ইকনা’র বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের অস্বাভাবিক ও অসংলগ্ন মন্তব্য এবং ভারসাম্যহীন আচরণ—বিশেষ করে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে—এমন প্রশ্ন তুলেছে যে, তিনি ক্রমশ মানসিকভাবে অস্থিতিশীল হয়ে উঠছেন কি না। এমনকি তার কিছু সাবেক সহযোগী ও মিত্ররাও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং কেউ কেউ তাকে “উন্মাদ” বলেও অভিহিত করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্পের দোদুল্যমান আচরণ এবং অতিরঞ্জিত বক্তব্য, যেমন—ইরানের সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি কিংবা পোপের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ, এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। এসব মন্তব্য ও আচরণ অনেকের কাছে তাকে ক্ষমতালোভী ও অস্থির একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরছে।
যদিও হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, ট্রাম্প অত্যন্ত তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন এবং তিনি তার প্রতিপক্ষকে সবসময় চাপে রাখেন। তবে তার হঠাৎ উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া ও বক্তব্য যুদ্ধকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রে এমন প্রেসিডেন্ট ছিলেন যাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল—যেমন ৮০ বছর বয়সী জো বাইডেনের আচরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এ ধরনের বিতর্ক এতটা প্রকাশ্য ও গভীর প্রভাব বিস্তারকারী আগে দেখা যায়নি।
ডেমোক্র্যাটরা দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং নতুন করে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। তবে এই উদ্বেগ শুধু বামপন্থী বা সমালোচকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল, কূটনীতিক, এমনকি বিদেশি কর্মকর্তাদের মধ্যেও এ নিয়ে আলোচনা চলছে। এমনকি ডানপন্থী শিবিরে, ট্রাম্পের সাবেক মিত্রদের মধ্যেও একই ধরনের মতামত শোনা যাচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে, জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান নেতা ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেইলর গ্রিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়ে বলেন, “ইরানের সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি কোনো কঠোর বক্তব্য নয়, এটি উন্মাদনা।”
এছাড়া ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী টাই কব মন্তব্য করেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এমন একজন ব্যক্তি, যিনি স্পষ্টতই অস্থির, এবং সামাজিক মাধ্যমে তার সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক পোস্টগুলো তার এই অবস্থাকে আরও স্পষ্ট করে।”
এদিকে, জনমত জরিপেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। রয়টার্স ও ইপসোসের ফেব্রুয়ারি মাসের এক জরিপে দেখা যায়, ৬১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প আরও বেশি অস্থির হয়ে উঠছেন।
4346473