IQNA

সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর নবুওয়ত প্রাপ্তী

11:05 - July 29, 2008
সংবাদ: 1672855
ইসলামের প্রকৃত ইতিহাসের শুভ সূচনা ঐ দিন থেকে হয়েছিল যে দিন মহানবী (সা:) রিসালাত ও নবুওয়্যতের দায়িত্ব লাভ করেন । এরফলে অনেক স্মরণীয় ঘটনার উদ্ভব হয় । যেদিন মহানবী মানব জাতির হেদায়তের দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেন এবং ওহীর ফেরেশতার মাধ্যমে “ ইন্নাকালে রাসূলুল্লাহ ” ‘নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল’ এ আহবানধ্বনি শুনতে পেলেন সেদিন তিনি এক গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করলেন ঐ দিন কুরাইশদের কাছে ‘আল আমীন’ (বিশ্বস-) উপাধিতে ভূষিত হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর নীতি এবং তাঁর মিশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অধিকতর স্পষ্ট হয়ে গেল।
অনাচার, অবিচার আর ব্যভিচারে পৃথিবীটা যখন জর্জরিত হয়ে পড়েছিলো ৷ আরবের অবস্থা ছিলো তখন সবচেয়ে শোচনীয় ৷ এমন কোন পাপ নেই, যা আরব সমাজে ছিলো না ৷ মদ-জুয়া-ব্যভিচার থেকে শুরু করে চুরি-ডাকাতি আর মারামারির ঘটনা ছিলো আরব সমাজের নিত্যদিনের ব্যাপার ৷ নারীজাতির অবস্থা ছিলো তখন অবর্ণনীয় ৷ নারীর সাথে তখন গৃহপালিত পশুর মতো আচরণ করা হতো ৷ কণ্যা সন্তান জন্ম নিলেই তাকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো ৷ এমনি বিচিত্র ধরনের অরাজকতায় ভরে গিয়েছিল আরব সমাজ ৷ চারদিকে নির্যাতিত-নিপীড়িত জনগণ তখন আর্তনাদ করছিল একজন ত্রানকর্তার আবির্ভাব প্রত্যাশাq ৷ আল্লাহ তখন মজলুমের ডাকে সাড়া দিয়ে ত্রানকর্তার হিসেবে যাঁকে পাঠালেন, তিনি আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ৷ তিনি তৎকালীন জাহেলী যুগের অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত সত্য উৎঘাটন করতে হিরা পর্বতের একটি গুহায় প্রায়ই গভীর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন ।
দীর্ঘদিন তাঁর জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট ও সবচেয়ে উপভোগ্য মুহুর্তগুলো কাটতো এই হিরা গুহায় একাকী নির্জনবাস ও ইবাদত-বন্দেগীর মধ্যদিয়ে । অবশেষে এক বিশেষ দিবসে ফেরেশতা একটি ফলকসহ অবতীর্ণ হয়ে ঐ ফলকটি তাঁর সামনে তুলে ধরে বললেন, “ পড়-ন । ” যেহেতু তিনি উম্মী ( নিরক্ষর) অর্থাৎ লেখাপড়া জানতেন না এবং কখনই কোন বই পাঠ করেন নি সেহেতু তিনি বলেছিলেন, “ আমি তো পড়তে পারি না।” ওহী বহনকারী ফেরেশতা তাঁকে জড়িয়ে ধরে খুব শক্তভাবে চাপ দিলেন । এরপর তাঁকে পুনরায় পড়তে বললেন তিনি ঐ একই উত্তর দিয়েছিলেন। ঐ ফেরেশতা পুনরায় তাকে জড়িয়ে ধরে খুব শক্তভাবে চাপ দেন । এভাবে তিন বার চাপ দেয়ার পর মহানবী (সা:) নিজের মধ্যে অনুভব করলেন যে, ফেরেশতার হাতে যে ফলকটি আছে তা তিনি পড়তে পারছেন । এসময় তিনি ঐ আয়াতসমূহ পাঠ করলেন যা ছিল বাস-বে মানব জাতির সৌভাগ্যদানকারী গ্রনে'র অবতরণিকাস্বরুপ । আর ঐ আয়াতটি হলা ঃ
“ ইকরা বিসমে রাব্বি কাল্লাযি খালাক, খালাকাল ইনসানা মিন আলাক, ইকরা ও রাব্বুকাল আকরাম, আল্লাযী আল্লামা বেল কালাম, আল্লামাল ইনসানা মা লাম ইয়া লাম । ”
অর্থাৎ “ পড়-ন আপনার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন । সৃষ্টি করেছেন মানুষকে এক বিন্দু জমাট রক্ত থেকে । পড়-ন আর আপনার প্রভু মহান ( অত্যন- সম্মানিত ) যিনি কলম দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন । মানুষ যা জনত না তা তিনি তাকে শিক্ষা দিয়েছেন ”
( সূরা আলাক: ১-৫) জিবরাইল ( আ:) স্বীয় দায়িত্ব পালন করলেন । আর এই ওহী অবতীর্ণ হবার মধ্যদিয়েই মহানবী (সা:) এর নবুওয়্যতের অভিষেক হয় । #
captcha