পবিত্র কুরআন সর্বপ্রথম ফারসী ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। এটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য যে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)এর জীবদ্দশায় সর্বপ্রথম ফারসী ভাষায় পবিত্র কুরআনের অনুবাদ হয় এবং এটা ইতিহাসে হাজার হাজার বার উল্লেখ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত যে ১০৬টি ভাষায় কুরআন শরীফ অনুদিত হয়েছে তার মধ্যে একমাত্র ফারসী ভাষাভাষীদের জন্যই এই বিরল সম্মান।
দীর্ঘ দিনের পরিক্রমায় কুরআন শরীফ অনুবাদের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এসেছে। কুরআন অনুবাদের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে ইরানীদের ভাষা বলা এবং লেখার ধরণ ছিল স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের। সময়ের পরিবর্তনে ইরানীরা অনুবাদের ক্ষেত্রে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং কুরআনের পরিভাষা ও অর্থের ক্ষেত্রে প্রায় কাছাকাছি চলে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের পর ইরানের কুরআন গবেষক ও সাহিত্যিকরা এ পর্যন্ত ৩০টি অনুবাদ গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। এ সব মূল্যবান সংগ্রহ অন্য গবেষকদের কুরআন অধ্যয়নের জন্য বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এ জন্য বিপ্লব পরবর্তী সময়কে “কুরআন অনুবাদের শ্রেষ্ঠ সময়” বলা হয়।
বিপ্লব পরবর্তী সময়ে কুরআন অনুবাদের কাজ আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত হয়েছে। আগে প্রধানত কুরআনের আক্ষরিক অনুবাদ হতো যা পাঠকদের বোঝার জন্য কঠিন ছিল। কিন্ত গত ৩০ বছর ধরে কুরআন অনুবাদের ক্ষেত্রে ভাবানুবাদ ও ব্যাখ্যামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, বিপ্লব পরবর্তীকালে কুরআন শরীফের যে ৩০টি অনুবাদ বের হয়েছে তার সবই যে মানের দিক দিয়ে খুবই উন্নত তা কিন্ত নয়। এমনকি এর কোন কোনটা বেশ অনুন্নত। তবে, এ কথা ঠিক যে, এ সব গ্রন্থে নতুন নতুন সৃষ্টিশীল ধারণা ও পদ্ধতি রয়েছে।
বিশিষ্ট কুরআন অনুবাদক মোহাম্মদ খামেগারের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কুরআন অনুবাদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ফলে বাজারে নানা রকমের অনুবাদ গ্রন্থ' এসেছে। তিনি বলেন, “তবে, এখন সময় এসেছে কুরআন সম্পর্কে আরো গবেষণা করার এবং আমি আশা করি, শিগগিরি আমরা কুরআন অনুবাদের জন্য একটা পদ্ধতি পাব।”
কোম বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড মেম্বার মোহাম্মদ জাভাদ নাজাফি বিশ্বাস করেন, ইসলামী বিপ্লবের পর কুরআন অনুবাদের প্রবণতা বাড়লেও এখনো অনেক কিছু করার আছে। মাশহাদের ফেরদৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাফর ইয়াহাকিও একই মত পোষণ করেন। তিনি বলেন, কুরআনের অনুবাদ উন্নত হলে মানুষ কুরআনকে আরো প্রগাঢ়ভাবে বুঝতে পারবে। # 436255