সংবাদ মাধ্যম ’আল জাজিরা নেট‘ এর বরাত দিয়ে ইরানের কুরআন বিষয়ক বার্তাসংস্থা ইকনা জানিয়েছে, মার্কিন ম্যাগাজিন নিউজ উইকের সাংবাদিক রিচার্ড ভল্ফ বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামা আগামী ৪ জুন মিশরের রাজধানী কায়রোয় অনুষ্ঠেয় ইসলামী দেশগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তা ও ইসলামী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠকে অংশ নিয়ে মুসলিম বিশ্বের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মিঃ ওবামা মার্কিন ম্যাগাজিন নিউজ উইককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তার এই আগ্রহের কথা ব্যাক্ত করেন। এই সাক্ষাৎকারে মি: ওবামা বলেন, ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রতি তার যে বিশেষ শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে এবং তিনি যে ইসলামের মূল ভিত্তি ও এর শিক্ষাকে বুঝতে পেরেছেন তা এই বৈঠকের মাধ্যমে মুসলিম জাতিকে জানাতে চান । মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির সাথে মুসলমনাদের সংলাপ প্রক্রিয়াকে সহিংসতার অবসান ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেও বর্ণনা করেন। রিচার্ড ভল্ফ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট কায়রোয় ইসলামী দেশগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকে যোগদানের উদ্দেশ্যে মিশর সফরকালে তিনি দেশটির বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়েও ভাষণ দিবেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামা এমন সময় মিশরে ইসলামী দেশগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের বৈঠকে অংশগ্রহণের ব্যাপারে আগ্রহণ প্রকাশ করলেন যখন বৃটিশ দৈনিক টাইমস গত ১২ মে মিঃ ওবামার সম্ভাব্য মিশর সফর সম্পর্কে এক রিপোর্টে লিখেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আসন্ন কায়রো সম্মেলনে মুসলিম জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে ইসরাইলকে একটি পৃথক ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিতে ইসলামী দেশগুলোকে রাজি করানোর চেষ্টা করবে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন মনে করে ইসলামী দেশগুলো ইসরাইলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিলেই কেবল মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব । উল্লেখ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন সময় মিশরে ইসলামী দেশগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন যখন মিঃ ওবামা ইসলামী বিশ্বের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে হোয়াইট হাউজের নীতিতে পরিবর্তন আনার যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ক্ষমতা গ্রহণের পর এপর্যন্ত তিনি তার একটিও পূরণ করেন নি বরং তিনি ইসলামী দেশুগুলোর সাথে সম্পর্কের ব্যাপারে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশের নীতিকেই অনুসরণ করে চলেছেন। # 409425