IQNA

ইকনার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে

ইরান ও প্রতিরোধের পক্ষে শিল্পকর্ম নির্মাণের ঘোষণা দিলেন মিসরীয় মুবতাহিল

11:03 - April 26, 2026
সংবাদ: 3479086
ইকনা- মিসরের রেডিও ও টেলিভিশনের খ্যাতিমান মুবতাহিল (নাশিদশিল্পী) এবং আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার বিচারক মোহাম্মদ আলী জাবিন ঘোষণা দিয়েছেন যে, কুয়েতের এক ‘বিচ্যুত’ কারির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আক্রমণের জবাবে তিনি কোরআনিক বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে একটি শিল্পকর্ম প্রকাশ করবেন। তার ভাষায়, এটি হবে “ইসলামী প্রতিরোধ ও ইরানের জনগণের পক্ষে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিরক্ষা”।

ইকনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে “প্রতিরোধ ফ্রন্টের সাংস্কৃতিক প্রতিরক্ষায় শিল্পের ভূমিকা” বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ আলী জাবিন বলেন, প্রতিরোধের অক্ষ কেবল রাজনৈতিক বা সামরিক অঙ্গনে সক্রিয় নয়; বরং কোরআনিক শিল্প ও অনুপ্রেরণাদায়ী তেলাওয়াতের মাধ্যমেও সত্যের পক্ষে অবস্থান করছে।

তিনি তেলাওয়াত ও ইবতিহালকে একটি আধ্যাত্মিক অস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “কোরআন ঈমানের সঙ্গে তেলাওয়াত করতে হবে, পারিশ্রমিকের জন্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, ইসলামের শত্রুরা—কাফের, জায়নবাদী এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মুশরিক শক্তিগুলো—নিয়মিতভাবে ইরানের ইসলামী প্রতিরোধ এবং ইরান, লেবানন ও ইয়েমেনে অন্যায় ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

মোহাম্মদ আলী জাবিন কুয়েতি কারি মিশারি আল-আফাসির ইরানবিরোধী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “বিশ্বে ইরানের মতো আর কোনো দেশ নেই, যারা অন্যায় ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এই দেশ তার নেতৃত্ব, মুজাহিদ ও দৃঢ়তার মাধ্যমে কিয়ামত পর্যন্ত অটল থাকবে।”

তিনি বলেন, ওই কারির কর্মকাণ্ড সেই বিখ্যাত বাণীর অন্তর্ভুক্ত—“অনেক কোরআন তেলাওয়াতকারী রয়েছে, যাদেরকে কোরআনই অভিশাপ দেয়।” তিনি এ কর্মকাণ্ড থেকে আল্লাহর দরবারে দায়মুক্তি প্রকাশ করেন এবং বলেন, এটি ওই কারির অন্তরে সচেতনতা, ঈমান ও দ্বীনের ঘাটতির প্রমাণ।

মিসরের এই ইবতিহাল শিল্পী বলেন, এ ধরনের বক্তব্য মুসলিম জনমতকে বিভ্রান্ত করে এবং তাদেরকে অন্যায়, আগ্রাসন ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই কোরআনিক অঙ্গনের কর্মী, কারি ও হাফেজদের দায়িত্ব হলো এ ধরনের বিচ্যুতির বিরুদ্ধে সঠিক অবস্থান নেওয়া।

তিনি বলেন, “মিসরে আমরা এই কারি বা তার চিন্তাধারার সঙ্গে কোনোভাবেই একমত নই।”

তিনি আরও দাবি করেন, “শহীদ নেতা হযরত ইমাম খামেনেয়ী (কুদ্দিসা সিররুহু) সবসময় মিসর ও এর জনগণকে আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসার জন্য প্রশংসা করতেন। মিসরের জনগণ সবসময় অন্যায় ও আগ্রাসনের বিরোধিতা করেছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে মিসরীয়রা ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে।”

সাক্ষাৎকারের শেষে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার এই বিচারক জানান, তিনি খুব শিগগিরই মিশারি রাশেদ আল-আফাসির বক্তব্যের জবাবে একটি নতুন সঙ্গীতধর্মী রচনা প্রকাশ করবেন।

তিনি বলেন, “আমি খুব শিগগিরই এই ভ্রান্ত মতাদর্শ ও সংগ্রামী ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত আক্রমণের জবাবে একটি শিল্পকর্ম উপহার দেব, ইনশাআল্লাহ।”

4348425

captcha