
প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, “ভাইরাল জয়ের গল্প: সামাজিক মাধ্যমের যুদ্ধে ইরান প্রযুক্তি জায়ান্টদের দেশকে হারাচ্ছে”—শিরোনামের এই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি ইরান জনপ্রিয় মিম তৈরির গতিতে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারত, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ইতোমধ্যেই আত্মসমর্পণ করত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রক্ষণশীল শাসনব্যবস্থা এবং পশ্চিমা সংস্কৃতি ও মিডিয়ার প্রতি বিরূপ মনোভাব থাকা সত্ত্বেও, ইরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুদ্ধে প্রাধান্য বিস্তার করছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি-সচেতন তরুণরা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের সমালোচনা করে পশ্চিমা দর্শকদের আকৃষ্ট করছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Richard Nixon-এর মতো রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়া নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি বারবার বিতর্কিত মন্তব্য করছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে নিজের একটি পোস্ট মুছে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রতিবেদন আরও জানায়, ইরানের সামাজিক মাধ্যম কার্যক্রম—যার মধ্যে বিভিন্ন দূতাবাসের পোস্ট এবং সংসদের স্পিকার মোহাম্মাদ বাকির কলিবফের টুইট অন্তর্ভুক্ত—অনেককেই বিস্মিত করেছে।
এতে বলা হয়, ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ইরানপন্থী ব্যবহারকারীরা সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি করছে, যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অ্যানিমেশন বানানো এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করা।
এছাড়া নার্গেস বাজঘোলি, জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক এক আলোচনায় বলেন—যুদ্ধ এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমানভাবে পরিচালিত হয়। তার মতে, এই ক্ষেত্রে ইরান দ্রুততা ও কৌশলের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে এবং বৈশ্বিক সামাজিক মাধ্যমের পরিসরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।