
বার্তা সংস্থা ইকনা : স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবী, একই ধরনের ইউনিফর্ম পরার বিষয়টি মাথায় রেখে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বৈষম্যতাকে দূর করার উদ্দেশ্যে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
উত্তর প্রদেশের শিশু অধিকার বিষয়ক কমিশনের সদস্য ‘নাহিদ লারি’ এ সম্পর্কে জানিয়েছেন : অনেক ছাত্রীরাই চায় শিক্ষা গ্রহণ করার পাশাপাশী ধর্মীয় আকিদাকে মেনে চলতে, কিন্তু তারা স্কুলে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়।
তিনি বলেন : ছাত্রীদেরকে হিজাব পরার অনুমতি না দেয়া, তাদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে গণ্য।
ফারহিন ফাতেমা (৯) লাখনৌ শহরের সেন্ট জোসেফ স্কুলে এসে বুঝতে পারে যে, হিজাব পরে ক্লাসে অংশগ্রহণের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ কারণে সে সমস্ত দিনটি লাইব্রেরীতে বসে কাটাতে বাধ্য হয়, যাতে পরবর্তী দিন অভিভাবককে সঙ্গে নিয়ে আসতে পারে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক এমান্যুয়েল জানিয়েছেন : স্কুলের নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম রয়েছে, স্কুল ড্রেসে কোন প্রকার পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের ধর্মের বিষয়টি কোন গুরুত্ব রাখে না। ফারহিনের পিতামাতা তার ভর্তির সময় এ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল।
কিন্তু ফারহিন ও তার মা জানিয়েছে, ভর্তির সময় তাদেরকে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি এবং তারা ভর্তির সময়ও হিজাব পরেই এসেছিল। এমনকি ভর্তির জন্য ফারহিনের তোলা ছবিটিও হিজাব পরা অবস্থায় তোলা।
ফারহিনের মা ওয়াকার ফাতেমা বলেছেন : তাদের উচিত ছিল এ বিষয়টি সম্পর্কে আমাদেরকে আগেই জানানো। ফারহিনকে অন্য স্কুলে ভর্তি করানোর চিন্তা করছেন তার পিতামাতা।
এদিকে উত্তর প্রদেশের শিশু অধিকার বিষয়ক কমিশন, ঐ স্কুলের এ পদক্ষেপের তদন্তের দাবী জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে তদন্তও শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, মুসলিম ছাত্রীদেরকে স্কুলে নিষিদ্ধ করার ঘটনা ভারতে এটাই প্রথম নয়। এরপূর্বে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
ভারতে বিপুল সংখ্যক মুসলমান বসবাস করলেও দেশটিতে মুসলমানরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিসেবে বৈষম্যসহ নানান সমস্যায় জর্জরিত।# 3304268
সূত্র : On Islam