
ইকনা প্রতিবেদন অনুসারে, আল-মাসিরা নিউজের বরাতে জানা গেছে—ইয়েমেনের উত্তর ও দক্ষিণের একীভূতকরণের বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে সাইয়্যেদ আব্দুল মালেক আল-হুসি বলেন, ইয়েমেনের ঐক্য একটি মহান জাতীয় অধিকার ও অর্জন, যা সবসময় সম্মান, যত্ন ও সংরক্ষণের দাবি রাখে।
তিনি আরও বলেন, ঐক্যের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করেছে যে, এই অধিকারের সবচেয়ে বড় হুমকি হলো লোভ, ব্যক্তিগত, দলীয় ও সম্প্রদায়গত হিসাব-নিকাশ এবং বহিরাগতদের ওপর নির্ভরশীলতা।
ইয়েমেনি জনগণের ঈমানী পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শত্রুরা জনগণের মধ্যে বিভেদের বীজ বপন করতে পারবে না। যদি দেশের সকল শক্তি ও অংশ সততা ও সচেতনতার সঙ্গে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরত, তাহলে প্রতিযোগিতা কখনো সংঘাত ও সংকটে রূপ নিত না।
আল-হুসি বলেন, ইয়েমেনি জনগণ কখনোই মেনে নেবে না যে তারা আমেরিকা, ব্রিটেন, ইসরাইল ও সৌদি আরবের সমন্বয়ে গঠিত চার পক্ষের কমিটির তত্ত্বাবধানে থাকবে। বহিরাগত অভিভাবকত্ব ইয়েমেনের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি।
আনসারুল্লাহ নেতা বলেন, শত্রুরা জনগণকে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চায় এবং দেশটিকে দখল করতে চায়। তারা সম্প্রদায়গত বিভেদ, দাওয়েশীকরণসহ সব ধরনের বিভেদমূলক শব্দ ব্যবহার করছে। তারা তাকফিরি গোষ্ঠীদের মাধ্যমে ইয়েমেনি জনগণকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছে যাতে দেশের সন্তানদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ছড়ানো যায়। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় শত্রুদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে।
তিনি অর্থনৈতিক অবরোধকে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট যখন দেশের অভ্যন্তরীণ বড় অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হন, তখন আরব দেশগুলো, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ছুটে যান ট্রিলিয়ন ডলার আদায় করতে। আরব ও ইসলামি বিশ্বের বেশিরভাগ অর্থ আমেরিকায় চলে যায়, যার পরিমাণ ১৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
আল-হুসি স্বাভাবিকীকরণকে একটি ছাতা হিসেবে বর্ণনা করেন, যার মাধ্যমে শত্রু এই উম্মাহর স্বার্থ ও কল্যাণকে সম্পূর্ণভাবে ইহুদি সত্তার সঙ্গে যুক্ত করতে চায়।
তিনি ইয়েমেনের বিপুল ও অব্যবহৃত সম্পদের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমেরিকা এই সম্পদের দিকে লোভী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। সৌদি শাসকরা আল-জাওফ প্রদেশে তেল উত্তোলন বন্ধ করে রেখেছে, কারণ তারা চায় না ইয়েমেনি জনগণ সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করুক।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব মারিব ও আল-মাহরা প্রদেশের তেলক্ষেত্র থেকেও উত্তোলন বন্ধ রেখেছে এবং বিদেশি কোম্পানিগুলোকে আল-মাহরা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করেছে।
আল-হুসি বলেন, সৌদিরা আমেরিকা ও ব্রিটেনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে, নিজস্ব কোনো কর্মসূচি তাদের নেই। এই দেশটি বর্তমান শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রথমে পুরোপুরি ব্রিটেন এবং পরে আমেরিকা ও ব্রিটেনের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি অর্থনৈতিক অবরোধের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি শত্রুদের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তির অন্যতম উপায়। খাদ্য, ওষুধ, পোশাক ও জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য শত্রুদের ওপর নির্ভরশীল হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অমুসলিম দেশগুলো খাদ্য নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
তিনি বলেন, যখন জাতিরা অন্যদের ওপর নির্ভরশীল থাকে, তখন তারা চাপের মুখে পড়ে এবং তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো শত্রুদের হাতে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ারে পরিণত হয়। ইয়েমেনের অতীতের সব অর্থনৈতিক নীতি জনগণকে সব প্রয়োজনীয় বিষয়ে বাইরের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে। 4353695#