
ইরাকি সুন্নি আলেম শেখ আহমদ আল কুবাইসি এই মন্তব্য করেছেন।
আইআআরআইবি'র উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা ইকনা : শেখ আহমদ আল কুবাইসি টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আইএসআইএল-এর মাধ্যমে ইরাকের মসুলে ধর্মীয় নানা প্রতিষ্ঠান ও জিয়ারতকেন্দ্র ধ্বংস করার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে আরো বলেছেন, কথিত বাগদাদি ইয়াজিদের চেয়েও নিকৃষ্ট, সে স্রেফ ইহুদিদের অনুচর ... আল্লাহর কসম আইএসআইএল ও এই জাতীয় গ্রুপগুলো এবং ওয়াহাবি ফের্কার প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহাব—এরা সবাই ইহুদিদের ১০০ শতাংশ সেবাদাস।
একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে আমার এই বক্তব্যের দায়ভার নিচ্ছি যে, আল্লাহর কসম ইহুদি আন্দোলন মুসলমানদের ওপর আঘাত হানার জন্য ময়দানে নেমেছে এবং এক্ষেত্রে সফলও হয়েছে।
সৌদি আরবের দরবারি মোল্লারা কুবাইসি'র এইসব বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
দুই বছর আগে আল কুবাইসি বলেছিলেন, মুসলমানদের বর্তমান সব সমস্যার জন্য আবু সুফিয়ানই দায়ী। আমিরুল মু'মিনিন আলী (আ.)'র যুগে তাঁর মহান শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী ও মুসলিম বিশ্বে রাজতন্ত্রের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানেরও নিন্দা করেছেন এই আলেম। আবু সুফিয়ান ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের আগ পর্যন্ত প্রকাশ্যে ইসলামের অন্যতম প্রধান শত্রু ও মুশরিকদের নেতা ছিল। তার স্ত্রী হিন্দা (মুয়াবিয়ার মাতা) অহুদ যুদ্ধে বিশ্বনবী (সা.)'র চাচাকে শহীদ করে ও তাঁর কলিজা চিবিয়ে খায়। সম্প্রতি সিরিয়ায় সক্রিয় ওয়াহাবি সন্ত্রাসীদের একজন নিহত এক সরকারি সেনার কলিজা চিবিয়ে খেয়েছে।
অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করেন উমাইয়া নেতা আবু সুফিয়ান বনি হাশিমের তথা বিশ্বনবী (সা.)'র বংশের সঙ্গে বংশগত পুরণো শত্রুতার কারণসহ নানা কারণে ইসলামের বিরোধিতা করতো এবং সে আর তার গোত্রের লোকেরা মক্কা বিজয়ের পর ও পরবর্তীকালে সামরিক দুর্বলতাসহ নানা কারণে প্রকাশ্য শত্রুতা বাদ দিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে গোপন শত্রুতা বজায় রেখেছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার ফাঁস করা গোপন দলিল-প্রমাণে দেখা গেছে কথিত আবুবকর বাগদাদি ইহুদি দম্পতির সন্তান এবং ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তাকে এক বছর ধরে ধর্মীয় ও সামরিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। #