২০টি দেশ থেকে ১২ হাজারেরও বেশি আগ্রহী অংশগ্রহণকারীর নাম নিবন্ধনকে এই পুরস্কারের প্রতি বৈশ্বিক আস্থার ভোট বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন: এটি প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিভাগে হালনাগাদ পরিবর্তনের কার্যকারিতা, পুরস্কারের উচ্চ মূল্য এবং সম্পূর্ণ কুরআন হিফজে দক্ষ ও উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কণ্ঠস্বর আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারী গ্রহণ প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতাকে তুলে ধরে।
প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারীরা নাম নিবন্ধনের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন এবং এই প্রতিযোগিতা আরব দেশ, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার আরব ও ইসলামি সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেক আগ্রহীকে আকৃষ্ট করেছে।
কুরআন প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্ববৃহৎ নগদ পুরস্কার এই প্রতিযোগিতায় বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মোট পরিমাণ ১২ মিলিয়ন আমিরাতি দিরহামেরও বেশি।
পুরুষ বিভাগে (১৬ বছর বা তার বেশি) প্রথম স্থানাধিকারী ১ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার পাবেন।
প্রতিযোগিতার আহ্বানে সাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত পুরস্কারের ওয়েবসাইট (www.quran.gov.ae) এর মাধ্যমে নাম নিবন্ধন চলবে।
পুরুষ বিভাগে (১৬ বছর বা তার বেশি) এই প্রতিযোগিতায় দুটি পর্যায় রয়েছে: প্রথম পর্যায়ে পবিত্র কুরআনের যেকোনো অংশের তিলাওয়াতের উচ্চমানের তিন মিনিটের ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ভিত্তিতে সবচেয়ে সুরেলা কণ্ঠ নির্বাচন করা হয়। নির্বাচনের মানদণ্ড কণ্ঠের সৌন্দর্য, উপস্থাপনার মান ও তাজবিদ মেনে চলার ওপর কেন্দ্রীভূত। এই পর্যায় ১৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চলবে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর কুরআনি কণ্ঠ নির্বাচনের জন্য জনসাধারণের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই পর্যায়ে শীর্ষ অংশগ্রহণকারীদের একটি দল রমজান মাসে দুবাইয়ে উপস্থিত হয়ে তারাবির নামাজে ইমামতি করবেন এবং জনগণ তাদেরকে ভোট দেবেন। এই পর্যায় ৮ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর জন্য নির্ধারিত।
১৬ বছরের কম বয়সী ছেলে ও মেয়েদের গ্রুপের জন্য এই প্রতিযোগিতায় তিনটি পর্যায় রয়েছে। প্রথম পর্যায় ১৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চলবে, যেখানে কণ্ঠের সৌন্দর্য, উপস্থাপনার মান ও তাজবিদের নিয়ম মেনে চলার ভিত্তিতে সবচেয়ে সুরেলা কণ্ঠ নির্বাচন করা হয়, যা পবিত্র কুরআনের যেকোনো অংশের তিলাওয়াতের উচ্চমানের তিন মিনিটের ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়।
দ্বিতীয় পর্যায় ১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হবে, যাতে লাইভ ভিডিও বিচার অন্তর্ভুক্ত। তৃতীয় পর্যায়—যা বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর কুরআনি কণ্ঠ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত—৮ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এ অনুষ্ঠিত হবে।
রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহে সমাপনী অনুষ্ঠানে শীর্ষ স্থানাধিকারীদের সম্মাননা জানানো হবে।4367602#